০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাকুন্দিয়ায় তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার তিন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কাউসার আহম্মেদ (২৪), জুবায়েদ হাসান শুভ (১৮) ও তোফাজ্জল হোসেন রাজু (২৪) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গাজীপুরের এক গার্মেন্ট কর্মী তরুণী কর্মস্থল থেকে  নিজ বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এসে গত শনিবার বিকালে পার্শ্ববর্তী তারাকান্দি বাজারে ঘুরতে যান। সঙ্গে ছিলেন তার বন্ধু সাব্বির হোসেন (১৮), সাব্বিরের মামা সম্পর্কিত অটোচালক হুমায়ুন কবির (২১) ও সাব্বিরের বন্ধু আশরাফ। এ সময় তারা স্থানীয় একটি বখাটে দলের খপ্পড়ে পড়ে।

বখাটে দলটির সদস্যরা তাদের জিম্মি করে অটোরিকশাসহ তারাকান্দি ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে নিয়ে যায় এবং ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে সেখানে অটোরিকশায় অন্যদের রেখে মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারাকান্দি ফাজিল মাদ্রাসার পাশের জনৈক রানা ভূঞার একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ শুরু করে।

ঘটনার সময় মাদ্রাসার মাঠে থাকা সাব্বিরের বন্ধু আশরাফ মুক্তিপণের টানা এনে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ তাৎক্ষণিক সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় তরুণীকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার এবং বখাটে দলটির তিন সদস্যকে আটক করে পুলিশ। তারা হচ্ছে, পাকুন্দিয়া পৌরসভার বীর পাকুন্দিয়া এলাকার মো. আলী আকবরের ছেলে মো. কাউসার আহম্মেদ (২৪), একই এলাকার মো. খসরু মিয়ার ছেলে জুবায়েদ হাসান শুভ (১৮) ও চর পাকুন্দিয়া এলাকার মুক্তার উদ্দিনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন রাজু (২৪)। তাদের ব্যবহৃত একটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। এছাড়া পুলিশের অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে বখাটে দলের বাকি চার সদস্য পালিয়ে যায়।

পালিয়ে যাওয়া চারজন হচ্ছে, উপজেলার তারাকান্দি ভূঁইয়াবাড়ির মো. মাছুম ভূঁইয়ার ছেলে মেহেদী হাসান (২২), তারাকান্দি মানুল্লারচর গ্রামের এরশাদ মিয়ার ছেলে হৃদয় (৩২), তারাকান্দি গ্রামের বাবু (২২) ও চর পাকুন্দিয়া এলাকার হিরু মিয়ার ছেলে ইয়াসিন (২৫)।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. আল আমিন হোসাইন ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে জানান, একের পর এক যুবক কর্তৃক জোরপূর্বক ধর্ষিত হয়ে যাচ্ছিল তরুণীটি। পুলিশের অবস্থান বুঝে সটকে পরে প্রায় সকল অপরাধী। তবে কাউসার আহম্মেদ ও জুবায়েদ হাসান শুভকে পালানোর সময় দৌড়ে ধরে ফেলেন এসআই (নি.) দীন মোহাম্মদের টিম। পরে পুলিশের অভিযানে তোফাজ্জল হোসেন রাজু নামে তাদের এক সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও জানান, ধর্ষণের ঘটনায় রবিবার পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভিকটিমকে চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণে সহায়ক আলামত জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ভিকটিম ও গ্রেফতার আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদেরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরাঞ্চলে তীব্র শীতে স্থবির জনজীবন, ২৪ ঘণ্টায় ৫ শিশুর মৃত্যু

পাকুন্দিয়ায় তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার তিন

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কাউসার আহম্মেদ (২৪), জুবায়েদ হাসান শুভ (১৮) ও তোফাজ্জল হোসেন রাজু (২৪) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গাজীপুরের এক গার্মেন্ট কর্মী তরুণী কর্মস্থল থেকে  নিজ বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এসে গত শনিবার বিকালে পার্শ্ববর্তী তারাকান্দি বাজারে ঘুরতে যান। সঙ্গে ছিলেন তার বন্ধু সাব্বির হোসেন (১৮), সাব্বিরের মামা সম্পর্কিত অটোচালক হুমায়ুন কবির (২১) ও সাব্বিরের বন্ধু আশরাফ। এ সময় তারা স্থানীয় একটি বখাটে দলের খপ্পড়ে পড়ে।

বখাটে দলটির সদস্যরা তাদের জিম্মি করে অটোরিকশাসহ তারাকান্দি ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে নিয়ে যায় এবং ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে সেখানে অটোরিকশায় অন্যদের রেখে মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারাকান্দি ফাজিল মাদ্রাসার পাশের জনৈক রানা ভূঞার একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ শুরু করে।

ঘটনার সময় মাদ্রাসার মাঠে থাকা সাব্বিরের বন্ধু আশরাফ মুক্তিপণের টানা এনে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ তাৎক্ষণিক সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় তরুণীকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার এবং বখাটে দলটির তিন সদস্যকে আটক করে পুলিশ। তারা হচ্ছে, পাকুন্দিয়া পৌরসভার বীর পাকুন্দিয়া এলাকার মো. আলী আকবরের ছেলে মো. কাউসার আহম্মেদ (২৪), একই এলাকার মো. খসরু মিয়ার ছেলে জুবায়েদ হাসান শুভ (১৮) ও চর পাকুন্দিয়া এলাকার মুক্তার উদ্দিনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন রাজু (২৪)। তাদের ব্যবহৃত একটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। এছাড়া পুলিশের অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে বখাটে দলের বাকি চার সদস্য পালিয়ে যায়।

পালিয়ে যাওয়া চারজন হচ্ছে, উপজেলার তারাকান্দি ভূঁইয়াবাড়ির মো. মাছুম ভূঁইয়ার ছেলে মেহেদী হাসান (২২), তারাকান্দি মানুল্লারচর গ্রামের এরশাদ মিয়ার ছেলে হৃদয় (৩২), তারাকান্দি গ্রামের বাবু (২২) ও চর পাকুন্দিয়া এলাকার হিরু মিয়ার ছেলে ইয়াসিন (২৫)।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. আল আমিন হোসাইন ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে জানান, একের পর এক যুবক কর্তৃক জোরপূর্বক ধর্ষিত হয়ে যাচ্ছিল তরুণীটি। পুলিশের অবস্থান বুঝে সটকে পরে প্রায় সকল অপরাধী। তবে কাউসার আহম্মেদ ও জুবায়েদ হাসান শুভকে পালানোর সময় দৌড়ে ধরে ফেলেন এসআই (নি.) দীন মোহাম্মদের টিম। পরে পুলিশের অভিযানে তোফাজ্জল হোসেন রাজু নামে তাদের এক সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও জানান, ধর্ষণের ঘটনায় রবিবার পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভিকটিমকে চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণে সহায়ক আলামত জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ভিকটিম ও গ্রেফতার আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদেরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।