১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখে গাজা

◉ ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল
◉ শুধু খাদ্য নয়, সুপেয় পানির সংকটও প্রকট
◉ মার্কিন সেনার আত্মাহুতি নিয়ে হামাসের প্রতিক্রিয়া
◉ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৯৮৭৮

দ্রুত পদক্ষেপ নিতে না পারলে ফিলিস্তিনের গাজার অন্তত এক-চতুর্থাংশ মানুষ অচিরেই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে, এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তারা। তারা অভিযোগ করেন, গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর সব রাস্তায় বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার শিশুরা পানিশূন্যতার কারণে মারা যাচ্ছে এবং সেখানে যদি আরো সহায়তা না পৌঁছায় তবে আগামী দিনগুলোতে আরো হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাবে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে, গাজায় শুধু খাদ্যের সংকট নয়, সুপেয় পানির সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। গাজার প্রায় ৯৭ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি পানের অযোগ্য। সেদেশের কৃষি খাতও ধ্বংসের মুখোমুখি।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উপ-নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ বলেন, ২৩ জানুয়ারির পর থেকে গাজায় কোনো সংস্থা ত্রাণ পাঠাতে পারছে না। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে গাজায় অচিরেই দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। উত্তর গাজায় ত্রাণ ঢুকতে দিচ্ছে না ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার বাকি এলাকাতেও খুব কম পরিমাণে ত্রাণ পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজা সীমান্তে ইতিমধ্যেই অপেক্ষা করছে প্রায় ২২ লাখ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ। হাজারখানেক ট্রাকে রয়েছে ১৫ হাজার টন খাদ্য। কিন্তু এই খাদ্য গাজায় ঢুকতে দিচ্ছে না ইসরায়েলি বাহিনী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৩ জানুয়ারি ত্রাণ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছিল। এদিকে জাতিসংঘের দাবি প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত জনাথন মিলার বলেন, কার্যকরী উপায়ে সংস্থাটি ত্রাণ সরবরাহ করছে না।

এদিকে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নৃশংসতা বন্ধে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে স্বাধীনতাকামী হামাস ও ইসরায়েল। এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রস্তাবটি বিবেচনা করে দেখছে হামাস। প্রস্তাবে রমজানজুড়ে যুদ্ধবিরতির জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, চুক্তিতে একজন ইসরায়েলিকে মুক্তি দেওয়ার শর্ত হিসেবে ১০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে ইসরায়েল। প্রস্তাবে আছে, হামাস নারী-শিশুসহ ৪০ জিম্মিকে মুক্তি দেবে। ইসরায়েল অন্তত ৪০০ বন্দি মুক্তি দেবে এবং তাদের আবার গ্রেপ্তার করবে না। নতুন প্রস্তাবে হামাস বলেছে, গাজার হাসপাতালগুলোকে সংস্কার করতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিদিন ৫০০টি ত্রাণবাহী ট্রাকের প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

মার্কিন সেনার আত্মাহুতি হামাসের প্রতিক্রিয়া গত রোববার ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে নিজের শরীরে আগুন দেন মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য অ্যারন বুশনেল (২৫)। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস বলেছে, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকান জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের একটি বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনা। নিজের গায়ে আগুন দিয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর যে সদস্য মারা গেছেন, তিনি তার যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদের জন্য ‘অমর’ হয়ে থাকবেন।

এদিকে নেতানিয়াহু যদি হামাসের প্রস্তাবিত ৪০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সায় দেয়, তবে ইসরায়েলে হামলা থেকে বিরত থাকবে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র ইসলামী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। রয়টার্স।
গত মঙ্গলবার হিজবুল্লাহর এক নেতা বলেন, হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে লেবাননে আমাদের সামরিক অপারেশন থামিয়ে দেবো। আগেও যুদ্ধবিরতির সময় আমরা তা করেছিলাম। আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, যুদ্ধবিরতির সুযোগে আইডিএফ যদি লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখে, তাহলে আমরা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হবো।

এদিকে গাজায় দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে লোহিত সাগরে হামলা বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীও। গত সোমবার হুথির মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুস সালাম জানান, গাজায় ইসরায়েল যতদিন অভিযান চালাবে, ততদিন লোহিত ও এডেন উপসাগরে হামলা অব্যাহত রাখবো। তবে যদি সত্যিই গাজায় যুদ্ধবিরতি হয় এবং মানবিক ও ত্রাণ সহায়তার সরবরাহ স্বাভাবিক হয়, তাহলে আমরাও আমাদের অপারেশন স্থগিতের ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবো।

হামাসের যোদ্ধারা আশ্চর্যজনকভাবে ইসরাইলে হামলা চালায়। এতে করে অন্তত ১ হাজার ২০০ ইসরাইলি নিহত হয়। এছাড়া ২৫৩ জনকে জিম্মি করে। এরপরই হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে গাজায় হামলা শুরু করে ইসরাইল। তবে এই হামলায় নিরীহ ফিলিস্তিনিরাই নিহত হচ্ছেন।

গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অবৈধ দখলদার ইসরাইলের বর্বর হামলায় গাজায় চলমান ইসরাইলের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ হাজার ৮৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৭০ হাজার ২১৫ জন।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী হামাসের হামলায় অন্তত এক হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। ওই দিন ইসরায়েল থেকে ২৪০ জনের বেশি মানুষকে ধরে নিয়ে গাজায় জিম্মি করে রাখে হামাস। এ হামলার জবাবে গাজা উপত্যকায় নৃশংস অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজায় অবৈধ দখলাদার ইসরাইলের বর্বর হামলায় এ পর্যন্ত স্বাধীনতাকামী নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ হাজার ৮৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৭০ হাজার ২১৫ জন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখে গাজা

আপডেট সময় : ০৭:১৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

◉ ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল
◉ শুধু খাদ্য নয়, সুপেয় পানির সংকটও প্রকট
◉ মার্কিন সেনার আত্মাহুতি নিয়ে হামাসের প্রতিক্রিয়া
◉ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৯৮৭৮

দ্রুত পদক্ষেপ নিতে না পারলে ফিলিস্তিনের গাজার অন্তত এক-চতুর্থাংশ মানুষ অচিরেই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে, এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তারা। তারা অভিযোগ করেন, গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর সব রাস্তায় বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার শিশুরা পানিশূন্যতার কারণে মারা যাচ্ছে এবং সেখানে যদি আরো সহায়তা না পৌঁছায় তবে আগামী দিনগুলোতে আরো হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাবে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে, গাজায় শুধু খাদ্যের সংকট নয়, সুপেয় পানির সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। গাজার প্রায় ৯৭ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি পানের অযোগ্য। সেদেশের কৃষি খাতও ধ্বংসের মুখোমুখি।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উপ-নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ বলেন, ২৩ জানুয়ারির পর থেকে গাজায় কোনো সংস্থা ত্রাণ পাঠাতে পারছে না। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে গাজায় অচিরেই দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। উত্তর গাজায় ত্রাণ ঢুকতে দিচ্ছে না ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার বাকি এলাকাতেও খুব কম পরিমাণে ত্রাণ পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজা সীমান্তে ইতিমধ্যেই অপেক্ষা করছে প্রায় ২২ লাখ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ। হাজারখানেক ট্রাকে রয়েছে ১৫ হাজার টন খাদ্য। কিন্তু এই খাদ্য গাজায় ঢুকতে দিচ্ছে না ইসরায়েলি বাহিনী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৩ জানুয়ারি ত্রাণ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছিল। এদিকে জাতিসংঘের দাবি প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত জনাথন মিলার বলেন, কার্যকরী উপায়ে সংস্থাটি ত্রাণ সরবরাহ করছে না।

এদিকে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নৃশংসতা বন্ধে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে স্বাধীনতাকামী হামাস ও ইসরায়েল। এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রস্তাবটি বিবেচনা করে দেখছে হামাস। প্রস্তাবে রমজানজুড়ে যুদ্ধবিরতির জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, চুক্তিতে একজন ইসরায়েলিকে মুক্তি দেওয়ার শর্ত হিসেবে ১০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে ইসরায়েল। প্রস্তাবে আছে, হামাস নারী-শিশুসহ ৪০ জিম্মিকে মুক্তি দেবে। ইসরায়েল অন্তত ৪০০ বন্দি মুক্তি দেবে এবং তাদের আবার গ্রেপ্তার করবে না। নতুন প্রস্তাবে হামাস বলেছে, গাজার হাসপাতালগুলোকে সংস্কার করতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিদিন ৫০০টি ত্রাণবাহী ট্রাকের প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

মার্কিন সেনার আত্মাহুতি হামাসের প্রতিক্রিয়া গত রোববার ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে নিজের শরীরে আগুন দেন মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য অ্যারন বুশনেল (২৫)। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস বলেছে, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকান জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের একটি বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনা। নিজের গায়ে আগুন দিয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর যে সদস্য মারা গেছেন, তিনি তার যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদের জন্য ‘অমর’ হয়ে থাকবেন।

এদিকে নেতানিয়াহু যদি হামাসের প্রস্তাবিত ৪০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সায় দেয়, তবে ইসরায়েলে হামলা থেকে বিরত থাকবে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র ইসলামী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। রয়টার্স।
গত মঙ্গলবার হিজবুল্লাহর এক নেতা বলেন, হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে লেবাননে আমাদের সামরিক অপারেশন থামিয়ে দেবো। আগেও যুদ্ধবিরতির সময় আমরা তা করেছিলাম। আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, যুদ্ধবিরতির সুযোগে আইডিএফ যদি লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখে, তাহলে আমরা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হবো।

এদিকে গাজায় দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে লোহিত সাগরে হামলা বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীও। গত সোমবার হুথির মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুস সালাম জানান, গাজায় ইসরায়েল যতদিন অভিযান চালাবে, ততদিন লোহিত ও এডেন উপসাগরে হামলা অব্যাহত রাখবো। তবে যদি সত্যিই গাজায় যুদ্ধবিরতি হয় এবং মানবিক ও ত্রাণ সহায়তার সরবরাহ স্বাভাবিক হয়, তাহলে আমরাও আমাদের অপারেশন স্থগিতের ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবো।

হামাসের যোদ্ধারা আশ্চর্যজনকভাবে ইসরাইলে হামলা চালায়। এতে করে অন্তত ১ হাজার ২০০ ইসরাইলি নিহত হয়। এছাড়া ২৫৩ জনকে জিম্মি করে। এরপরই হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে গাজায় হামলা শুরু করে ইসরাইল। তবে এই হামলায় নিরীহ ফিলিস্তিনিরাই নিহত হচ্ছেন।

গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অবৈধ দখলদার ইসরাইলের বর্বর হামলায় গাজায় চলমান ইসরাইলের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ হাজার ৮৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৭০ হাজার ২১৫ জন।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী হামাসের হামলায় অন্তত এক হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। ওই দিন ইসরায়েল থেকে ২৪০ জনের বেশি মানুষকে ধরে নিয়ে গাজায় জিম্মি করে রাখে হামাস। এ হামলার জবাবে গাজা উপত্যকায় নৃশংস অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজায় অবৈধ দখলাদার ইসরাইলের বর্বর হামলায় এ পর্যন্ত স্বাধীনতাকামী নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ হাজার ৮৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৭০ হাজার ২১৫ জন।