তৌফিক আহমেদ (২৭) ও বাবু মোড়ল ওরফে আসমত ওরফে ক্যাসেট দুইজন খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। অধিকাংশ সময় থাকতেন এক সাথেই।
একজন আরেকজনকে না দেখে যেনো থাকতে পারতেন না। বন্ধুত্বের সুবাদে ক্যাসেটের বাড়িতে মাঝে-মধ্যে রাত্রীযাপনও করতেন তৌফিক। অবাধ যাতায়াতের সুযোগে তিনি বন্ধু ক্যাসেটের স্ত্রী রিয়ার সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে মাথা ঠিক রাখতে পারেননি ভ্যান চালক ক্যাসেট। তাই বন্ধুকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে খুন করেন। ক্যাসেটকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) এসব কথা জানিয়েছেন৷ তিনি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কাটাখাল এলাকার মৃত কাশেম মন্ডলের ছেলে।
সোমবার বিকেলে পিবিআই যশোরের এসপি রেশমা শারমিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত ১৯ জানুয়ারি রাতে রান্না ঘরের মধ্যে স্ত্রী রিয়ার সাথে বন্ধু তৌফিককে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন ক্যাসেট। এসময় কৌশলে ছটকে পড়েন তৌফিক। ২০ জানুয়ারি সকালে তিনি ( ক্যাসেট) মুঠোফোনে কল তৌফিককে বাড়িতে ডেকে আনেন। পরে স্ত্রী ও বন্ধু ধর্মীয়গ্রন্থ ছুঁয়ে নিজেদের অনৈতিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। এতে ক্যাসেট ক্ষুব্ধ হয়ে বন্ধু তৌফিককে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আনলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ছেলে তৌফিককে খুনের ঘটনায় তার পিতা কৃষ্ণনগর গ্রামের শাহাদাৎ মোল্যা ক্যাসেট ও তার স্ত্রী রিয়াকে আসামি করে ঝিকরগাছা থানায় মামলা দায়ের করেন। যার নং ২৪। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন পিবিআইয়ের এস আই শ্নেহাশিস দাস। রোববার সকাল ৯ টায় পিবিআইয়ের টিম ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা খালু জয়নাল আবেদীনের বাড়ি থেকে ক্যাসেটকে আটক করা হয়। অপর আসামি রিয়াকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, আটক ক্যাসেট সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমি মাংস কিনে ওকে (তৌফিক) খাওয়াতাম। সেদিন রাতে আমার স্ত্রীর সঙ্গে দেখার পর থেকে মাথা ঠিক ছিলোনা। তাই তাকে খুন করেছি। যোগ করেন ক্যাসেট।
























