০১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাগজে সীমাবদ্ধ ঢাকার যানজট নিরসনের নির্দেশনা

➤আইন ও নির্দেশনা থাকলেও কার্যকারিতা নেই
➤আইন প্রয়োগ সহজ করতে সামগ্রিক পরিকল্পনা করতে হবে : ড. হাদিউজ্জামান

রাজধানীতে যানজট কমাতে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও আদতে তা বাস্তবায়ন হয়নি কখনোই। গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়কে রিকশাচলাচল ও যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ, সিএনজি চালিত অটোরিকশার জন্য আলাদা লেন তৈরি এবং সড়কের মোড়ে মোড়ে গণপরিবহন না থামার জন্য আইন ও নির্দেশনা থাকলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি। সবই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।

ঈদের ছুটির পর থেকে অনেকটায় ফাঁকা রাজধানী ঢাকার সড়কগুলো। নেই চিরচেনা তীব্র যানজট। অল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে স্বস্তি প্রকাশ করছেন সবাই। বিশেষ করে চলমান দাবদাহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকলে আরও দুর্ভোগ বাড়তো নগরবাসীর। তবে আগামী রোববার থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর চিরচেনারূপে ফিরতে পারে রাজধানীর সড়কগুলো। রাজধানীবাসীর তাই দাবি যানজট নিরসনে স্থায়ী পদক্ষেপের।

বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটও রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি নিয়ে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। ২০২২ সালে তা কমে হয় ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারে। অর্থাৎ দেড় দশকে রাজধানীতে যানবাহন চলাচলের গতি কমেছে ঘণ্টায় ১৬ কিলোমিটারের মতো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর যানজট কমাতে প্রথমেই শৃঙ্খলায় আনতে হবে গণপরিবহনকে। দখলমুক্ত করতে হবে সব ফুটপাত। পাশাপাশি ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি। এছাড়া নতুন প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ট্রাফিক আইন ও সড়কের ব্যবহার নিয়ে স্কুলের পাঠ্যবইয়ে বিশেষ অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে তারা। এছাড়া মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো আধুনিক অবকাঠামো বিস্তৃত করার পরামর্শও তাদের।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও পরিবহন গবেষক অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, আমাদের নীতি নির্ধারণী দায়িত্বে যারা আছেন তাদের পরিকল্পনায় ত্রুটি আছে, পরিকল্পনাগুলো বিক্ষিপ্তভাবে করা হয়। যেমন যখন একটা সিএনজিকে অনুমোদন দেওয়া হয়, তার পার্কিং প্লেসও নির্দিষ্ট করতে হবে, কোথায় দাঁড়াতে পারবে বা পারবে না চিহ্নিত করে দিতে হবে। তখন আইন প্রয়োগ ও মানতে সহজ হবে। শুধু যানবাহন নয় সব পরিবহনের ক্ষেত্রেই সামগ্রিক চিন্তা করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিবিতে শুরু হলো প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতের প্রদর্শনী

কাগজে সীমাবদ্ধ ঢাকার যানজট নিরসনের নির্দেশনা

আপডেট সময় : ০৪:২২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

➤আইন ও নির্দেশনা থাকলেও কার্যকারিতা নেই
➤আইন প্রয়োগ সহজ করতে সামগ্রিক পরিকল্পনা করতে হবে : ড. হাদিউজ্জামান

রাজধানীতে যানজট কমাতে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও আদতে তা বাস্তবায়ন হয়নি কখনোই। গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়কে রিকশাচলাচল ও যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ, সিএনজি চালিত অটোরিকশার জন্য আলাদা লেন তৈরি এবং সড়কের মোড়ে মোড়ে গণপরিবহন না থামার জন্য আইন ও নির্দেশনা থাকলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি। সবই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।

ঈদের ছুটির পর থেকে অনেকটায় ফাঁকা রাজধানী ঢাকার সড়কগুলো। নেই চিরচেনা তীব্র যানজট। অল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে স্বস্তি প্রকাশ করছেন সবাই। বিশেষ করে চলমান দাবদাহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকলে আরও দুর্ভোগ বাড়তো নগরবাসীর। তবে আগামী রোববার থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর চিরচেনারূপে ফিরতে পারে রাজধানীর সড়কগুলো। রাজধানীবাসীর তাই দাবি যানজট নিরসনে স্থায়ী পদক্ষেপের।

বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটও রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি নিয়ে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। ২০২২ সালে তা কমে হয় ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারে। অর্থাৎ দেড় দশকে রাজধানীতে যানবাহন চলাচলের গতি কমেছে ঘণ্টায় ১৬ কিলোমিটারের মতো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর যানজট কমাতে প্রথমেই শৃঙ্খলায় আনতে হবে গণপরিবহনকে। দখলমুক্ত করতে হবে সব ফুটপাত। পাশাপাশি ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি। এছাড়া নতুন প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ট্রাফিক আইন ও সড়কের ব্যবহার নিয়ে স্কুলের পাঠ্যবইয়ে বিশেষ অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে তারা। এছাড়া মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো আধুনিক অবকাঠামো বিস্তৃত করার পরামর্শও তাদের।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও পরিবহন গবেষক অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, আমাদের নীতি নির্ধারণী দায়িত্বে যারা আছেন তাদের পরিকল্পনায় ত্রুটি আছে, পরিকল্পনাগুলো বিক্ষিপ্তভাবে করা হয়। যেমন যখন একটা সিএনজিকে অনুমোদন দেওয়া হয়, তার পার্কিং প্লেসও নির্দিষ্ট করতে হবে, কোথায় দাঁড়াতে পারবে বা পারবে না চিহ্নিত করে দিতে হবে। তখন আইন প্রয়োগ ও মানতে সহজ হবে। শুধু যানবাহন নয় সব পরিবহনের ক্ষেত্রেই সামগ্রিক চিন্তা করতে হবে।