০৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিক্ষাবহির্ভূত কাজে ইন্টারনেটের বেশি ব্যবহার স্কুল শিক্ষার্থীদের

এডুকেশন ওয়াচের প্রতিবেদন

🔸প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ৮ শতাংশ ও মাধ্যমিকের ১৭ শতাংশ লেখাপড়ার কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে
🔸ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাথমিকের ৪১ শতাংশ ও মাধ্যমিকের ৫৮ শতাংশ
🔸ইন্টারনেটের অপব্যহার নিয়ে উদ্বেগে বিশেষজ্ঞরা
🔸সংশ্লিষ্টদের শিখন ঘাটতির সঙ্গে পরিবার ও সমাজ স্বাভাবিক আগ্রহ হারাচ্ছে

 

 

দেশে স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ব্যবহার আরও বেশি। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই শিক্ষার কাজে ব্যবহারের জন্য মোবাইল বা কম্পিউটারে ইন্টারনেট সুবিধা নিলেও বাস্তবে শিক্ষাবহির্ভূত কাজেই এর ব্যবহার বেশি করছে। এতে তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও সমাজের মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণের আগ্রহ যেমন হারাচ্ছে তেমনি চারিত্রিকভাবে নষ্টের পথে পা বাড়াচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের এই অপব্যহার নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা বিষেষজ্ঞরা। এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

 

সম্প্রতি গণসাক্ষরতা অভিযান প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বিদ্যালয় শিক্ষা মহামারি-উত্তর টেকসই পুনরুত্থান’ শীর্ষক ‘এডুকেশন ওয়াচ প্রতিবেদন-২০২৩’ এর তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ের ৪১ শতাংশ ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাসায় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এদের বেশিরভাগই স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তবে এই সংখ্যাটি ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রকৃত অবস্থা নির্দেশ করে না। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ ও মাধ্যমিকের ১৭ শতাংশ স্কুলের কাজ বা লেখাপড়া সংক্রান্ত কাজে ইন্টারনেটের ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সূত্রমতে, করোনা মহামারির সময়ে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমের নামে শিক্ষার্থীদের হাতে ইন্টারনেটসহ স্মাটফোন বা কম্পিউটার সুবিধা দিতে বাধ্য হয় অভিভাবকরা। এতে শিক্ষার কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি বিনোদনমূলক ও নানা ধরনের অপব্যবহার শুরু করে সংশ্লিষ্টরা। এই সুবিধা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের যেমন একদিকে বাড়তি খরচের চাপ পড়ে অন্যদিকে সন্তানদের শিক্ষা ও নৈতিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন তারা। পরবর্তীতে গত বছর থেকে চালু হওয়া নতুন শিক্ষাক্রমের নানা কাজে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে অভিভাবকদের উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

 

বিবিএসের সর্বশেষ জরিপ তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে পাঁচ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ও নারী ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ। আগের বছরে এই সংখ্যা ছিল ৪১ দশমিক শূন্য শতাংশ। এরমধ্যে পুরুষ ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ ও নারী ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া পল্লী অঞ্চলের ৪২ দশমিক এক শতাংশ আর শহরের ৫৭ দশমিক এক শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।

 

শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের অপব্যহারের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির কো-চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, শিশুরা হাতে মোবাইল পেলে পড়ালেখার কাজে ব্যবহারের চেয়ে যেদিকে আনন্দ সেদিকেই বেশি যায়। এটা নিয়ে গোটা বিশ^ই চিন্তিত। অনেক বাবা-মা সন্তানদের বায়না এড়াতে হাতে মোবাইল তুলে দেন। এতে তারা কারো সঙ্গে কথাবার্তা বলে না। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ভালো, কিন্তু ইন্টারনেটসহ স্মার্টফোনের এই প্রযুক্তি শিশুদের জন্য অনেকটা মারণাস্ত্র। এটা তাদের খোঁড়া করে দিচ্ছে। এতে তাদের চরিত্রও নষ্ট হচ্ছে।

 

এদিকে শিক্ষায় করোনা মহামারি বিপর্যয়ের অনেক নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এডুকেশন ওয়াচের প্রতিবেদনে। শিখন ও জ্ঞানের ঘাটতি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে-দূরশিক্ষণের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার চ্যালেঞ্জগুলো শিখন ফলাফলে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। কিছু শিক্ষার্থী পাঠ্যক্রমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সংগ্রাম করছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও উৎসাহ ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে শিক্ষকরা উল্লেখ করেছেন।

 

অন্যান্য সমস্যাগুলো ছিল দুর্বল নেটওয়ার্ক বা নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্কের অভাব, শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের আসক্তি, আচরণগত পরিবর্তন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক সুস্থতার সমস্যা। এছাড়াও মহামারি পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো ছিল শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে কম উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণে ঘাটতি। কিছু শিক্ষক ঝরেপড়ার হার বৃদ্ধির বিষয়টি সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষাবহির্ভূত কাজে ইন্টারনেটের বেশি ব্যবহার স্কুল শিক্ষার্থীদের

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪

🔸প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ৮ শতাংশ ও মাধ্যমিকের ১৭ শতাংশ লেখাপড়ার কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে
🔸ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাথমিকের ৪১ শতাংশ ও মাধ্যমিকের ৫৮ শতাংশ
🔸ইন্টারনেটের অপব্যহার নিয়ে উদ্বেগে বিশেষজ্ঞরা
🔸সংশ্লিষ্টদের শিখন ঘাটতির সঙ্গে পরিবার ও সমাজ স্বাভাবিক আগ্রহ হারাচ্ছে

 

 

দেশে স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ব্যবহার আরও বেশি। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই শিক্ষার কাজে ব্যবহারের জন্য মোবাইল বা কম্পিউটারে ইন্টারনেট সুবিধা নিলেও বাস্তবে শিক্ষাবহির্ভূত কাজেই এর ব্যবহার বেশি করছে। এতে তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও সমাজের মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণের আগ্রহ যেমন হারাচ্ছে তেমনি চারিত্রিকভাবে নষ্টের পথে পা বাড়াচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের এই অপব্যহার নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা বিষেষজ্ঞরা। এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

 

সম্প্রতি গণসাক্ষরতা অভিযান প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বিদ্যালয় শিক্ষা মহামারি-উত্তর টেকসই পুনরুত্থান’ শীর্ষক ‘এডুকেশন ওয়াচ প্রতিবেদন-২০২৩’ এর তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ের ৪১ শতাংশ ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাসায় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এদের বেশিরভাগই স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তবে এই সংখ্যাটি ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রকৃত অবস্থা নির্দেশ করে না। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ ও মাধ্যমিকের ১৭ শতাংশ স্কুলের কাজ বা লেখাপড়া সংক্রান্ত কাজে ইন্টারনেটের ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সূত্রমতে, করোনা মহামারির সময়ে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমের নামে শিক্ষার্থীদের হাতে ইন্টারনেটসহ স্মাটফোন বা কম্পিউটার সুবিধা দিতে বাধ্য হয় অভিভাবকরা। এতে শিক্ষার কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি বিনোদনমূলক ও নানা ধরনের অপব্যবহার শুরু করে সংশ্লিষ্টরা। এই সুবিধা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের যেমন একদিকে বাড়তি খরচের চাপ পড়ে অন্যদিকে সন্তানদের শিক্ষা ও নৈতিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন তারা। পরবর্তীতে গত বছর থেকে চালু হওয়া নতুন শিক্ষাক্রমের নানা কাজে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে অভিভাবকদের উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

 

বিবিএসের সর্বশেষ জরিপ তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে পাঁচ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ও নারী ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ। আগের বছরে এই সংখ্যা ছিল ৪১ দশমিক শূন্য শতাংশ। এরমধ্যে পুরুষ ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ ও নারী ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া পল্লী অঞ্চলের ৪২ দশমিক এক শতাংশ আর শহরের ৫৭ দশমিক এক শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।

 

শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের অপব্যহারের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির কো-চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, শিশুরা হাতে মোবাইল পেলে পড়ালেখার কাজে ব্যবহারের চেয়ে যেদিকে আনন্দ সেদিকেই বেশি যায়। এটা নিয়ে গোটা বিশ^ই চিন্তিত। অনেক বাবা-মা সন্তানদের বায়না এড়াতে হাতে মোবাইল তুলে দেন। এতে তারা কারো সঙ্গে কথাবার্তা বলে না। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ভালো, কিন্তু ইন্টারনেটসহ স্মার্টফোনের এই প্রযুক্তি শিশুদের জন্য অনেকটা মারণাস্ত্র। এটা তাদের খোঁড়া করে দিচ্ছে। এতে তাদের চরিত্রও নষ্ট হচ্ছে।

 

এদিকে শিক্ষায় করোনা মহামারি বিপর্যয়ের অনেক নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এডুকেশন ওয়াচের প্রতিবেদনে। শিখন ও জ্ঞানের ঘাটতি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে-দূরশিক্ষণের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার চ্যালেঞ্জগুলো শিখন ফলাফলে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। কিছু শিক্ষার্থী পাঠ্যক্রমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সংগ্রাম করছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও উৎসাহ ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে শিক্ষকরা উল্লেখ করেছেন।

 

অন্যান্য সমস্যাগুলো ছিল দুর্বল নেটওয়ার্ক বা নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্কের অভাব, শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের আসক্তি, আচরণগত পরিবর্তন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক সুস্থতার সমস্যা। এছাড়াও মহামারি পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো ছিল শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে কম উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণে ঘাটতি। কিছু শিক্ষক ঝরেপড়ার হার বৃদ্ধির বিষয়টি সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।