০৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

উৎকণ্ঠায় ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের গ্রাহক ও কর্মীরা

 

➣অবসানের পরিবর্তে একীভূত হচ্ছে দুর্বল ব্যাংকগুলো 

➣ডজনখানেক ব্যাংক একীভূত হতে পারে

➣রেড জোনে ৯টি ও ২৬টি ইয়েলো জোনে

●দুর্বল ব্যাংক সবলে একীভূত হলে ভালো খারাপ উভয় দিক আছে জাহিদ হোসেন, অর্থনীতিবিদ

●দুর্বল ব্যাংক সবল ব্যাংকে একীভূত হওয়া ইতিবাচক এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম, অর্থনীতিবিদ

দেশের তফসিলভুক্ত ৬১ ব্যাংকের দুই-তৃতীয়াংশই ঝুঁকিপূর্ণ। নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে এসব ব্যাংক। ফলে দুর্বল ব্যাংকগুলো সবল ব্যাংকের সঙ্গে মার্জার (একীভূতকরণ) করার কথা ভাবছে। এরই মধ্যে লাগামহীন অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত পদ্মা ব্যাংক এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ সমঝোতা সই করেছে। এর আগে ২০১৩ সালে ফার্মারস নামে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটি ২০১৯ সালে নাম পাল্টে পদ্মা ব্যাংক নামকরণ করা হয়।
এদিকে পদ্মার পর ডজনখানেক ব্যাংক মার্জার হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের সাতটি, সরকারি তিনটি এবং বিদেশি মালিকানার একটি ব্যাংকের নাম শোনা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক এবং কর্মীরা।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণে ন্যুব্জ। তরল্য সংকটে ভুগছে বহু ব্যাংক। তবে অবসায়ন বা দেউলিয়া ঘোষণা না করে মার্জার পদ্ধতিতে আগাতে চাচ্ছে সরকার। যাতে গ্রাহক আমানত ফেরত পেতে পারেন। এছাড়া কর্মচারীরাও চাকরি হারানোর শঙ্কা কমে যায়। যদিও এক্সিমে একীভূত হওয়া পদ্মা ব্যাংককের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তিন বছর পর্যন্ত চাকরিতে বহাল রাখার বিষয়ে চুক্তিভুক্ত হয়েছে।
এদিকে চুক্তিতে খেলাপি ঋণের দায়ের বিষয়ে ব্যাংক দুইটি এমওইউতে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। অবসায়নের বা দেউলিয়ার দায় এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলভুক্ত ব্যাংক কমানোর চিন্তা করছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
জানা গেছে, ব্যাংকের সংখ্যা ৫০টির মধ্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পদ্মা ব্যাংক বাদ দিয়ে বর্তমানে ব্যাংক রয়েছে ৬০টি। সব আমানতকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মার্জার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কেউ একীভূত না হলে আগামী মার্চ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ভালো ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল ব্যাংককে মিলিয়ে দেওয়া হবে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে যেসব দুর্বল ব্যাংকের নাম শোনা যাচ্ছে; আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। এরকম বাস্তবতায় ভালো কয়েকটি ব্যাংক তুলনামূলক দুর্বল কোনো ব্যাংক নিলে নিজের জন্য ভালো হবে, তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা বেশি। কয়েকটি ব্যাংকের আর চলার মতো অবস্থাই নেই। এসব ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। এটা করা হলে ব্যাংকে আমানত রেখে ফেরত না পাওয়ার অনিশ্চয়তা কেটে যাবে। প্রতিটি ব্যাংকের মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ তৈরি হবে। তবে শুধু একীভূতকরণের মাধ্যমে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। যার সঙ্গে একীভূত হচ্ছে, সেই ব্যাংক যেন খারাপ না হয়, সে বিষয়ে জোর তদারকি করতে হবে।
এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল পদ্মা ব্যাংকের একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে এসেছে অতি সম্প্রতি। তবে আরো কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণের আলোচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে পদ্মাসহ ডজনখানেক ব্যাংক একীভূত হতে পারে।
ঝুঁকিতে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১২টির অবস্থা খুবই নাজুক। এর মধ্যে ৯টি রেড জোনে চলে গেছে। অপর ৩টি রেড জোনের খুব কাছাকাছি থাকলেও তাদের অবস্থান ইয়েলো জোনে। এর বাইরে আরো ২৬টি ইয়েলো জোনে অবস্থান করছে। অন্যদিকে মাত্র ১৬টি ব্যাংক গ্রিন জোনে স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ৮টিই বিদেশি ব্যাংক। অর্থাৎ গ্রিন জোনে দেশীয় ব্যাংকের সংখ্যা মাত্র ৮টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিচারে রেড জোনের ব্যাংকগুলো সবচেয়ে খারাপ এবং ইয়েলো জোনের ব্যাংকগুলো দুর্বল। আর গ্রিন জোনের ব্যাংকগুলো ভালো মানের।
সূত্র জানায়, কোনো ব্যাংক অপর ব্যাংকে মার্জার (একীভূত) করতে হলে তিন সংস্থার (বাংলাদেশ ব্যাংক, আদালত ও বিএসইসি) সমন্বয়ে লাগে। দেশের কোনো ব্যাংক এখনো দেউলিয়া হয়নি। ব্যাংকের পর্যায়ে কাজ শেষ হলে আদালত এবং বিএসইসির কিছু কাজ আছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা করবে। এরপর থেকে তারা একত্রে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এ প্রক্রিয়ার পরেই পদ্মা ব্যাংকের আমানতকারীরা এক্সিম ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারবেন।
বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন ব্যাংকের এমন পরিস্থিতিতে দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, মাত্র এক ব্যাংক একীভূত হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে বেশে কিছু ব্যাংক এমন পরিস্থিতিতে যেতে পারে। তবে দুর্বল ব্যাংক সবল ব্যাংকে একীভূত হলে যেমন ভালো দিক আছে তেমনি খারাপ দিকও আছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংককে আশ্রয় দিলে সবল ব্যাংকগুলোও অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই অর্থনীতিবিদ আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি নির্ধারকরা যেভাবে সিদ্ধান্ত নেন সেভাবেই হবে। তবে সামনে এর প্রভাব কি হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, দুর্বল ব্যাংক সবল ব্যাংকে একীভূত হচ্ছে এটা ইতিবাচক। এতে ডিপোজিটার ও এমপ্লিফায়ারা ঝুঁকি থেকে বেঁচে যাবে। পদ্মা-এক্সিমের বিষয়ে তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলা আছে। তবে গ্রাহকের আমানত ও কর্মকর্তাদের স্বার্থ কতটুকু রক্ষা হয় তা ভবিষ্যতে বলা যাবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

উৎকণ্ঠায় ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের গ্রাহক ও কর্মীরা

আপডেট সময় : ০৭:৪১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

 

➣অবসানের পরিবর্তে একীভূত হচ্ছে দুর্বল ব্যাংকগুলো 

➣ডজনখানেক ব্যাংক একীভূত হতে পারে

➣রেড জোনে ৯টি ও ২৬টি ইয়েলো জোনে

●দুর্বল ব্যাংক সবলে একীভূত হলে ভালো খারাপ উভয় দিক আছে জাহিদ হোসেন, অর্থনীতিবিদ

●দুর্বল ব্যাংক সবল ব্যাংকে একীভূত হওয়া ইতিবাচক এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম, অর্থনীতিবিদ

দেশের তফসিলভুক্ত ৬১ ব্যাংকের দুই-তৃতীয়াংশই ঝুঁকিপূর্ণ। নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে এসব ব্যাংক। ফলে দুর্বল ব্যাংকগুলো সবল ব্যাংকের সঙ্গে মার্জার (একীভূতকরণ) করার কথা ভাবছে। এরই মধ্যে লাগামহীন অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত পদ্মা ব্যাংক এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ সমঝোতা সই করেছে। এর আগে ২০১৩ সালে ফার্মারস নামে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটি ২০১৯ সালে নাম পাল্টে পদ্মা ব্যাংক নামকরণ করা হয়।
এদিকে পদ্মার পর ডজনখানেক ব্যাংক মার্জার হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের সাতটি, সরকারি তিনটি এবং বিদেশি মালিকানার একটি ব্যাংকের নাম শোনা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক এবং কর্মীরা।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণে ন্যুব্জ। তরল্য সংকটে ভুগছে বহু ব্যাংক। তবে অবসায়ন বা দেউলিয়া ঘোষণা না করে মার্জার পদ্ধতিতে আগাতে চাচ্ছে সরকার। যাতে গ্রাহক আমানত ফেরত পেতে পারেন। এছাড়া কর্মচারীরাও চাকরি হারানোর শঙ্কা কমে যায়। যদিও এক্সিমে একীভূত হওয়া পদ্মা ব্যাংককের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তিন বছর পর্যন্ত চাকরিতে বহাল রাখার বিষয়ে চুক্তিভুক্ত হয়েছে।
এদিকে চুক্তিতে খেলাপি ঋণের দায়ের বিষয়ে ব্যাংক দুইটি এমওইউতে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। অবসায়নের বা দেউলিয়ার দায় এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলভুক্ত ব্যাংক কমানোর চিন্তা করছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
জানা গেছে, ব্যাংকের সংখ্যা ৫০টির মধ্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পদ্মা ব্যাংক বাদ দিয়ে বর্তমানে ব্যাংক রয়েছে ৬০টি। সব আমানতকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মার্জার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কেউ একীভূত না হলে আগামী মার্চ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ভালো ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল ব্যাংককে মিলিয়ে দেওয়া হবে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে যেসব দুর্বল ব্যাংকের নাম শোনা যাচ্ছে; আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। এরকম বাস্তবতায় ভালো কয়েকটি ব্যাংক তুলনামূলক দুর্বল কোনো ব্যাংক নিলে নিজের জন্য ভালো হবে, তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা বেশি। কয়েকটি ব্যাংকের আর চলার মতো অবস্থাই নেই। এসব ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। এটা করা হলে ব্যাংকে আমানত রেখে ফেরত না পাওয়ার অনিশ্চয়তা কেটে যাবে। প্রতিটি ব্যাংকের মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ তৈরি হবে। তবে শুধু একীভূতকরণের মাধ্যমে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। যার সঙ্গে একীভূত হচ্ছে, সেই ব্যাংক যেন খারাপ না হয়, সে বিষয়ে জোর তদারকি করতে হবে।
এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল পদ্মা ব্যাংকের একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে এসেছে অতি সম্প্রতি। তবে আরো কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণের আলোচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে পদ্মাসহ ডজনখানেক ব্যাংক একীভূত হতে পারে।
ঝুঁকিতে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১২টির অবস্থা খুবই নাজুক। এর মধ্যে ৯টি রেড জোনে চলে গেছে। অপর ৩টি রেড জোনের খুব কাছাকাছি থাকলেও তাদের অবস্থান ইয়েলো জোনে। এর বাইরে আরো ২৬টি ইয়েলো জোনে অবস্থান করছে। অন্যদিকে মাত্র ১৬টি ব্যাংক গ্রিন জোনে স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ৮টিই বিদেশি ব্যাংক। অর্থাৎ গ্রিন জোনে দেশীয় ব্যাংকের সংখ্যা মাত্র ৮টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিচারে রেড জোনের ব্যাংকগুলো সবচেয়ে খারাপ এবং ইয়েলো জোনের ব্যাংকগুলো দুর্বল। আর গ্রিন জোনের ব্যাংকগুলো ভালো মানের।
সূত্র জানায়, কোনো ব্যাংক অপর ব্যাংকে মার্জার (একীভূত) করতে হলে তিন সংস্থার (বাংলাদেশ ব্যাংক, আদালত ও বিএসইসি) সমন্বয়ে লাগে। দেশের কোনো ব্যাংক এখনো দেউলিয়া হয়নি। ব্যাংকের পর্যায়ে কাজ শেষ হলে আদালত এবং বিএসইসির কিছু কাজ আছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা করবে। এরপর থেকে তারা একত্রে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এ প্রক্রিয়ার পরেই পদ্মা ব্যাংকের আমানতকারীরা এক্সিম ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারবেন।
বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন ব্যাংকের এমন পরিস্থিতিতে দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, মাত্র এক ব্যাংক একীভূত হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে বেশে কিছু ব্যাংক এমন পরিস্থিতিতে যেতে পারে। তবে দুর্বল ব্যাংক সবল ব্যাংকে একীভূত হলে যেমন ভালো দিক আছে তেমনি খারাপ দিকও আছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংককে আশ্রয় দিলে সবল ব্যাংকগুলোও অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই অর্থনীতিবিদ আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি নির্ধারকরা যেভাবে সিদ্ধান্ত নেন সেভাবেই হবে। তবে সামনে এর প্রভাব কি হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, দুর্বল ব্যাংক সবল ব্যাংকে একীভূত হচ্ছে এটা ইতিবাচক। এতে ডিপোজিটার ও এমপ্লিফায়ারা ঝুঁকি থেকে বেঁচে যাবে। পদ্মা-এক্সিমের বিষয়ে তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলা আছে। তবে গ্রাহকের আমানত ও কর্মকর্তাদের স্বার্থ কতটুকু রক্ষা হয় তা ভবিষ্যতে বলা যাবে।