০৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বগুড়ার রিক্সা চালকের মাস্টার্স পাশ  করা স্ত্রীকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বগুড়ায স্বামী রিক্সা চালিয়ে  স্ত্রীকে মাস্টার্স  পাস করানো সেই সীমানুর খাতুনকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রাথমিক শাখায় সহকারি শিক্ষক পদে চাকুরীর নিয়োগপত্র প্রদান করেন।
নিয়োগপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে ঘরের জন্য ৩ বান্ডিল ঢেউটিন, ১টি ল্যাপটপও প্রদান করা হয় এবং লেখাপড়া এবং তিনবেলা খাবার খেতে গিয়ে যে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন সেটি পরিশোধেরও দায়িত্ব নেন বগুড়া জেলা প্রশাসক।
বগুড়া জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, বগুড়ার গাবতলী উপজেলা নশিপুর ঠিকাদার পাড়ার ফেরদৌস মন্ডলের লেখাপড়ার ইচ্ছে থাকলেও পারিবারিক কারণে কিশোর বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয়। প্রাথমিক স্কুল পেরিয়ে যাওয়ার পর অভাবের কারনে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। এক পর্যায়ে সে বিয়ে করেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার নাংলু গ্রামের সীমানুর খাতুনকে। সে সময় তার স্ত্রী সীমানুর এসএসসি পরীক্ষার্থী। নিজে লেখা পড়া করতে না পেরে স্ত্রীকে লেখাপড়া করান। রিক্সা চালিয়েই স্ত্রীর ভরন পোষন ও লেখাপড়া চালিয়ে যান। স্বামীর রিক্সা করেই যেতেন কলেজে। সংসারের বাড়তি আয় করতে গৃহবধু সীমানুর পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে করতেন দর্জ্জির কাজও। ধুনট কলেজ থেকে বিএ পাশের পর মাস্টার্স সম্পন্ন করতে ভর্তি হন বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সরকারি আযিযুল হক কলেজে। এই কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বিভাগ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে মাস্টার্স পাস করে উচ্চ শিক্ষার আশা পূরণ করেছেন সীমানুর। রিক্সা চালক ফেরদৌস ও তার স্ত্রী সীমানুরের জীবনী নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে প্রধানমন্ত্রীর চোখে পড়ে। বিষয়টি জেনে প্রধানমন্ত্রী চাকুরী প্রদানের দ্রুত ব্যবস্থা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম স্কুল শিক্ষকের নিয়োগপত্রটি প্রদান করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মাদ আল মারুফ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মেজবাউল করিম, জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া , বগুড়া কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোঃ আল মামুন সরদার প্রমুখ।
ফেরদৌস মন্ডল ও তার স্ত্রী সীমানুর খাতুন জানান, অনেক ঋণ আর পরিশ্রম করে সংসারে টিকে থাকতে হয়েছে। রিক্সা চালিয়ে যখন তিনবেলা ভাত হয়নি, তখন সে দর্জ্জির কাজ শুরু করেন। দুইজনই কাজ পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেন।
বগুড়া জেলা প্রশাসক মো: সাইফুল ইসলাম জানান, নিয়োগপত্র পেয়ে গৃহবধু সীমানুর খাতুন স্কুলে যোগদান করেছেন। চাকুরীর সঙ্গে মিলেছে সীমানুরের স্বামী রিক্সাচালক ফেরদৌস মন্ডলের রিক্সা কেনার ঋন পরিশোধের ২৫ হাজার টাকা, বাড়ি সংস্কারের টিন ও একটি ল্যাপটপ।

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

বগুড়ার রিক্সা চালকের মাস্টার্স পাশ  করা স্ত্রীকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:৫৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৪
বগুড়ায স্বামী রিক্সা চালিয়ে  স্ত্রীকে মাস্টার্স  পাস করানো সেই সীমানুর খাতুনকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রাথমিক শাখায় সহকারি শিক্ষক পদে চাকুরীর নিয়োগপত্র প্রদান করেন।
নিয়োগপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে ঘরের জন্য ৩ বান্ডিল ঢেউটিন, ১টি ল্যাপটপও প্রদান করা হয় এবং লেখাপড়া এবং তিনবেলা খাবার খেতে গিয়ে যে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন সেটি পরিশোধেরও দায়িত্ব নেন বগুড়া জেলা প্রশাসক।
বগুড়া জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, বগুড়ার গাবতলী উপজেলা নশিপুর ঠিকাদার পাড়ার ফেরদৌস মন্ডলের লেখাপড়ার ইচ্ছে থাকলেও পারিবারিক কারণে কিশোর বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয়। প্রাথমিক স্কুল পেরিয়ে যাওয়ার পর অভাবের কারনে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। এক পর্যায়ে সে বিয়ে করেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার নাংলু গ্রামের সীমানুর খাতুনকে। সে সময় তার স্ত্রী সীমানুর এসএসসি পরীক্ষার্থী। নিজে লেখা পড়া করতে না পেরে স্ত্রীকে লেখাপড়া করান। রিক্সা চালিয়েই স্ত্রীর ভরন পোষন ও লেখাপড়া চালিয়ে যান। স্বামীর রিক্সা করেই যেতেন কলেজে। সংসারের বাড়তি আয় করতে গৃহবধু সীমানুর পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে করতেন দর্জ্জির কাজও। ধুনট কলেজ থেকে বিএ পাশের পর মাস্টার্স সম্পন্ন করতে ভর্তি হন বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সরকারি আযিযুল হক কলেজে। এই কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বিভাগ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে মাস্টার্স পাস করে উচ্চ শিক্ষার আশা পূরণ করেছেন সীমানুর। রিক্সা চালক ফেরদৌস ও তার স্ত্রী সীমানুরের জীবনী নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে প্রধানমন্ত্রীর চোখে পড়ে। বিষয়টি জেনে প্রধানমন্ত্রী চাকুরী প্রদানের দ্রুত ব্যবস্থা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম স্কুল শিক্ষকের নিয়োগপত্রটি প্রদান করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মাদ আল মারুফ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মেজবাউল করিম, জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া , বগুড়া কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোঃ আল মামুন সরদার প্রমুখ।
ফেরদৌস মন্ডল ও তার স্ত্রী সীমানুর খাতুন জানান, অনেক ঋণ আর পরিশ্রম করে সংসারে টিকে থাকতে হয়েছে। রিক্সা চালিয়ে যখন তিনবেলা ভাত হয়নি, তখন সে দর্জ্জির কাজ শুরু করেন। দুইজনই কাজ পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেন।
বগুড়া জেলা প্রশাসক মো: সাইফুল ইসলাম জানান, নিয়োগপত্র পেয়ে গৃহবধু সীমানুর খাতুন স্কুলে যোগদান করেছেন। চাকুরীর সঙ্গে মিলেছে সীমানুরের স্বামী রিক্সাচালক ফেরদৌস মন্ডলের রিক্সা কেনার ঋন পরিশোধের ২৫ হাজার টাকা, বাড়ি সংস্কারের টিন ও একটি ল্যাপটপ।