০২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজ শহীদ আসাদ দিবস

নরসিংদীতে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয় আসাদকে

আজ ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এটি তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ১৯৬৯ সালের এই দিনে
বাঙালি জাতির স্বাধীনতার দাবি তরান্বিত করতে নিজের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন ছাত্রনেতা আসাদ। প্রতিবারের মত এবারও সকাল ৮ টা থেকে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে আসাদের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ,
বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও সকল রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ এ দিবসটি শ্রদ্ধার সাথে উদযাপন করবেন।
এছাড়া শহীদ আসাদ স্মরণে দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে শহীদ আসাদ কলেজে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। শহীদ আসাদ কলেজের অধ্যক্ষ কালাইনি ব্যানার্জি বলেন, শহীদ আসাদ দিবসটি উপলক্ষে সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করাসহ কলেজে বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া-প্রার্র্থনার মাধ্যমে শহীদ আসাদকে স্মরণ করবে কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রীসহ পুরো শিবপুরবাসী। এখানে শহীদ আসাদের পরিবারের কোনো সদস্যরা থাকেন না। এই দিবসটিতে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ শহীদ আসাদ পরিবারের সদস্যদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই অধ্যক্ষ।

ইতিহাস থেকে জানা যায়,শহীদ আসাদ ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনে পথিকৃৎ। এদেশের ছাত্রসমাজের ১১-দফা কর্মসূচির মিছিলে নেতৃত্ব
দিতে গিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে তিনি শহীদ হন। শহীদ আসাদের পুরো নাম মোহাম্মদ আমানুল্লাহ
আসাদুজ্জামান। ১৯৪২ সালের ১০ জুন নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। আসাদ ১৯৬০ সালে শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জগন্নাথ কলেজে (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হন। সেখান থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৬৭ সালে তিনি এম.এ ডিগ্রী অর্জন করেন।

মলত: ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গণঅভ্যুত্থান ঘটে। তার এই আত্মত্যাগ স্বৈরশাসনবিরোধী চলমান আন্দোলনকে বেগবান করে এবং পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে। ১৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন দুঃসাহসী ছাত্র আইয়ুব শাসনের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে প্রতিবাদ সভা বের করে পুলিশ ও ইপিআরের
বাঁধায় প্রত্যেকেই বন্দি হন।
পরদিন ২০ জানুয়ারি ছাত্রজনতা আবার ১৪৪ ধারা পদদলিত করে অকুতভয়ে পাক পুলিশ-ইপিআরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে। তবে সেদিন ছাত্রজনতার প্রতিবাদের মুখে পাক প্রশাসন পিছু হটতে বাধ্য হন। সব বাঁধা অতিক্রম করে বিরাট শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন থেকে
বেরিয়ে শহীদ মিনার হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে যাচ্ছিল। সেই শোভাযাত্রার অন্যতম নায়ক ছিলেন আসাদুজ্জামান। শোভাযাত্রা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে এলে তাকে গুলি করে পাক পুলিশ। শহীদ হন টগবগে যুবক আসাদ। তারপর পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে বিপ্লবী ছাত্ররা। আসাদের রক্তাক্ত শার্ট নিয়েই তাৎক্ষণিক মিছিল বের করে ছাত্ররা। প্রবলভাবে বিস্ফোরিত হয় ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান।
কবি শামসুর রাহমানের ভাষায়, ‘গুচ্ছ গুচ্ছ করবীর মতো কিন্তু সূর্যাস্তের জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট উড়ছে হাওয়ায়-নীলিমায় উড়ছে,
উড়ছে অবিরাম আমাদের হৃদয়ে রৌদ্র-ঝলসিত প্রতিধ্বনিময় মাঠে
চৈতন্যের প্রতিটি মোর্চায়।’

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ শহীদ আসাদ দিবস

নরসিংদীতে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয় আসাদকে

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৪

আজ ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এটি তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ১৯৬৯ সালের এই দিনে
বাঙালি জাতির স্বাধীনতার দাবি তরান্বিত করতে নিজের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন ছাত্রনেতা আসাদ। প্রতিবারের মত এবারও সকাল ৮ টা থেকে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে আসাদের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ,
বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও সকল রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ এ দিবসটি শ্রদ্ধার সাথে উদযাপন করবেন।
এছাড়া শহীদ আসাদ স্মরণে দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে শহীদ আসাদ কলেজে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। শহীদ আসাদ কলেজের অধ্যক্ষ কালাইনি ব্যানার্জি বলেন, শহীদ আসাদ দিবসটি উপলক্ষে সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করাসহ কলেজে বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া-প্রার্র্থনার মাধ্যমে শহীদ আসাদকে স্মরণ করবে কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রীসহ পুরো শিবপুরবাসী। এখানে শহীদ আসাদের পরিবারের কোনো সদস্যরা থাকেন না। এই দিবসটিতে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ শহীদ আসাদ পরিবারের সদস্যদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই অধ্যক্ষ।

ইতিহাস থেকে জানা যায়,শহীদ আসাদ ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনে পথিকৃৎ। এদেশের ছাত্রসমাজের ১১-দফা কর্মসূচির মিছিলে নেতৃত্ব
দিতে গিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে তিনি শহীদ হন। শহীদ আসাদের পুরো নাম মোহাম্মদ আমানুল্লাহ
আসাদুজ্জামান। ১৯৪২ সালের ১০ জুন নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। আসাদ ১৯৬০ সালে শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জগন্নাথ কলেজে (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হন। সেখান থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৬৭ সালে তিনি এম.এ ডিগ্রী অর্জন করেন।

মলত: ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গণঅভ্যুত্থান ঘটে। তার এই আত্মত্যাগ স্বৈরশাসনবিরোধী চলমান আন্দোলনকে বেগবান করে এবং পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে। ১৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন দুঃসাহসী ছাত্র আইয়ুব শাসনের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে প্রতিবাদ সভা বের করে পুলিশ ও ইপিআরের
বাঁধায় প্রত্যেকেই বন্দি হন।
পরদিন ২০ জানুয়ারি ছাত্রজনতা আবার ১৪৪ ধারা পদদলিত করে অকুতভয়ে পাক পুলিশ-ইপিআরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে। তবে সেদিন ছাত্রজনতার প্রতিবাদের মুখে পাক প্রশাসন পিছু হটতে বাধ্য হন। সব বাঁধা অতিক্রম করে বিরাট শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন থেকে
বেরিয়ে শহীদ মিনার হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে যাচ্ছিল। সেই শোভাযাত্রার অন্যতম নায়ক ছিলেন আসাদুজ্জামান। শোভাযাত্রা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে এলে তাকে গুলি করে পাক পুলিশ। শহীদ হন টগবগে যুবক আসাদ। তারপর পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে বিপ্লবী ছাত্ররা। আসাদের রক্তাক্ত শার্ট নিয়েই তাৎক্ষণিক মিছিল বের করে ছাত্ররা। প্রবলভাবে বিস্ফোরিত হয় ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান।
কবি শামসুর রাহমানের ভাষায়, ‘গুচ্ছ গুচ্ছ করবীর মতো কিন্তু সূর্যাস্তের জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট উড়ছে হাওয়ায়-নীলিমায় উড়ছে,
উড়ছে অবিরাম আমাদের হৃদয়ে রৌদ্র-ঝলসিত প্রতিধ্বনিময় মাঠে
চৈতন্যের প্রতিটি মোর্চায়।’