০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

লোকসভা নির্বাচন স্বচ্ছ ভোটে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ৫ দফা দাবি

নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত ইন্ডিয়া জোটের জনসভা মঞ্চে (বাঁ থেকে) কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বলবন্ত সিং মান ও জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুক আবদুল্লাহ।
➤ফিক্সিং ছাড়া বিজেপির জয় সম্ভব না : রাহুল গান্ধী
➤যাবে বিজেপি, থাকবে তৃণমূল : মমতা
‘স্বচ্ছ ও অবাধ’ ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, লোকসভা নির্বাচনে ৪০০ আসন পার করতে আগে থেকেই আম্পায়ার কিনে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপিকে বাংলা থেকে এবং দেশ থেকে দূর করুন। বিজেপির সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করব না। আমাদের পরিষ্কার কথা- বিজেপি যাবে, তৃণমূল থাকবে।
গত রোববার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের কণ্ঠ রোধের অভিযোগ তুলে এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি থেকেই কমিশনের উদ্দেশে পাঁচ দফা দাবির কথা জানায় তারা।
সমাবেশে বিজেপির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় ‘বাধা’ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াংকা গান্ধী। দেশের সবক’টি রাজনৈতিক দল যাতে নির্বাচনে সমান সুযোগ-সুবিধা পায়, সেজন্য বিরোধী জোটের তরফে কমিশনের কাছে পাঁচ  দফা দাবি জানান তিনি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-  লোকসভা ভোট শাসক কিংবা বিরোধী, সব দলের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা থাকার বিষয়টি সুনিশ্চিত করুক নির্বাচন কমিশন। এর পাশাপাশি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে আয়কর দপ্তর, ইডি ও সিবিআই যাতে বিরোধীদের প্রতি দমনমূলক পদক্ষেপ নিতে না পারে, সেদিকে কমিশনকে নজর রাখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
বিরোধী জোটের তরফে ঝাড়খণ্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা জেএমএম নেতা হেমন্ত সোরেন এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বিরোধী দলগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে এসব বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে কমিশনের কাছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ১৮০০ কোটি রুপি চেয়ে আয়কর দপ্তর নোটিস পাঠিয়েছিল কংগ্রেসকে। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ মার্চ আরো তিনটি নোটিস দেওয়া হয়েছে কংগ্রেসকে। বিরোধীদের পাঁচ দাবির মধ্যে এসেছে নির্বাচনি বন্ডের প্রসঙ্গও। বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচনি বন্ডের মাধ্যমে পাওয়া চাঁদার বিনিময়ে অন্যায় করার অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে। বিজেপি ‘প্রতিহিংসার বশে’ কীভাবে বিরোধী দল ও বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনছে, তা-ও ঐ তদন্ত কমিটির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিরোধীদের কণ্ঠ রোধে সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ম্যাচ ফিক্সিং ছাড়া ৪০০ আসন পার সম্ভব নয়। লোকসভা নির্বাচনে ৪০০ আসন পার করতে আগে থেকেই আম্পায়ার কিনে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইভিএম, ম্যাচ ফিক্সিং, সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমকে চাপ না দিলে ১৮০টির বেশি আসন জেতার ক্ষমতা নেই বিজেপির। ক্রিকেটে যখন খেলোয়াড়দের টাকা দেওয়া হয়, আম্পায়ারদের চাপ দেওয়া হয়, অধিনায়কদের ম্যাচ জেতার জন্য বা হারার জন্য হুমকি দেওয়া হয়, সেটাকে বলে ম্যাচ ফিক্সিং। লোকসভা নির্বাচনের ম্যাচের আগে আম্পায়ারদের কিনে নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। আমাদের দলের খেলোয়াড়দের ম্যাচের আগে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে।
এদিকে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সভায় প্রথম বক্তৃতা করতে মঞ্চে ওঠেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী সুনীতা। তারপরই বক্তৃতা করেন হেমন্ত সোরেনের পত্নী কল্পনা। ‘মহাসমাবেশ’-এর অন্যতম আকর্ষণই ছিলেন এই দুই নারী। অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও হেমন্ত সোরেন দু’জনই বন্দি অবস্থায় আছেন। ইডি হেফাজতে আছেন কেজরিওয়াল আর জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলবন্দি আছেন হেমন্ত সোরেন। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে অবশ্য হেমন্ত ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। কিন্তু কেজরিওয়াল এখনও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। সেই দিল্লিতেই বিরোধীরা আবারও একবার ‘ঐক্যবদ্ধ’ হলেন।
‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশের সভায় প্রথম বক্তৃতা করতে মঞ্চে ওঠেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী সুনীতা। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমার স্বামীকে জেলে বন্দি করে রেখেছেন। আপনারা বলুন তো এটা ঠিক? আপনারা বিশ্বাস করেন তো কেজরিওয়াল দেশপ্রেমিক এবং সৎ ব্যক্তি? তাকে বেশি দিন জেলে বন্দি করে রাখা যাবে না। এদিকে কল্পনা বলেন, আমাদের শক্তি দেশের ১৪০ কোটি মানুষ। এনডিএ সরকার বাবা আম্বেদকরের সংবিধান নষ্ট করে দিতে চাচ্ছে। আমরা তা রুখবই। দেশের মানুষের থেকে বড় কোনো শক্তি হয় না। সেই শক্তি আমাদের সঙ্গে আছে। এই জনসমুদ্রই সেটা প্রমাণ করছে। ভারতের লোকতন্ত্র বাঁচাতেই হবে আমাদের।
অন্যদিকে গত রোববার লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার ধুবুলিয়ায় দলের প্রার্থী মহুয়া মৈত্রের সমর্থনে জনসভায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার পুরো ভারতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ জারি করলেও পশ্চিমবঙ্গে কোনোভাবেই এই আইন কার্যকর হতে দেবো না। দেশ আজ ভালো নেই, গণতন্ত্র বিপন্ন। মহিলা, সংখ্যালঘু, দলিত, কৃষকদের ওপর অত্যাচার চলছে। এর মধ্যেই কয়েকদিন আগে সিএএ চালু করেছে। আসলে সিএএ হচ্ছে মাথা। লেজটা হচ্ছে এনআরসি। সিএএ করলেই এনআরসিতে পড়ে যাবেন। যারা আবেদন করবে, তারা বিদেশি হয়ে যাবে ও বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যাবেন, নাগরিকত্ব কেড়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে। ভুলেও আবেদন করবেন না। ২০১৯ সালে এই আইন পাস হয়েছিল। তাহলে এতদিন কেন করল না? কেন বিজেপির লোকেরা এতে আবেদন করছেন না? মোদির গ্যারান্টি জিরো, আমাদের গ্যারান্টি হিরো। মানুষ বঞ্চিত হোক, আমরা চাই না। বাংলায় সিএএ, এনআরসি করতে দেবো না। কাউকে রাজ্য ছাড়া করতে দেবো না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

লোকসভা নির্বাচন স্বচ্ছ ভোটে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ৫ দফা দাবি

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪
নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত ইন্ডিয়া জোটের জনসভা মঞ্চে (বাঁ থেকে) কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বলবন্ত সিং মান ও জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুক আবদুল্লাহ।
➤ফিক্সিং ছাড়া বিজেপির জয় সম্ভব না : রাহুল গান্ধী
➤যাবে বিজেপি, থাকবে তৃণমূল : মমতা
‘স্বচ্ছ ও অবাধ’ ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, লোকসভা নির্বাচনে ৪০০ আসন পার করতে আগে থেকেই আম্পায়ার কিনে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপিকে বাংলা থেকে এবং দেশ থেকে দূর করুন। বিজেপির সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করব না। আমাদের পরিষ্কার কথা- বিজেপি যাবে, তৃণমূল থাকবে।
গত রোববার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের কণ্ঠ রোধের অভিযোগ তুলে এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি থেকেই কমিশনের উদ্দেশে পাঁচ দফা দাবির কথা জানায় তারা।
সমাবেশে বিজেপির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় ‘বাধা’ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াংকা গান্ধী। দেশের সবক’টি রাজনৈতিক দল যাতে নির্বাচনে সমান সুযোগ-সুবিধা পায়, সেজন্য বিরোধী জোটের তরফে কমিশনের কাছে পাঁচ  দফা দাবি জানান তিনি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-  লোকসভা ভোট শাসক কিংবা বিরোধী, সব দলের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা থাকার বিষয়টি সুনিশ্চিত করুক নির্বাচন কমিশন। এর পাশাপাশি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে আয়কর দপ্তর, ইডি ও সিবিআই যাতে বিরোধীদের প্রতি দমনমূলক পদক্ষেপ নিতে না পারে, সেদিকে কমিশনকে নজর রাখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
বিরোধী জোটের তরফে ঝাড়খণ্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা জেএমএম নেতা হেমন্ত সোরেন এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বিরোধী দলগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে এসব বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে কমিশনের কাছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ১৮০০ কোটি রুপি চেয়ে আয়কর দপ্তর নোটিস পাঠিয়েছিল কংগ্রেসকে। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ মার্চ আরো তিনটি নোটিস দেওয়া হয়েছে কংগ্রেসকে। বিরোধীদের পাঁচ দাবির মধ্যে এসেছে নির্বাচনি বন্ডের প্রসঙ্গও। বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচনি বন্ডের মাধ্যমে পাওয়া চাঁদার বিনিময়ে অন্যায় করার অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে। বিজেপি ‘প্রতিহিংসার বশে’ কীভাবে বিরোধী দল ও বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনছে, তা-ও ঐ তদন্ত কমিটির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিরোধীদের কণ্ঠ রোধে সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ম্যাচ ফিক্সিং ছাড়া ৪০০ আসন পার সম্ভব নয়। লোকসভা নির্বাচনে ৪০০ আসন পার করতে আগে থেকেই আম্পায়ার কিনে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইভিএম, ম্যাচ ফিক্সিং, সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমকে চাপ না দিলে ১৮০টির বেশি আসন জেতার ক্ষমতা নেই বিজেপির। ক্রিকেটে যখন খেলোয়াড়দের টাকা দেওয়া হয়, আম্পায়ারদের চাপ দেওয়া হয়, অধিনায়কদের ম্যাচ জেতার জন্য বা হারার জন্য হুমকি দেওয়া হয়, সেটাকে বলে ম্যাচ ফিক্সিং। লোকসভা নির্বাচনের ম্যাচের আগে আম্পায়ারদের কিনে নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। আমাদের দলের খেলোয়াড়দের ম্যাচের আগে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে।
এদিকে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সভায় প্রথম বক্তৃতা করতে মঞ্চে ওঠেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী সুনীতা। তারপরই বক্তৃতা করেন হেমন্ত সোরেনের পত্নী কল্পনা। ‘মহাসমাবেশ’-এর অন্যতম আকর্ষণই ছিলেন এই দুই নারী। অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও হেমন্ত সোরেন দু’জনই বন্দি অবস্থায় আছেন। ইডি হেফাজতে আছেন কেজরিওয়াল আর জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলবন্দি আছেন হেমন্ত সোরেন। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে অবশ্য হেমন্ত ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। কিন্তু কেজরিওয়াল এখনও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। সেই দিল্লিতেই বিরোধীরা আবারও একবার ‘ঐক্যবদ্ধ’ হলেন।
‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশের সভায় প্রথম বক্তৃতা করতে মঞ্চে ওঠেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী সুনীতা। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমার স্বামীকে জেলে বন্দি করে রেখেছেন। আপনারা বলুন তো এটা ঠিক? আপনারা বিশ্বাস করেন তো কেজরিওয়াল দেশপ্রেমিক এবং সৎ ব্যক্তি? তাকে বেশি দিন জেলে বন্দি করে রাখা যাবে না। এদিকে কল্পনা বলেন, আমাদের শক্তি দেশের ১৪০ কোটি মানুষ। এনডিএ সরকার বাবা আম্বেদকরের সংবিধান নষ্ট করে দিতে চাচ্ছে। আমরা তা রুখবই। দেশের মানুষের থেকে বড় কোনো শক্তি হয় না। সেই শক্তি আমাদের সঙ্গে আছে। এই জনসমুদ্রই সেটা প্রমাণ করছে। ভারতের লোকতন্ত্র বাঁচাতেই হবে আমাদের।
অন্যদিকে গত রোববার লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার ধুবুলিয়ায় দলের প্রার্থী মহুয়া মৈত্রের সমর্থনে জনসভায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার পুরো ভারতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ জারি করলেও পশ্চিমবঙ্গে কোনোভাবেই এই আইন কার্যকর হতে দেবো না। দেশ আজ ভালো নেই, গণতন্ত্র বিপন্ন। মহিলা, সংখ্যালঘু, দলিত, কৃষকদের ওপর অত্যাচার চলছে। এর মধ্যেই কয়েকদিন আগে সিএএ চালু করেছে। আসলে সিএএ হচ্ছে মাথা। লেজটা হচ্ছে এনআরসি। সিএএ করলেই এনআরসিতে পড়ে যাবেন। যারা আবেদন করবে, তারা বিদেশি হয়ে যাবে ও বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যাবেন, নাগরিকত্ব কেড়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে। ভুলেও আবেদন করবেন না। ২০১৯ সালে এই আইন পাস হয়েছিল। তাহলে এতদিন কেন করল না? কেন বিজেপির লোকেরা এতে আবেদন করছেন না? মোদির গ্যারান্টি জিরো, আমাদের গ্যারান্টি হিরো। মানুষ বঞ্চিত হোক, আমরা চাই না। বাংলায় সিএএ, এনআরসি করতে দেবো না। কাউকে রাজ্য ছাড়া করতে দেবো না।