০৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জনশক্তি রপ্তানিতে অশনিসংকেত

➤এ বছর বৈদেশিক কর্মসংস্থান অনেক কমেছে
➤ বন্ধের পথে দ্বিতীয় বৃহত্তম মালয়েশিয়ার বাজার
➤প্রত্যাশিত কাজ না পেয়ে ফিরছেন অনেকে
➤শ্রমিক রপ্তানিতে এখনো শীর্ষে সৌদি আরবই
➤মালয়েশিয়ায় শোষিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের রক্ষায় জাতিসংঘের আহ্বান

দীর্ঘদিন ধরে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে প্রবাসী কর্মীরা। স্বাধীনতা পরবর্তী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় দেড় কোটি কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে নানা কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই জনশক্তি রপ্তানি খাতে অশনিসংকেত দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন বিদেশে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা ও রেমিট্যান্স আসা অনেক কমেছে, অন্যদিকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার মতো দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার। এছাড়া কাক্সিক্ষত চাকরি ও সুযোগ সুবিধা না পেয়ে বিভিন্ন দেশে যাওয়া শ্রমিকদের অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কষ্ট সইতে না পেরে অনেকে আবার দেশে ফিরে আসছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ায় শোষণের শিকার বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অবশ্যই রক্ষা করতে হবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অন্তর্গত প্রতিষ্ঠান জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ওয়েবসাইটে জনশক্তি রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ১৬৮টি দেশের তালিকা থাকলেও বাস্তবে বর্তমানে হাতে গোনা ৮/১০টি দেশে বেশি কর্মী যাচ্ছে। এর মধ্যেও আবার দীর্ঘদিন ধরে সবার শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়ার বাজার প্রায় ৫ বছর বন্ধের পর চালুর দেড় বছরের মাথায় ফের বন্ধ হওয়ার পথে। অন্যদিকে তেমন নতুন কোনো কোনো বাজার চালু হচ্ছে না। ব্যাপক চাহিদা থাকলেও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠাতে পারছে না বাংলাদেশ। ফলে শ্রমিক রপ্তানির আগের গতি ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএমইটির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সর্বাধিক ১৩ লাখ ৫ হাজার ৪৫৩ জনের কর্মসংস্থান হয়েছিল। সে হিসেবে ওই বছর প্রতি মাসে যেখানে ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি কর্মী বিদেশে গিয়েছিলেন, সেখানে চলতি বছরের গত তিন মাসে গেছেন মাত্র ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩৭ জন। আর এ বছর মোট বিদেশে যাওয়া শ্রমিকদের ৫৭ শতাংশ তথা ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৩৫ জন গেছেন সৌদি আরবে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ায় গেছেন ২৬ হাজার ৮৫০ জন (১১ শতাংশ)। এরপরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ শতাংশ, কাতারে ৬ শতাংশ, কুয়েতে ৩ শতাংশ, জর্ডানে ২ শতাংশ, ইংল্যান্ড ও লেবাননে ১ শতাংশ করে এবং বাকি বিভিন্ন দেশে গেছেন ৪ শতাংশ কর্মী। এ বছরের জানুয়ারিতে ৮৭ হাজার ৮৫২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৭৪ হাজার ৩০৬ জন এবং মার্চে ৭৪ হাজার ৬৭৯ জন গেছেন। চলতি মাসের পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি, তবে এ মাসে শ্রমিক রপ্তানির গতি আরো কম বলে আভাস পাওয়া গেছে।

প্রবাসীকর্মীদের সমস্যা সম্পর্কে সম্প্রতি মালয়েশিয়া ফেরত একজন কর্মী সবুজ বাংলাকে বলেন, দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের দুর্ভোগ-দুর্দশার শেষ নেই। নেপাল-মিয়ানমার থেকে যেসব কর্মী মালয়েশিয়ায় যায় তারা সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কাজের ভিসা নিয়ে বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে নিয়োগ পান। তাদের কেউ বেকার বা রাস্তায় ঘুরতে দেখা যায় না। অথচ বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় আসার পর কুয়ালালামপুরে কিছু দিন রাখার পর কনস্ট্রাকশন ভিসা লাগিয়ে বলে কাজ খুঁজে নাও। এরপর সবাই মহাবিপদে পড়ে। অনেকে রাস্তায় রাস্তায় দিন কাটায় আর মালয়েশিয়ান পুলিশের ঝামেলায় পড়েন।

জানা গেছে, মালয়েশিয়া সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর কোনো বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন অনুমোদন করা হবে না। যারা অনুমোদন পেয়েছে তাদের কর্মীদের ৩১ মার্চের মধ্যে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। যারা ভিসা নিয়েছে বা নেবে, তাদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের শেষ সময় আগামী ৩১ মে।
কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণার জন্য দুই দেশের চক্রই জড়িত বলেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনাহ মো. হাশিম। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। হাইকমিশনার বলেন, সমস্যার কারণ সিন্ডিকেট, যারা এখানে ও মালয়েশিয়ায় সক্রিয়।
বিএমইটি তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় ২০২২ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ১৬ হাজার ১২৫ জন শ্রমিক গিয়েছে। তাদের মধ্যে এখন বেকার, বেতনহীন ও কম বেতনে চাকরি করা কর্মী অন্তত এক লাখ।

মালয়েশিয়ায় শোষণের শিকার বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অবশ্যই রক্ষা করতে হবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার সংস্থাটির জেনেভা থেকে পাঠানো ওই বিবৃতিতে দেশটিতে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অবস্থা নিয়ে হতাশাও ব্যক্ত করেন বিশেষজ্ঞরা।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মসংস্থানের আশায় সরকারি নিয়ম মেনেই যারা দেশটিতে গিয়েছিল তারা চরম দুরবস্থায় রয়েছেন। বিগত কয়েক মাস ধরেই দেশটিতে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকরা অসম্মানজনক অবস্থায় বসবাস করছেন। দেশটিকে অভিবাসী শ্রমিকদের এমন ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং তাদের শোষণ, অপরাধীকরণ এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে রক্ষা করতে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে জোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা) সভাপতি মো. আবুল বাশার বলেন, সিন্ডিকেট মালয়েশিয়ার সরকার তৈরি করেছে। আমরা আন্দোলন করেছিলাম। মালয়েশিয়ার সরকার তখন বলেছে, কর্মীদের চাকরি দেওয়া আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। ফলে তাদেরই এ দায়িত্ব বহন করতে হবে।
বায়রার যুগ্ম মহাসচিব এম টিপু সুলতান সবুজ বাংলাকে বলেন, ডেসটিনেশন কান্ট্রিতে যাওয়ার পর বেশ কিছু কোম্পানি কর্মীদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বেতন-কাজ দিচ্ছে না। অনেকেই বসে আছেন। দুর্ভোগে পড়ছেন। এজন্য আমাদের রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায় করা হচ্ছে। কিন্তু আসলে এ দায় আমাদের নয়। সংশ্লিষ্ট দেশের কোম্পানিই মূলত দায়ী।

এদিকে বিদেশে কর্মী প্রেরণে রিক্রুটিং এজেন্সিকে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, বিদেশে কর্মী প্রেরণে রিক্রুটিং এজেন্সিকে অবশ্যই মানবিক দিক বিবেচনা করতে হবে। গত ১৬ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন-ভাতা ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কিত’ এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জনশক্তি রপ্তানিতে অশনিসংকেত

আপডেট সময় : ০৮:০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

➤এ বছর বৈদেশিক কর্মসংস্থান অনেক কমেছে
➤ বন্ধের পথে দ্বিতীয় বৃহত্তম মালয়েশিয়ার বাজার
➤প্রত্যাশিত কাজ না পেয়ে ফিরছেন অনেকে
➤শ্রমিক রপ্তানিতে এখনো শীর্ষে সৌদি আরবই
➤মালয়েশিয়ায় শোষিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের রক্ষায় জাতিসংঘের আহ্বান

দীর্ঘদিন ধরে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে প্রবাসী কর্মীরা। স্বাধীনতা পরবর্তী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় দেড় কোটি কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে নানা কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই জনশক্তি রপ্তানি খাতে অশনিসংকেত দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন বিদেশে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা ও রেমিট্যান্স আসা অনেক কমেছে, অন্যদিকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার মতো দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার। এছাড়া কাক্সিক্ষত চাকরি ও সুযোগ সুবিধা না পেয়ে বিভিন্ন দেশে যাওয়া শ্রমিকদের অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কষ্ট সইতে না পেরে অনেকে আবার দেশে ফিরে আসছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ায় শোষণের শিকার বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অবশ্যই রক্ষা করতে হবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অন্তর্গত প্রতিষ্ঠান জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ওয়েবসাইটে জনশক্তি রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ১৬৮টি দেশের তালিকা থাকলেও বাস্তবে বর্তমানে হাতে গোনা ৮/১০টি দেশে বেশি কর্মী যাচ্ছে। এর মধ্যেও আবার দীর্ঘদিন ধরে সবার শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়ার বাজার প্রায় ৫ বছর বন্ধের পর চালুর দেড় বছরের মাথায় ফের বন্ধ হওয়ার পথে। অন্যদিকে তেমন নতুন কোনো কোনো বাজার চালু হচ্ছে না। ব্যাপক চাহিদা থাকলেও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠাতে পারছে না বাংলাদেশ। ফলে শ্রমিক রপ্তানির আগের গতি ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএমইটির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সর্বাধিক ১৩ লাখ ৫ হাজার ৪৫৩ জনের কর্মসংস্থান হয়েছিল। সে হিসেবে ওই বছর প্রতি মাসে যেখানে ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি কর্মী বিদেশে গিয়েছিলেন, সেখানে চলতি বছরের গত তিন মাসে গেছেন মাত্র ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩৭ জন। আর এ বছর মোট বিদেশে যাওয়া শ্রমিকদের ৫৭ শতাংশ তথা ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৩৫ জন গেছেন সৌদি আরবে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ায় গেছেন ২৬ হাজার ৮৫০ জন (১১ শতাংশ)। এরপরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ শতাংশ, কাতারে ৬ শতাংশ, কুয়েতে ৩ শতাংশ, জর্ডানে ২ শতাংশ, ইংল্যান্ড ও লেবাননে ১ শতাংশ করে এবং বাকি বিভিন্ন দেশে গেছেন ৪ শতাংশ কর্মী। এ বছরের জানুয়ারিতে ৮৭ হাজার ৮৫২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৭৪ হাজার ৩০৬ জন এবং মার্চে ৭৪ হাজার ৬৭৯ জন গেছেন। চলতি মাসের পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি, তবে এ মাসে শ্রমিক রপ্তানির গতি আরো কম বলে আভাস পাওয়া গেছে।

প্রবাসীকর্মীদের সমস্যা সম্পর্কে সম্প্রতি মালয়েশিয়া ফেরত একজন কর্মী সবুজ বাংলাকে বলেন, দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের দুর্ভোগ-দুর্দশার শেষ নেই। নেপাল-মিয়ানমার থেকে যেসব কর্মী মালয়েশিয়ায় যায় তারা সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কাজের ভিসা নিয়ে বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে নিয়োগ পান। তাদের কেউ বেকার বা রাস্তায় ঘুরতে দেখা যায় না। অথচ বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় আসার পর কুয়ালালামপুরে কিছু দিন রাখার পর কনস্ট্রাকশন ভিসা লাগিয়ে বলে কাজ খুঁজে নাও। এরপর সবাই মহাবিপদে পড়ে। অনেকে রাস্তায় রাস্তায় দিন কাটায় আর মালয়েশিয়ান পুলিশের ঝামেলায় পড়েন।

জানা গেছে, মালয়েশিয়া সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর কোনো বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন অনুমোদন করা হবে না। যারা অনুমোদন পেয়েছে তাদের কর্মীদের ৩১ মার্চের মধ্যে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। যারা ভিসা নিয়েছে বা নেবে, তাদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের শেষ সময় আগামী ৩১ মে।
কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণার জন্য দুই দেশের চক্রই জড়িত বলেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনাহ মো. হাশিম। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। হাইকমিশনার বলেন, সমস্যার কারণ সিন্ডিকেট, যারা এখানে ও মালয়েশিয়ায় সক্রিয়।
বিএমইটি তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় ২০২২ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ১৬ হাজার ১২৫ জন শ্রমিক গিয়েছে। তাদের মধ্যে এখন বেকার, বেতনহীন ও কম বেতনে চাকরি করা কর্মী অন্তত এক লাখ।

মালয়েশিয়ায় শোষণের শিকার বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অবশ্যই রক্ষা করতে হবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার সংস্থাটির জেনেভা থেকে পাঠানো ওই বিবৃতিতে দেশটিতে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অবস্থা নিয়ে হতাশাও ব্যক্ত করেন বিশেষজ্ঞরা।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মসংস্থানের আশায় সরকারি নিয়ম মেনেই যারা দেশটিতে গিয়েছিল তারা চরম দুরবস্থায় রয়েছেন। বিগত কয়েক মাস ধরেই দেশটিতে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকরা অসম্মানজনক অবস্থায় বসবাস করছেন। দেশটিকে অভিবাসী শ্রমিকদের এমন ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং তাদের শোষণ, অপরাধীকরণ এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে রক্ষা করতে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে জোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা) সভাপতি মো. আবুল বাশার বলেন, সিন্ডিকেট মালয়েশিয়ার সরকার তৈরি করেছে। আমরা আন্দোলন করেছিলাম। মালয়েশিয়ার সরকার তখন বলেছে, কর্মীদের চাকরি দেওয়া আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। ফলে তাদেরই এ দায়িত্ব বহন করতে হবে।
বায়রার যুগ্ম মহাসচিব এম টিপু সুলতান সবুজ বাংলাকে বলেন, ডেসটিনেশন কান্ট্রিতে যাওয়ার পর বেশ কিছু কোম্পানি কর্মীদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বেতন-কাজ দিচ্ছে না। অনেকেই বসে আছেন। দুর্ভোগে পড়ছেন। এজন্য আমাদের রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায় করা হচ্ছে। কিন্তু আসলে এ দায় আমাদের নয়। সংশ্লিষ্ট দেশের কোম্পানিই মূলত দায়ী।

এদিকে বিদেশে কর্মী প্রেরণে রিক্রুটিং এজেন্সিকে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, বিদেশে কর্মী প্রেরণে রিক্রুটিং এজেন্সিকে অবশ্যই মানবিক দিক বিবেচনা করতে হবে। গত ১৬ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন-ভাতা ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কিত’ এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।