১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের আহবান চরমোনাই পীরের

আসন্ন ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের জন্য দেশবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচন আমার আপনার ভোট জালিয়াতি এই নির্মতাসীনদের সীমাহীন লুটতরাজ, জুলুম, খুন, গুম ও অনিয়ম জারি রাখার নির্বাচন। এই নির্বাচন দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা, ব্যাংকগুলো শূন্য করা, চুরি করে কোটিপতি হওয়ার অবৈধ পদ্ধতিকে অব্যাহত রাখারার স্বাদ বিদেশে পাচগুলো ক্ষমতাসীনদের পারস্পরিক ক্ষমতা ভাগাভাগির নির্লজ্জ খেলা। ফলে এই নির্বাচনে ভোট দেয়ার মানে এই নির্বাচমতাসীনদের সকল অন্যায়, জুলুম ও দুর্নীতিকে বৈধতা দেয়া। যা কোনভাবেই জায়েজ নয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরানাপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, সরকারের আজ্ঞাবহ দলদাস নির্বাচন কমিশন আগামী ৭ জানুয়ারি প্রহসনমূলক একতরফা নির্বাচনের যে ঘোষণা দিয়েছে, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নির্লজ্জ ও শঠতাপূর্ণ নির্বাচন কেউ কখনো দেখেছে বলে মনে হয় না। ক্ষমতাসীন সরকার ২০১৪ সালে করলো একতরফা প্রহসনের নির্বাচন, ১৮ সালে করলো রাতের ভোট আর ২৪ সালে এসে করছে ডামি নির্বাচন। নিজ দলের একাধিক প্রার্থী বিভিন্ন নামে দাড় করানো, জেল থেকে মুক্তি দেয়ার লোভ দেখিয়ে বিরোধী নেতাদের নির্বাচনে দাড় করানো, কিংস পার্টি গড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর অপচেষ্টা করার মতো এই সরকার যা করছে, তাতে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম নির্বাচনের উদাহারণ হয়ে থাকবে এই নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে কতবড় নোংরামী হয়েছে তার উদাহারণ হয়ে থাকবে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য। তিনি প্রকাশ্যেই বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নেয়ার শর্তে কারাগারে থাকা সকল বিরোধী নেতাকে মুক্তির প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো। তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, কারাগারে থাকা না থাকার মতো যে বিষয় আদালতের ওপরে নির্ভরশীল তাও এখন এই সরকার কুক্ষিগত করে নিয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, যাদের মধ্যে দেশপ্রেম আছে, যারা দুর্নীতি, জুলুম-লুটতরাজকে ঘৃণা করেন, যারা মানুষের অধিকারকে সম্মান করেন তারা মঞ্চে ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। যারা আল্লাহকে ভয় করেন, যারা মাজলুমের বদদোয়াকে ভয় করেন, তারা কো কোট দেবেন না। যারা ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করেন, যারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের সম্মান করানে তারা কেউ ৭ জানুয়ারি ভোট কেন্দ্রে যাবেন না।
তিনি বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলবো, আপনারা কেউ এই দেশ বিরোধী অবৈধ নির্বাচনে জালিমদের সহযোগিতা করবেন। এই নির্বাচনে যারা সহযোগিতা করবে, জনগণ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবে না।

তিনি নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আপনারা যদি নিজেদের ভালো চান এবং দেশের মঙ্গল চান তাহলে এখনো সময় আছে, নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে পদত্যাগ করে চলে যান। জনগণ আপনাদের নাটক আর দেখতে চায় না।
চরমোনাই পীর বলেন, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে সর্বশেষ আবারো অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনি সংবিধান অনুযায়ী অবিলম্বে বিদ্যমান কলঙ্কিত জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিন।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- ৭ জানুয়ারি একতরফা প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ করতে হবে, বিদ্যমান জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে, নিবন্ধিত এবং আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে, জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন ভেঙ্গে দিতে হবে এবং জাতীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পূণঃতফসিল ঘোষণা করবে এবং রাজনৈতিক কারণে বিরোধীদলের কারাবন্দী সকল নেতা-কর্মীর মুক্তি দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফ আলী আকন, মাহাবুবুর রহমান, ইমতিয়াজ আলম, আহমদ আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।

জনপ্রিয় সংবাদ

৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের আহবান চরমোনাই পীরের

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৪

আসন্ন ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের জন্য দেশবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচন আমার আপনার ভোট জালিয়াতি এই নির্মতাসীনদের সীমাহীন লুটতরাজ, জুলুম, খুন, গুম ও অনিয়ম জারি রাখার নির্বাচন। এই নির্বাচন দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা, ব্যাংকগুলো শূন্য করা, চুরি করে কোটিপতি হওয়ার অবৈধ পদ্ধতিকে অব্যাহত রাখারার স্বাদ বিদেশে পাচগুলো ক্ষমতাসীনদের পারস্পরিক ক্ষমতা ভাগাভাগির নির্লজ্জ খেলা। ফলে এই নির্বাচনে ভোট দেয়ার মানে এই নির্বাচমতাসীনদের সকল অন্যায়, জুলুম ও দুর্নীতিকে বৈধতা দেয়া। যা কোনভাবেই জায়েজ নয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরানাপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, সরকারের আজ্ঞাবহ দলদাস নির্বাচন কমিশন আগামী ৭ জানুয়ারি প্রহসনমূলক একতরফা নির্বাচনের যে ঘোষণা দিয়েছে, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নির্লজ্জ ও শঠতাপূর্ণ নির্বাচন কেউ কখনো দেখেছে বলে মনে হয় না। ক্ষমতাসীন সরকার ২০১৪ সালে করলো একতরফা প্রহসনের নির্বাচন, ১৮ সালে করলো রাতের ভোট আর ২৪ সালে এসে করছে ডামি নির্বাচন। নিজ দলের একাধিক প্রার্থী বিভিন্ন নামে দাড় করানো, জেল থেকে মুক্তি দেয়ার লোভ দেখিয়ে বিরোধী নেতাদের নির্বাচনে দাড় করানো, কিংস পার্টি গড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর অপচেষ্টা করার মতো এই সরকার যা করছে, তাতে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম নির্বাচনের উদাহারণ হয়ে থাকবে এই নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে কতবড় নোংরামী হয়েছে তার উদাহারণ হয়ে থাকবে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য। তিনি প্রকাশ্যেই বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নেয়ার শর্তে কারাগারে থাকা সকল বিরোধী নেতাকে মুক্তির প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো। তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, কারাগারে থাকা না থাকার মতো যে বিষয় আদালতের ওপরে নির্ভরশীল তাও এখন এই সরকার কুক্ষিগত করে নিয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, যাদের মধ্যে দেশপ্রেম আছে, যারা দুর্নীতি, জুলুম-লুটতরাজকে ঘৃণা করেন, যারা মানুষের অধিকারকে সম্মান করেন তারা মঞ্চে ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। যারা আল্লাহকে ভয় করেন, যারা মাজলুমের বদদোয়াকে ভয় করেন, তারা কো কোট দেবেন না। যারা ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করেন, যারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের সম্মান করানে তারা কেউ ৭ জানুয়ারি ভোট কেন্দ্রে যাবেন না।
তিনি বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলবো, আপনারা কেউ এই দেশ বিরোধী অবৈধ নির্বাচনে জালিমদের সহযোগিতা করবেন। এই নির্বাচনে যারা সহযোগিতা করবে, জনগণ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবে না।

তিনি নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আপনারা যদি নিজেদের ভালো চান এবং দেশের মঙ্গল চান তাহলে এখনো সময় আছে, নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে পদত্যাগ করে চলে যান। জনগণ আপনাদের নাটক আর দেখতে চায় না।
চরমোনাই পীর বলেন, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে সর্বশেষ আবারো অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনি সংবিধান অনুযায়ী অবিলম্বে বিদ্যমান কলঙ্কিত জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিন।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- ৭ জানুয়ারি একতরফা প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ করতে হবে, বিদ্যমান জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে, নিবন্ধিত এবং আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে, জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন ভেঙ্গে দিতে হবে এবং জাতীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পূণঃতফসিল ঘোষণা করবে এবং রাজনৈতিক কারণে বিরোধীদলের কারাবন্দী সকল নেতা-কর্মীর মুক্তি দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফ আলী আকন, মাহাবুবুর রহমান, ইমতিয়াজ আলম, আহমদ আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।