১১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা তদন্তে একাধিক তদন্ত কমিটি ইবি প্রশাসনের

ঘটনাবহুল সপ্তাহের আলোচিত – সমালোচিত বিভিন্ন ঘটনা তদন্তে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ.এম আলী হাসান স্বাক্ষরিত একাধিক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়৷

প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি সমূহের মধ্যে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি উপাচার্যের কার্যালয়ে বহিরাগত দ্বারা শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনায় একটি, ৮ ফেব্রুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ব্যাচ ডের দিন মুজিব ম্যুরালের মর্যাদাহানি ও অশ্লীলতার ঘটনা তদন্তে একটি এবং লালন শাহ হলের গণরুমে নবীন শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে র‍্যাগিংয়ের ঘটনা তদন্তে হল কর্তৃপক্ষের একটি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা যায়, শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনায় জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং গণিত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সজিব আলীকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যরা হলেন, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার তৌহিদুল আনাম, ইবির কেন্দ্রীয় গবেষণার পরিচালক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান ও খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আরা সাথী। কমিটিকে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এছাড়া, গত ৮ ফেব্রুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ব্যাচ ডে অনুষ্ঠানে সংগঠিত মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালের মর্যাদাহানি এবং ব্যাচ ডের উৎসবে অশ্লীলতার ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ও ছাত্র উপদেষ্টা ড. শেলিনা নাসরিন কে আহ্বায়ক করে গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর মোঃ ইয়ামিন মাসুম এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন টিএসসিসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ বাকী বিল্লাহ বিকুল।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের ১১৬ নং কক্ষে (গণরুমে) আবারো নবীন এক শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মুদাচ্ছির খান কাফী ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ সাগর। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ না দিলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরের সুত্র ধরে শেখ রাসেল হলের প্রোভস্ট অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সদস্য সচিব হিসেবে সহকারী প্রক্টর জনাব মিঠুন বৈরাগী ও সদস্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মোঃ আনিচুর রহমান রয়েছেন। কমিটিকে যথাশীঘ্র প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে, নবীন শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে লালন শাহ হল কর্তৃপক্ষ। হল অফিসে মৌখিক বা লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া না গেলেও সহকারী প্রক্টরের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে লালন শাহ হল প্রশাসন। আবাসিক শিক্ষক ড. আলতাফ হোসেনকে আহবায়ক ও সহকারী রেজিস্ট্রার জনাব জিল্লুর রহমানকে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বাকি দুজন সদস্য হচ্ছেন জনাব মোঃ আব্দুল হালিম ও অধ্যাপক ড. মোঃ হেলাল উদ্দিন। কমিটিকে আগামী ০৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অব্যাহত অভিযানেও চলছে অবৈধ ক্লিনিক হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা তদন্তে একাধিক তদন্ত কমিটি ইবি প্রশাসনের

আপডেট সময় : ০৯:৪০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ঘটনাবহুল সপ্তাহের আলোচিত – সমালোচিত বিভিন্ন ঘটনা তদন্তে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ.এম আলী হাসান স্বাক্ষরিত একাধিক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়৷

প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি সমূহের মধ্যে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি উপাচার্যের কার্যালয়ে বহিরাগত দ্বারা শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনায় একটি, ৮ ফেব্রুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ব্যাচ ডের দিন মুজিব ম্যুরালের মর্যাদাহানি ও অশ্লীলতার ঘটনা তদন্তে একটি এবং লালন শাহ হলের গণরুমে নবীন শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে র‍্যাগিংয়ের ঘটনা তদন্তে হল কর্তৃপক্ষের একটি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা যায়, শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনায় জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং গণিত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সজিব আলীকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যরা হলেন, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার তৌহিদুল আনাম, ইবির কেন্দ্রীয় গবেষণার পরিচালক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান ও খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আরা সাথী। কমিটিকে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এছাড়া, গত ৮ ফেব্রুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ব্যাচ ডে অনুষ্ঠানে সংগঠিত মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালের মর্যাদাহানি এবং ব্যাচ ডের উৎসবে অশ্লীলতার ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ও ছাত্র উপদেষ্টা ড. শেলিনা নাসরিন কে আহ্বায়ক করে গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর মোঃ ইয়ামিন মাসুম এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন টিএসসিসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ বাকী বিল্লাহ বিকুল।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের ১১৬ নং কক্ষে (গণরুমে) আবারো নবীন এক শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মুদাচ্ছির খান কাফী ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ সাগর। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ না দিলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরের সুত্র ধরে শেখ রাসেল হলের প্রোভস্ট অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সদস্য সচিব হিসেবে সহকারী প্রক্টর জনাব মিঠুন বৈরাগী ও সদস্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মোঃ আনিচুর রহমান রয়েছেন। কমিটিকে যথাশীঘ্র প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে, নবীন শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে লালন শাহ হল কর্তৃপক্ষ। হল অফিসে মৌখিক বা লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া না গেলেও সহকারী প্রক্টরের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে লালন শাহ হল প্রশাসন। আবাসিক শিক্ষক ড. আলতাফ হোসেনকে আহবায়ক ও সহকারী রেজিস্ট্রার জনাব জিল্লুর রহমানকে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বাকি দুজন সদস্য হচ্ছেন জনাব মোঃ আব্দুল হালিম ও অধ্যাপক ড. মোঃ হেলাল উদ্দিন। কমিটিকে আগামী ০৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।