০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নৌকার সমর্থনে সরে দাঁড়ালেন ৩ বারের এমপি রণজিত 

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী রণজিত কুমার রায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সহকারী তপন বিশ্বাস এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্ট্যাটাসে নৌকার প্রার্থী এনামুল হক বাবুলকে সমর্থন জানানোর কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। জানা গেছে,  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রণজিৎ কুমার রায়ের প্রতীক ছিলো ঈগল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রণজিত কুমার রায় প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচার-প্রচারণা না চালিয়ে তিনি নৌকার মাঝি এনামুল হক বাবুলের প্রার্থীতা বাতিলের জন্য ব্যস্ত ছিলেন। সূত্রটি আরও জানায়,নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার পর এনামুল হক বাবুলের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং অফিসার ও যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার।

সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে আপিল করেছিলেন একই আসনের বিএনএম প্রার্থী সুকৃতি কুমার মণ্ডল। এছাড়াও এনামুল হক বাবুলের মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিরুদ্ধে একই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রণজিত কুমার রায় আপিল করেছিলেন।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) শুনানি শেষে এনামুল হক বাবুলের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। সিদ্ধান্তের বৈধতা ও প্রার্থিতা ফিরে পেতে রোববার (১৭ ডিসেম্বর) হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) তার রিট খারিজ করার আদেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেন। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) চেম্বার আদালত তার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেন। পরে নির্বাচন কমিশন (ইসি)ওই আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। নির্বাচন কমিশনের আবেদনে সাড়া না দিয়ে তার প্রার্থিতা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনামুল হক বাবুলের আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক।

সূত্র জানায়, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের আবেদনে হেরে গিয়ে রণজিত কুমার রায় হতাশ হয়েছেন। নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখতে শেষ সময়ে তিনি নৌকার সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার কর্মী-সমর্থকদের নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য বলেছেন। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রণজিত কুমার রায় ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে রণজিত কুমার রায় পেয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৯৫৮ ভোট। সেবারের নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৫২০ ভোট। এরপর২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রণজিত কুমার রায়। এ নির্বাচনে তিনি ভোট পেয়েছিলেন ৭৬ হাজার ৯৪২টি। সেই নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাব। আব্দুল ওহাব কলস প্রতীক নিয়ে পেয়েছিলেন ৩৬ হাজার ২৮০ ভোট। সর্বশেষ গত ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নৌকার প্রার্থী হয়ে রণজিত কুমার রায়  ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৮১ ভোট পেয়ে তৃতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী টিএস আইয়ুব মাত্র ২৫ হাজার ৯১৯ ভোট পেয়েছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে রণজিত কুমার রায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নৌকার সমর্থনে সরে দাঁড়ালেন ৩ বারের এমপি রণজিত 

আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৪

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী রণজিত কুমার রায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সহকারী তপন বিশ্বাস এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্ট্যাটাসে নৌকার প্রার্থী এনামুল হক বাবুলকে সমর্থন জানানোর কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। জানা গেছে,  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রণজিৎ কুমার রায়ের প্রতীক ছিলো ঈগল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রণজিত কুমার রায় প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচার-প্রচারণা না চালিয়ে তিনি নৌকার মাঝি এনামুল হক বাবুলের প্রার্থীতা বাতিলের জন্য ব্যস্ত ছিলেন। সূত্রটি আরও জানায়,নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার পর এনামুল হক বাবুলের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং অফিসার ও যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার।

সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে আপিল করেছিলেন একই আসনের বিএনএম প্রার্থী সুকৃতি কুমার মণ্ডল। এছাড়াও এনামুল হক বাবুলের মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিরুদ্ধে একই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রণজিত কুমার রায় আপিল করেছিলেন।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) শুনানি শেষে এনামুল হক বাবুলের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। সিদ্ধান্তের বৈধতা ও প্রার্থিতা ফিরে পেতে রোববার (১৭ ডিসেম্বর) হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) তার রিট খারিজ করার আদেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেন। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) চেম্বার আদালত তার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেন। পরে নির্বাচন কমিশন (ইসি)ওই আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। নির্বাচন কমিশনের আবেদনে সাড়া না দিয়ে তার প্রার্থিতা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনামুল হক বাবুলের আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক।

সূত্র জানায়, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের আবেদনে হেরে গিয়ে রণজিত কুমার রায় হতাশ হয়েছেন। নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখতে শেষ সময়ে তিনি নৌকার সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার কর্মী-সমর্থকদের নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য বলেছেন। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রণজিত কুমার রায় ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে রণজিত কুমার রায় পেয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৯৫৮ ভোট। সেবারের নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৫২০ ভোট। এরপর২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রণজিত কুমার রায়। এ নির্বাচনে তিনি ভোট পেয়েছিলেন ৭৬ হাজার ৯৪২টি। সেই নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাব। আব্দুল ওহাব কলস প্রতীক নিয়ে পেয়েছিলেন ৩৬ হাজার ২৮০ ভোট। সর্বশেষ গত ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নৌকার প্রার্থী হয়ে রণজিত কুমার রায়  ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৮১ ভোট পেয়ে তৃতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী টিএস আইয়ুব মাত্র ২৫ হাজার ৯১৯ ভোট পেয়েছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে রণজিত কুমার রায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন।