প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ৫ মাস মুখরিত থাকে শেরপুরের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত গারো পাহাড়ের গজনি অবকাশ কেন্দ্র। কিন্তু এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পর্যটক শূন্য ছিলো অবকাশ কেন্দ্র। তবে গত ১২ জানুয়ারী শুক্রবার থেকে পর্যটকদের পদচারণায় জমে উঠতে শুরু করেছে অবকাশ কেন্দ্র।
বাংলাদেশের উত্তর সিমান্তবর্তী জেলা শেরপুর। গারো পাহাড়ের পাদদেশে এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কোল ঘেঁষে নদ-নদী আর পাহাড়ি সৌন্দর্য্যে ভরপুর সীমান্ত জেলা শেরপুর। এ জেলার বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে গারো পাহাড়ের বিস্তৃতি। ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নে অবস্থিত গজনী অবকাশ। এটি শেরপুর জেলা তথা বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগ ও উত্তরাঞ্চলের প্রধান এবং আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি গজনী অবকাশ ব্রিটিশ আমল থেকেই পিকনিকট স্পট হিসেবে পরিচিত সকলের মাঝে। দর্শনার্থীদের ভ্রমন আরও আনন্দঘন করতে শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৯৯৩ সালে এটিকে নতুন রুপে নির্মিত করা হয় গজনী অবকাশ কেন্দ্র হিসেবে। এ পর্যটন কেন্দ্রটি প্রায় ৯০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত পাহাড়ি সৌন্দর্যমণ্ডিত।
শেরপুরের গজনি পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে সারি সরি গজারী, শাল, সেগুন, মহুয়া, আকাশমনি, ইউকেলিপটাস সহ আরও শত শত নাম না জানা গাছ-গাছালি এবং লতাপাতার বিন্যাস। পাহাড়, বনানী, ঝর্ণা, টিলা, লেক, হ্রদসহ প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম সৌন্দর্য মিলে অন্যরকম প্রশান্তি এনে দেয় ভ্রমণকারীদের ক্লান্ত মনে। তাই তো প্রতি বছর শীতকালে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে ভ্রমণ পিপাশু মানুষ গুলো ছুটে আসেন এ প্রাকৃতিক লীলাভূমি। প্রতিবছর এখানে নভেম্বর থেকে শুরু করে মার্চ মাস পর্যন্ত চলে পর্যটকদের ভিড়। কিন্তু এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে নভেম্বর ডিসেম্বর ছিল পর্যটন শুন্য। ৭ জানুয়ারি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকে জমতে শুরু করেছে এ অবকাশ কেন্দ্র। জেলা এবং জেলার বাইরে থেকে ভ্রমণ পিপাসু এবং পর্যটকরা ছুটে আসছে এ অবকাশ কেন্দ্রে।
ইতোমধ্যে পাহাড়ি সৌন্দর্যের সাথে যোগ হয়েছে কৃত্রিমভাবে নির্মাণ করা লেক এর অবকাঠামো আর মনোমুগ্ধকর ভাস্কর্য বিনোদনের অনেক কিছু। পর্যটকরাও বলছেন, আগের তুলনায় অনেকটাই বদলে গেছে। সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে গজনী অবকাশের লেকে দৃষ্টিনন্দন ভাসমান সেতু, লেকের পাশে সুবিশাল ওয়াটার কিংডম। এছাড়া ঝুলন্ত ব্রিজ, ক্যাবল কার, জিপলাইনিং তো রয়েছেই। চোখে পড়ার মতো সব কিছু দেখে মুগ্ধ পর্যটকরাও। বিশেষ করে শিশুদের বেশ আকর্ষণীয় হয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা ও শিশুপার্ক।
এখানে প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য দোকানপাট। সেখান থেকে পর্যটকরা তাদের পছন্দের মত জিনিসপত্র কিনতে পারে। এসব দোকানে শিশুদের খেলনা এবং নারীদের বিভিন্ন প্রসাধনী ও শাড়ি কাপড় থেকে শুরু করে রয়েছে ঘর সাজানোর নানা আসবাবপত্র। এবার গত দুই মাস ব্যবসা না হওয়ার কারণে হতাশ হয়েছে অনেক ব্যবসায়ী তবে তাদের কেউ কেউ সামনের দিনগুলোতে পর্যটক আরো বাড়বে বলে আশা ব্যক্ত করছেন।
শেরপুর জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল খায়রুম সবুজ বাাংলাকে জানায়, ইতিমধ্যে গজনী অবকাশে সারা দেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করতে নেয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নতুন নতুন বিভিন্ন রাইডস। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আনা হয়েছে পর্যটক পুলিশ। এছাড়া খুব শীঘ্রই এখানে পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল তৈরি করা হবে। আগামী দিনেও আরো পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানালেন জেলা প্রশাসক।
‘তুলসী মালা সুগন্ধে, পর্যটনের আনন্দে’ এ শ্লোগানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শেরপুরের ব্র্যান্ডিং। আগামী দিনে এ অবকাশ কেন্দ্রের আকর্ষণ আরো বাড়ানো হলে সারা দেশে পর্যটকদের আনন্দ বাড়ানো যাবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন।

























