০৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বৃষ্টির দেখা নেই রংপুর বিভাগের আট জেলায়

বৃষ্টির দেখা নেই রংপুর বিভাগের আট জেলায়। এতে বোরো ধান এবং অন্যান্য ফসল পুরোপুরি সেচনির্ভর হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফসলের ক্ষেত ফেটে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত সেচযন্ত্র ব্যবহারের ফলে কৃষকদের বাড়তি খরচ বইতে হচ্ছে। এছাড়া ভূগর্ভের পানির স্তরও নেমে যাচ্ছে। ফলে খরার ঝুঁকিতে পড়েছে রংপুর অ ল। এমন পরিস্থিতিতে চাষাবাদেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে কৃষকরা। জানা যায়, রংপুর নগরীর তামপাট, মাহিগঞ্জ, মর্ডাণ, দর্শনা, সাতমাথা, কেরানিরহাট, তপোধন, বাহার কাছনাসহ জেলার মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, কাউনিয়া, হারাগাছ, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া উপজেলা, লালমনিরহাটের আদিতমারি, ভাদাই, বড়কমলাবাড়ি, ভেলাবাড়ি, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, বিন্দ্যানন্দ, চাকিরপশার, নাজিমখান, উলিপুরের হাতিয়া, দলদলিয়া, গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, গোবিন্দগঞ্জ, ফুলছড়ি, পলাশবাড়ী, সাঘাটা, নীলফামারী জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ বিভাগের আট জেলায় বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক চাষ হয়েছে। সময় মতো বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছে। পানির অভাবে অনেক স্থানে ক্ষেত ফেটে গেছে। তার পরও ফসল রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। সেচের মাধ্যমে পানি দিতে গিয়ে তাদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফসল বিক্রয় করে সেই টাকা তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তাায় তারা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিযনের সীচা গ্রামের কৃষক নুরুন্নবী মিয়া বলেন, বোরো চাষ লাভজনক। কিন্তু সময় মতো বৃষ্টি না হওয়ায় হতাশ। খরচও অনেক বেড়েছে। উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা জানি না। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা এরাকার কৃষক এমদাদুল হক বলেন, সময় মতো বোরো ধানেরজমিতে পানি দিতে না পারায় এবার ফসল ভালো হবে না। কৃষি বিশ্লেষকরা বলেন, সেচযন্ত্র দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ভুগর্ভস্থ পানির উপর চাপ বেড়েই চলছে। সামনে খরার ঝুঁকিতে পড়তে পারে রংপুর অ ল। চাষাবাদেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রংপুর অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, অন্যান্য বছর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কিছু বৃষ্টি হলেও গত সাড়ে পাঁচ মাসের মধ্যে শুধু মার্চে বৃষ্টি হয়েছে ৯৮ মিলিমিটার। তাও স্বাভাবিকের চেয়ে কম। কবে নাগাদ বৃষ্টি হবে তাও বলা যাচ্ছে না। এদিকে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ রংপুর নগরীসহ উত্তরা লের জনজীবন। কয়েক দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। অসহনীয় গরমে হাঁসফাঁস করছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

আবারো কমলো সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার

বৃষ্টির দেখা নেই রংপুর বিভাগের আট জেলায়

আপডেট সময় : ১১:৫৯:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

বৃষ্টির দেখা নেই রংপুর বিভাগের আট জেলায়। এতে বোরো ধান এবং অন্যান্য ফসল পুরোপুরি সেচনির্ভর হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফসলের ক্ষেত ফেটে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত সেচযন্ত্র ব্যবহারের ফলে কৃষকদের বাড়তি খরচ বইতে হচ্ছে। এছাড়া ভূগর্ভের পানির স্তরও নেমে যাচ্ছে। ফলে খরার ঝুঁকিতে পড়েছে রংপুর অ ল। এমন পরিস্থিতিতে চাষাবাদেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে কৃষকরা। জানা যায়, রংপুর নগরীর তামপাট, মাহিগঞ্জ, মর্ডাণ, দর্শনা, সাতমাথা, কেরানিরহাট, তপোধন, বাহার কাছনাসহ জেলার মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, কাউনিয়া, হারাগাছ, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া উপজেলা, লালমনিরহাটের আদিতমারি, ভাদাই, বড়কমলাবাড়ি, ভেলাবাড়ি, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, বিন্দ্যানন্দ, চাকিরপশার, নাজিমখান, উলিপুরের হাতিয়া, দলদলিয়া, গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, গোবিন্দগঞ্জ, ফুলছড়ি, পলাশবাড়ী, সাঘাটা, নীলফামারী জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ বিভাগের আট জেলায় বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক চাষ হয়েছে। সময় মতো বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছে। পানির অভাবে অনেক স্থানে ক্ষেত ফেটে গেছে। তার পরও ফসল রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। সেচের মাধ্যমে পানি দিতে গিয়ে তাদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফসল বিক্রয় করে সেই টাকা তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তাায় তারা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিযনের সীচা গ্রামের কৃষক নুরুন্নবী মিয়া বলেন, বোরো চাষ লাভজনক। কিন্তু সময় মতো বৃষ্টি না হওয়ায় হতাশ। খরচও অনেক বেড়েছে। উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা জানি না। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা এরাকার কৃষক এমদাদুল হক বলেন, সময় মতো বোরো ধানেরজমিতে পানি দিতে না পারায় এবার ফসল ভালো হবে না। কৃষি বিশ্লেষকরা বলেন, সেচযন্ত্র দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ভুগর্ভস্থ পানির উপর চাপ বেড়েই চলছে। সামনে খরার ঝুঁকিতে পড়তে পারে রংপুর অ ল। চাষাবাদেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রংপুর অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, অন্যান্য বছর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কিছু বৃষ্টি হলেও গত সাড়ে পাঁচ মাসের মধ্যে শুধু মার্চে বৃষ্টি হয়েছে ৯৮ মিলিমিটার। তাও স্বাভাবিকের চেয়ে কম। কবে নাগাদ বৃষ্টি হবে তাও বলা যাচ্ছে না। এদিকে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ রংপুর নগরীসহ উত্তরা লের জনজীবন। কয়েক দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। অসহনীয় গরমে হাঁসফাঁস করছে শিশু ও বৃদ্ধরা।