০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ধানমন্ডির ভবনে ও ডেমরায় কাপড়ের গোডাউনে আগুন

♦️  ডেমরায় আগুন লাগা ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ : ফায়ার সার্ভিস
♦️  নেই হতাহত-ক্ষয়ক্ষতির খবর

 

রাজধানীর অভিজাত এলাকা ধানমন্ডির একটি বহুতল ভবন ও ডেমরার ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় একটি কাপড়ের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ সময় অজনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়ে পৃথক দুটি ঘটনার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। ডেমরার ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় লাগা ভবন পরিদর্শন শেষে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। তবে পৃথক এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডেমরার ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় একটি চারতলা ভবনের তিনতলায় কাপড়ের গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহুর্তের মুধ্যে পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার মুহুর্তেই অনেকেই ভবন থেকে রাস্তায় বেরিয়ে নিরাপদে আশ্রয় গ্রহণ করেন। খবর পেয়ে একে একে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে নৌবাহিনীর দুটি ইউনিটও তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আগুন নেভানোর কাজ করে। টানা ৮ ঘন্টার চেষ্টায় গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটার ও নৌবাহিনীর দুটি ইউনিট। আগুন নেভাতে তাদের সহযোগিতা করেছে পুলিশ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় চারতলা ভবনটির তিনতলায় কাপড়ের গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়ে চার তলাসহ অন্যান্য ফ্লোরেও ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে প্রথমে ডেমরা, পোস্তগোলা ও সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আরও ৫টি ইউনিট যোগ দেয়। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, কাছাকাছি পানি না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে বলে জানান তিনি। তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের কোনো খবর জানাতে পারেননি তালহা বিন জসিম।

এদিকে গতকাল শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ডেমরার ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় আগুনে পোড়া ওই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ইনসিডেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, আমরা ভবনটির ভেতরে প্রবেশ করে দেখেছি, যে অবকাঠামোগত স্ট্রেংথ সেটা আর নেই। এক জায়গায় ছাদ ফেটে গেছে। ভবনটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।

ডেমরার ভাঙ্গাপ্রেস এলাকার এই ভবনটি কোনো ধরনের নীতিমালা না মেনে নির্মাণ করা হয়েছে জানিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রেজাউল করিম বলেন, ভবনটিতে নেই ফায়ার এক্সিট, ভেতরে ঢোকার সিঁড়িও খুবই সংকীর্ণ। পাশের অন্য ভবন থেকে পানি দেওয়ার সুব্যবস্থাও নেই, কারণ ভবনগুলো সব লাগোয়া। ভবনটির নিচে নেই নিজস্ব কোনো ওয়াটার রিজার্ভ। তিনি বলেন, সেখানকার ভবনগুলো পাশাপাশি, ঘন ঘন ও লাগোয়াভাবে। আগুন লাগা ভবনটির ঠিক পূর্ব পাশের ভবনটিও লাগোয়া। একই দেয়াল, এক ইঞ্চিও ফাঁকা নাই। যে কারণে ভবনটির পূর্ব পাশ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে পানি দেওয়াসহ কোনো কাজ করতে পারে নাই ফায়ার সার্ভিস। তারা ভবনটির নিচে কোনো রিজার্ভ ওয়াটার পায়নি।

অপরদিকে গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে রাফা প্লাজার বিপরীতে একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্ষম হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, গতকাল বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিটে ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডের রাফা প্লাজার বিপরীতে সপ্তক স্কয়ারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর তাৎক্ষণিক দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। অপর একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই আগুন নিভে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, দুটি ভবনের মাঝে বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধানমন্ডির ভবনে ও ডেমরায় কাপড়ের গোডাউনে আগুন

আপডেট সময় : ০৫:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০২৪

♦️  ডেমরায় আগুন লাগা ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ : ফায়ার সার্ভিস
♦️  নেই হতাহত-ক্ষয়ক্ষতির খবর

 

রাজধানীর অভিজাত এলাকা ধানমন্ডির একটি বহুতল ভবন ও ডেমরার ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় একটি কাপড়ের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ সময় অজনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়ে পৃথক দুটি ঘটনার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। ডেমরার ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় লাগা ভবন পরিদর্শন শেষে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। তবে পৃথক এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডেমরার ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় একটি চারতলা ভবনের তিনতলায় কাপড়ের গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহুর্তের মুধ্যে পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার মুহুর্তেই অনেকেই ভবন থেকে রাস্তায় বেরিয়ে নিরাপদে আশ্রয় গ্রহণ করেন। খবর পেয়ে একে একে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে নৌবাহিনীর দুটি ইউনিটও তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আগুন নেভানোর কাজ করে। টানা ৮ ঘন্টার চেষ্টায় গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটার ও নৌবাহিনীর দুটি ইউনিট। আগুন নেভাতে তাদের সহযোগিতা করেছে পুলিশ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় চারতলা ভবনটির তিনতলায় কাপড়ের গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়ে চার তলাসহ অন্যান্য ফ্লোরেও ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে প্রথমে ডেমরা, পোস্তগোলা ও সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আরও ৫টি ইউনিট যোগ দেয়। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, কাছাকাছি পানি না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে বলে জানান তিনি। তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের কোনো খবর জানাতে পারেননি তালহা বিন জসিম।

এদিকে গতকাল শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ডেমরার ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় আগুনে পোড়া ওই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ইনসিডেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, আমরা ভবনটির ভেতরে প্রবেশ করে দেখেছি, যে অবকাঠামোগত স্ট্রেংথ সেটা আর নেই। এক জায়গায় ছাদ ফেটে গেছে। ভবনটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।

ডেমরার ভাঙ্গাপ্রেস এলাকার এই ভবনটি কোনো ধরনের নীতিমালা না মেনে নির্মাণ করা হয়েছে জানিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রেজাউল করিম বলেন, ভবনটিতে নেই ফায়ার এক্সিট, ভেতরে ঢোকার সিঁড়িও খুবই সংকীর্ণ। পাশের অন্য ভবন থেকে পানি দেওয়ার সুব্যবস্থাও নেই, কারণ ভবনগুলো সব লাগোয়া। ভবনটির নিচে নেই নিজস্ব কোনো ওয়াটার রিজার্ভ। তিনি বলেন, সেখানকার ভবনগুলো পাশাপাশি, ঘন ঘন ও লাগোয়াভাবে। আগুন লাগা ভবনটির ঠিক পূর্ব পাশের ভবনটিও লাগোয়া। একই দেয়াল, এক ইঞ্চিও ফাঁকা নাই। যে কারণে ভবনটির পূর্ব পাশ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে পানি দেওয়াসহ কোনো কাজ করতে পারে নাই ফায়ার সার্ভিস। তারা ভবনটির নিচে কোনো রিজার্ভ ওয়াটার পায়নি।

অপরদিকে গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে রাফা প্লাজার বিপরীতে একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্ষম হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, গতকাল বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিটে ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডের রাফা প্লাজার বিপরীতে সপ্তক স্কয়ারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর তাৎক্ষণিক দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। অপর একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই আগুন নিভে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, দুটি ভবনের মাঝে বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার।