০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারের কারাগার থেকে১৭৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরছেন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিতোয়ে কারাগার থেকে১৭৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরছে।
 আজ দুপুর ১টার দিকে তাদের বহনকারী জাহাজ কক্সবাজার নুনিয়াছড়ার বিডব্লিউটিএর ঘাটে পৌঁছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের স্বজনদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে।
কারাভোগ করা ১৭৩ বাংলাদেশিদের আত্মীয়-স্বজনরা কক্সবাজার নুনিয়াছড়া ঘাটে অবস্থান করতে দেখা যায়। বেশিরভাগ স্বজনরা বলছেন, মালেশিয়া যাওয়ার কথা বলে দালালরা মায়ানমারে দিয়ে আসছে।
হোয়াইক্ষ্যং এলাকার বাসিন্দা রশিদ আহমদ বলেন, আমার দুই ছেলে, মুক্তার আহমেদ ও আল মামুনকে মালেশিয়া নেওয়ার কথা বলে মায়ানমারের কাছাকাছি নামিয়ে দেয়। পরে মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি আটক করে। দালাল মালেশিয়া পৌঁছেছে বলে ৩ লাখ টাকা নেন। ছেলের সাথে কথা বলতে চাইলে দালাল বিভিন্ন অজুহাত দেখান। পরে দুই ছেলে মায়ানমার থেকে কল করে জানায় তারা মায়ানমারের কারাগারে আছেন। ছেলের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। ছেলেদের যে ফিরে পাবো কোনোদিন কল্পনা করেনি।
অপেক্ষা করা স্বজনদের মধ্যে টেকনাফ সদরের রাজারছড়া এলাকার মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমার ছেলে নোমান ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি, হোয়াইক্ষ্যং উনছিপ্রাং এলাকার হোসাইন দালাল আমার ছেলেকে মালেশিয়া পাঠানোর নামে মায়ানমারে নামিয়ে দেয়। ৩ মাস ধরে ছেলের সন্ধান পাইনি। পরে শুনতে পেলাম ছেলে মায়ানমার কারাগারে আছেন। অনেকদিন পরে ছেলেকে দেখতে পাবো।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩এপ্রিল) সকালে এসব বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে মিয়ানমারের নৌ-জাহাজ চিন ডুইন সিতোয়ে বন্দর ত্যাগ করেছে। জাহাজটি রাখাইন রাজ্যে সংঘাতের কারণে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হওয়া মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ফিরিয়ে নিতে কক্সবাজার আসছে।
বাংলাদেশি ১৭৩ জনের মধ্যে ১২৯ জন কক্সবাজার, ৩০ জন বান্দরবান, সাতজন রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাজবাড়ী, নরসিংদী ও নীলফামারী জেলার একজন করে বাসিন্দা আছেন।
জানা যায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত ও সহজে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনায় দূতাবাস মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগারে অবস্থানরত ১৪৪ জন ‘যাচাই করা বাংলাদেশি নাগরিক, যাদের কারাভোগের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে বা ক্ষমা পেয়েছেন’ তাদেরকে সিতোয়ে কারাগারে আনতে উদ্যোগ নেয়।।
জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএলে শেষের নাটকীয়তার পর ৫ রানে জিতল রাজশাহী

মিয়ানমারের কারাগার থেকে১৭৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরছেন

আপডেট সময় : ০৩:২৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিতোয়ে কারাগার থেকে১৭৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরছে।
 আজ দুপুর ১টার দিকে তাদের বহনকারী জাহাজ কক্সবাজার নুনিয়াছড়ার বিডব্লিউটিএর ঘাটে পৌঁছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের স্বজনদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে।
কারাভোগ করা ১৭৩ বাংলাদেশিদের আত্মীয়-স্বজনরা কক্সবাজার নুনিয়াছড়া ঘাটে অবস্থান করতে দেখা যায়। বেশিরভাগ স্বজনরা বলছেন, মালেশিয়া যাওয়ার কথা বলে দালালরা মায়ানমারে দিয়ে আসছে।
হোয়াইক্ষ্যং এলাকার বাসিন্দা রশিদ আহমদ বলেন, আমার দুই ছেলে, মুক্তার আহমেদ ও আল মামুনকে মালেশিয়া নেওয়ার কথা বলে মায়ানমারের কাছাকাছি নামিয়ে দেয়। পরে মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি আটক করে। দালাল মালেশিয়া পৌঁছেছে বলে ৩ লাখ টাকা নেন। ছেলের সাথে কথা বলতে চাইলে দালাল বিভিন্ন অজুহাত দেখান। পরে দুই ছেলে মায়ানমার থেকে কল করে জানায় তারা মায়ানমারের কারাগারে আছেন। ছেলের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। ছেলেদের যে ফিরে পাবো কোনোদিন কল্পনা করেনি।
অপেক্ষা করা স্বজনদের মধ্যে টেকনাফ সদরের রাজারছড়া এলাকার মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমার ছেলে নোমান ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি, হোয়াইক্ষ্যং উনছিপ্রাং এলাকার হোসাইন দালাল আমার ছেলেকে মালেশিয়া পাঠানোর নামে মায়ানমারে নামিয়ে দেয়। ৩ মাস ধরে ছেলের সন্ধান পাইনি। পরে শুনতে পেলাম ছেলে মায়ানমার কারাগারে আছেন। অনেকদিন পরে ছেলেকে দেখতে পাবো।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩এপ্রিল) সকালে এসব বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে মিয়ানমারের নৌ-জাহাজ চিন ডুইন সিতোয়ে বন্দর ত্যাগ করেছে। জাহাজটি রাখাইন রাজ্যে সংঘাতের কারণে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হওয়া মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ফিরিয়ে নিতে কক্সবাজার আসছে।
বাংলাদেশি ১৭৩ জনের মধ্যে ১২৯ জন কক্সবাজার, ৩০ জন বান্দরবান, সাতজন রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাজবাড়ী, নরসিংদী ও নীলফামারী জেলার একজন করে বাসিন্দা আছেন।
জানা যায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত ও সহজে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনায় দূতাবাস মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগারে অবস্থানরত ১৪৪ জন ‘যাচাই করা বাংলাদেশি নাগরিক, যাদের কারাভোগের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে বা ক্ষমা পেয়েছেন’ তাদেরকে সিতোয়ে কারাগারে আনতে উদ্যোগ নেয়।।