০৯:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উপজেলায় এমপিদের হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ আ.লীগ প্রার্থীদের

 

⏺ হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে -না কাদের

 

 

 

আগামী ৮ মে হতে যাচ্ছে উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচন। প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ১৫২টি উপজেলা পরিষদের ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে নিয়ে অন্যদলগুলোর মধ্যে খুব বেশি উৎসাহ না দেখা গেলেও চাঙ্গা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের তৃণমূল। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ন্যায় উপজেলাতেও উন্মুক্ত নির্বাচনের কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে থাকছে না দলীয় প্রতীক। মূলত নির্বাচন অংশগ্রহণ মূলক করতেই এমন সিদ্ধান্ত দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামের। তবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নৌকা ও দলের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রর্থীদের কর্মী-সমর্তকদের মধ্যে সংঘর্ষ সংঘাতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে উপজেলা নির্বাচনেও। যা ভাবাচ্ছে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও। তবে এমন পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা আরো উসকে দিচ্ছে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। বিশেষ করে অধিকাংশ স্থানে দ¦াদশ জাতয়ি নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্যরা ও পরাজিত আওয়ামী লীগ নেতারা উপজেলা নির্বাচনের জন্য পছন্দের প্রার্থী বাছাই করছেন ও সমর্থন দিচ্ছেন।
দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সূত্রে জানা যায়, মূলত জাতীয় নির্বাচনের পরেও সংঘাত ও সংঘর্ষের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উপজেলায় নৌকা না রাখার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এটা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত। তবে কিছু আসনে থাকবে ব্যতিক্রমও। বিএনপির তৃণমূলের নেতারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন এমন শঙ্কা থেকেই মূলত এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদি বিএনপির কেউ না থাকে সেসব উপজেলায় থাকবে দলের একাধিক প্রার্থী। বিশৃঙ্খলা এড়াতে জেলার নেতারা কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় নেতারা তা করে দিবে। আর যেখানে গ্রুপিং আছে, নেতারা একজোট হবে না; সেখানে দুই পক্ষ থেকেই স্থানীয় নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে।

 

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ দলীয় ও স্বতন্ত্র এমপি, মন্ত্রী ও দলের প্রভাবশালী নেতারা নির্বাচনী এলাকার উপজেলাগুলোতে নিজ নিজ প্রভাব ধরে রাখতে পছন্দে নেতাকে উপজেলায় প্রার্থী করে জিতিয়ে আনতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

 

সম্প্রতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের জন্য আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে দুইজনের নাম ঘোষণা করেছেন। গত মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান বলেন, আগামী উপজেলা নির্বাচনে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা দল থেকে, আওয়ামী লীগ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক ত্যাগী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব তালুকদারকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। এছাড়া ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. ইউসুফ আলীকে দল থেকে মনোনীত করেছি। এই ঘোষণা দিয়ে তিনি উপস্থিত সবার সামনে ওই দুইজনকে পরিচয় করিয়ে দেন।

 

এ ছাড়াও দ্বাদশ জাতীংয় সংসদ নির্বাচনে সৃষ্ট কোন্দলের রেশ এখনও তৃণমূলে রয়ে গেছে। জাতীয় নির্বাচনের প্রায় আড়াই মাস পার হলেও এখনো বিভিন্ন স্থানে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা নির্বাচনে এমপিদের এমন হস্তক্ষেপ ভাবাচ্ছে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামকেও।

সর্বশেষ গত ১৬ মার্চ বরিশালের হিজলায় বরিশাল-৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি পংকজ নাথ এবং সংরক্ষিত আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদের সমর্থকদের দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে দলীয় বিভেদের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২১ মার্চ কৃষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে দলেরই আরেক নেতাকে তুলে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

এমন পরিস্থিতির মাঝেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনে এমপিরা নিজের লোক জেতাতে প্রভাব বিস্তার করলে দল কোনোভাবেই তা মেনে নেবে না। আপনাদের অনুরোধে উপজেলা নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এর আগে আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে নৌকা দিয়েছি। এবার উন্মুক্ত করে দিয়েছি। কতটা প্রতিযোগিতামূলক, কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে দেখা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মা নিজেই নদীতে ফেলার ঘটনা স্বীকার, শিশু জীবিত উদ্ধার

উপজেলায় এমপিদের হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ আ.লীগ প্রার্থীদের

আপডেট সময় : ০৫:৫০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪

 

⏺ হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে -না কাদের

 

 

 

আগামী ৮ মে হতে যাচ্ছে উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচন। প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ১৫২টি উপজেলা পরিষদের ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে নিয়ে অন্যদলগুলোর মধ্যে খুব বেশি উৎসাহ না দেখা গেলেও চাঙ্গা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের তৃণমূল। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ন্যায় উপজেলাতেও উন্মুক্ত নির্বাচনের কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে থাকছে না দলীয় প্রতীক। মূলত নির্বাচন অংশগ্রহণ মূলক করতেই এমন সিদ্ধান্ত দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামের। তবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নৌকা ও দলের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রর্থীদের কর্মী-সমর্তকদের মধ্যে সংঘর্ষ সংঘাতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে উপজেলা নির্বাচনেও। যা ভাবাচ্ছে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও। তবে এমন পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা আরো উসকে দিচ্ছে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। বিশেষ করে অধিকাংশ স্থানে দ¦াদশ জাতয়ি নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্যরা ও পরাজিত আওয়ামী লীগ নেতারা উপজেলা নির্বাচনের জন্য পছন্দের প্রার্থী বাছাই করছেন ও সমর্থন দিচ্ছেন।
দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সূত্রে জানা যায়, মূলত জাতীয় নির্বাচনের পরেও সংঘাত ও সংঘর্ষের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উপজেলায় নৌকা না রাখার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এটা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত। তবে কিছু আসনে থাকবে ব্যতিক্রমও। বিএনপির তৃণমূলের নেতারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন এমন শঙ্কা থেকেই মূলত এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদি বিএনপির কেউ না থাকে সেসব উপজেলায় থাকবে দলের একাধিক প্রার্থী। বিশৃঙ্খলা এড়াতে জেলার নেতারা কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় নেতারা তা করে দিবে। আর যেখানে গ্রুপিং আছে, নেতারা একজোট হবে না; সেখানে দুই পক্ষ থেকেই স্থানীয় নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে।

 

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ দলীয় ও স্বতন্ত্র এমপি, মন্ত্রী ও দলের প্রভাবশালী নেতারা নির্বাচনী এলাকার উপজেলাগুলোতে নিজ নিজ প্রভাব ধরে রাখতে পছন্দে নেতাকে উপজেলায় প্রার্থী করে জিতিয়ে আনতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

 

সম্প্রতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের জন্য আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে দুইজনের নাম ঘোষণা করেছেন। গত মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান বলেন, আগামী উপজেলা নির্বাচনে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা দল থেকে, আওয়ামী লীগ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক ত্যাগী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব তালুকদারকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। এছাড়া ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. ইউসুফ আলীকে দল থেকে মনোনীত করেছি। এই ঘোষণা দিয়ে তিনি উপস্থিত সবার সামনে ওই দুইজনকে পরিচয় করিয়ে দেন।

 

এ ছাড়াও দ্বাদশ জাতীংয় সংসদ নির্বাচনে সৃষ্ট কোন্দলের রেশ এখনও তৃণমূলে রয়ে গেছে। জাতীয় নির্বাচনের প্রায় আড়াই মাস পার হলেও এখনো বিভিন্ন স্থানে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা নির্বাচনে এমপিদের এমন হস্তক্ষেপ ভাবাচ্ছে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামকেও।

সর্বশেষ গত ১৬ মার্চ বরিশালের হিজলায় বরিশাল-৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি পংকজ নাথ এবং সংরক্ষিত আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদের সমর্থকদের দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে দলীয় বিভেদের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২১ মার্চ কৃষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে দলেরই আরেক নেতাকে তুলে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

এমন পরিস্থিতির মাঝেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনে এমপিরা নিজের লোক জেতাতে প্রভাব বিস্তার করলে দল কোনোভাবেই তা মেনে নেবে না। আপনাদের অনুরোধে উপজেলা নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এর আগে আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে নৌকা দিয়েছি। এবার উন্মুক্ত করে দিয়েছি। কতটা প্রতিযোগিতামূলক, কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে দেখা হবে।