১০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনকে গোপনে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

➣ব্যবহৃত হচ্ছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে
➣বিশ্বশান্তির জন্য এটি একটি শুভ দিন : বাইডেন

ইউক্রেন রণক্ষেত্রে রাশিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। আর এসব ক্ষেপণাস্ত্র আসছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। খোদ মার্কিন কর্মকর্তারাই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র গোপনে ইউক্রেনে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে আসছে বেশ কয়েক মাস ধরেই। তারা জানিয়েছেন, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে ইউক্রেনকে দেওয়া ৩০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তার অংশ হিসেবে এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পাঠানো হয়েছে ইউক্রেনে। গত মার্চে এই সহায়তা প্যাকেজের অনুমোদন দেন বাইডেন।

 

 

 

মার্কিন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এরই মধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে অন্তত একবার হলেও। মার্কিন গণমাধ্যমের দাবি, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রিমিয়ায় রুশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ইউক্রেন এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে মাঝারি পাল্লার আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম বা এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছিল। কিন্তু সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর চেয়েও আরো শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে দ্বিধান্বিত ছিল। যাই হোক, পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে বাইডেন ইউক্রেনে অন্তত ৩০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লাসম্পন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর বিষয়ে সবুজ সংকেত দেন।

 

 

 

ইউক্রেনে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তথা স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল বলেছিলেন, আমি নিশ্চিত করতে পারি যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্দেশনায় দূরপাল্লার এটিএসিএমএস ইউক্রেনে পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এত দিন ইউক্রেনের অনুরোধে তাদের অপারেশনাল নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে শুরুতে এটি কাউকে জানায়নি।

 

 

যুক্তরাষ্ট্র কী পরিমাণ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে পাঠিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান বলেছেন, ওয়াশিংটন আরো এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। সেগুলো (রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে) তফাত গড়ে দেবে।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কিয়েভের তরফ থেকে প্রথম দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয় ক্রিমিয়া আক্রমণে। ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার একটি সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে সেই হামলা চালানো হয়েছিল। এমনকি গত মঙ্গলবার, রাশিয়ার দখলে থাকা বার্দিয়ানস্কেও দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রুশ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের সেনারা।

 

 

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পাস হওয়া ৯৪ বিলিয়ন (৯৪০০ কোটি) ডলারের বৈদেশিক সহায়তা বিলে সই করলেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিলে ইউক্রেন, ইসরায়েল, তাইওয়ান ও ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন অংশীদারদের প্রধানত সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এর আগে কয়েক মাস ধরে এ সহায়তা দেওয়া নিয়ে ওয়াশিংটনে অচলাবস্থা চলার পর গত মঙ্গলবার কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে সহজেই বিলটি অনুমোদিত হয়। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকাণ্ড চলতে থাকার প্রেক্ষাপটে দেশটিকে মার্কিন সহায়তা দেওয়া সীমিত করতে বিভিন্ন মহল থেকে ক্রমেই আরো বেশি আহ্বান জানানো হচ্ছিল। কিন্তু সেসব আহ্বান ও গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধ নিয়ে ক্ষোভ উপেক্ষা করেই ইসরায়েলকে সহায়তায় বিলটি পাস এবং পরে তা আইনে পরিণত করা হলো। বিলের আওতায় ইসরায়েলকে অতিরিক্ত ১৭ বিলিয়ন (১৭০০ কোটি) ডলার মানবিক সহায়তা দেওয়া হবে। বিলের অধীন ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা প্রদান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো ও মানবিক কার্যক্রমে সহায়তা করবে বাইডেন প্রশাসন। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে এরই মধ্যে ৩৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন; যাদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু।

 

 

 

বিলটি আইনে পরিণত হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে এ নতুন সহায়তাকে ইসরায়েলকে ইরানের আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষায় সাহায্য করার একটি চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, এটি বিশ্বশান্তির জন্য একটি শুভ দিন। এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে আরো নিরাপদ করল। ইসরায়েলের প্রতি আমার প্রতিশ্রুতির বিষয়ে আমি আবারও পরিষ্কার করে বলতে চাই, এটি ইস্পাতকঠিন। ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

এ মার্কিন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীরা জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংঘটনের দায়ে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) বলেছে, বিলটিতে সই করে বাইডেন নৈতিকতার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনকে গোপনে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৪

➣ব্যবহৃত হচ্ছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে
➣বিশ্বশান্তির জন্য এটি একটি শুভ দিন : বাইডেন

ইউক্রেন রণক্ষেত্রে রাশিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। আর এসব ক্ষেপণাস্ত্র আসছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। খোদ মার্কিন কর্মকর্তারাই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র গোপনে ইউক্রেনে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে আসছে বেশ কয়েক মাস ধরেই। তারা জানিয়েছেন, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে ইউক্রেনকে দেওয়া ৩০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তার অংশ হিসেবে এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পাঠানো হয়েছে ইউক্রেনে। গত মার্চে এই সহায়তা প্যাকেজের অনুমোদন দেন বাইডেন।

 

 

 

মার্কিন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এরই মধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে অন্তত একবার হলেও। মার্কিন গণমাধ্যমের দাবি, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রিমিয়ায় রুশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ইউক্রেন এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে মাঝারি পাল্লার আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম বা এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছিল। কিন্তু সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর চেয়েও আরো শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে দ্বিধান্বিত ছিল। যাই হোক, পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে বাইডেন ইউক্রেনে অন্তত ৩০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লাসম্পন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর বিষয়ে সবুজ সংকেত দেন।

 

 

 

ইউক্রেনে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তথা স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল বলেছিলেন, আমি নিশ্চিত করতে পারি যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্দেশনায় দূরপাল্লার এটিএসিএমএস ইউক্রেনে পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এত দিন ইউক্রেনের অনুরোধে তাদের অপারেশনাল নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে শুরুতে এটি কাউকে জানায়নি।

 

 

যুক্তরাষ্ট্র কী পরিমাণ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে পাঠিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান বলেছেন, ওয়াশিংটন আরো এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। সেগুলো (রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে) তফাত গড়ে দেবে।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কিয়েভের তরফ থেকে প্রথম দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয় ক্রিমিয়া আক্রমণে। ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার একটি সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে সেই হামলা চালানো হয়েছিল। এমনকি গত মঙ্গলবার, রাশিয়ার দখলে থাকা বার্দিয়ানস্কেও দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রুশ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের সেনারা।

 

 

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পাস হওয়া ৯৪ বিলিয়ন (৯৪০০ কোটি) ডলারের বৈদেশিক সহায়তা বিলে সই করলেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিলে ইউক্রেন, ইসরায়েল, তাইওয়ান ও ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন অংশীদারদের প্রধানত সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এর আগে কয়েক মাস ধরে এ সহায়তা দেওয়া নিয়ে ওয়াশিংটনে অচলাবস্থা চলার পর গত মঙ্গলবার কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে সহজেই বিলটি অনুমোদিত হয়। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকাণ্ড চলতে থাকার প্রেক্ষাপটে দেশটিকে মার্কিন সহায়তা দেওয়া সীমিত করতে বিভিন্ন মহল থেকে ক্রমেই আরো বেশি আহ্বান জানানো হচ্ছিল। কিন্তু সেসব আহ্বান ও গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধ নিয়ে ক্ষোভ উপেক্ষা করেই ইসরায়েলকে সহায়তায় বিলটি পাস এবং পরে তা আইনে পরিণত করা হলো। বিলের আওতায় ইসরায়েলকে অতিরিক্ত ১৭ বিলিয়ন (১৭০০ কোটি) ডলার মানবিক সহায়তা দেওয়া হবে। বিলের অধীন ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা প্রদান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো ও মানবিক কার্যক্রমে সহায়তা করবে বাইডেন প্রশাসন। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে এরই মধ্যে ৩৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন; যাদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু।

 

 

 

বিলটি আইনে পরিণত হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে এ নতুন সহায়তাকে ইসরায়েলকে ইরানের আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষায় সাহায্য করার একটি চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, এটি বিশ্বশান্তির জন্য একটি শুভ দিন। এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে আরো নিরাপদ করল। ইসরায়েলের প্রতি আমার প্রতিশ্রুতির বিষয়ে আমি আবারও পরিষ্কার করে বলতে চাই, এটি ইস্পাতকঠিন। ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

এ মার্কিন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীরা জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংঘটনের দায়ে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) বলেছে, বিলটিতে সই করে বাইডেন নৈতিকতার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন।