১১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্রলীগের দেশব্যাপী কর্মসূচি 

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিশ্বব্যাপী চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ  ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একইসাথে একইসময়ে এই কর্মসূচি পালন করার জন্য ছাত্রলীগের সকল সাংগঠনিক ইউনিটের প্রতি নির্দেশ প্রদান করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

সোমবার (৬মে) সকাল ১১টায় মধুর ক্যান্টিনে পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি পালিত হয়। পতাকা উত্তোলন শেষে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত মিছিলে অংশ ছাত্রলীগের নেন শত শত নেতাকর্মী। সেখানে বক্তব্য প্রদান করেন ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন,  নিরীহ-নিরপরাধ ফিলিস্তিন নাগরিকদের সাথে পরিচালিত জঘন্য হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন পরিচালনা করছে, আন্দোলন-প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাঁধা-নির্যাতনের সম্মুখীন হচ্ছে তা গভীরভাবে অনুধাবন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আমাদের আজকের এই ছাত্র আন্দোলন দেশীয় গণ্ডীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইসরায়েলী দখলদারিত্ব ক গণহত্যার প্রতিবাদে আজ বিশ্বব্যাপী ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠেছে। আমরা দেখেছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৪০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত আড়াই হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা গণতন্ত্রের মুড়লদের এমন নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি আরও বলেন, যারা গণতন্ত্রের মোড়ল এবং বিশ্বব্যাপী বাক্‌স্বাধীনতার সনদ দেয়, যারা সারা জীবনের জন্য গণতন্ত্রের টেন্ডার নিয়েছে, যারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমাবেশের স্বাধীনতার কথা বলে, তাদের মুখোশ আজ উন্মোচিত হয়ে গেছে। স্বজন হারানো গণহত্যার তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে । আমরা চাই অবিলম্বে ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ-বিরতি দেয়া হোক। গাজায় চলমান হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে  ইসরায়েলকে যুদ্ধাপরাদের দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে শাস্তি দেওয়া হোক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভির হাসান সৈকত বলেন,নিরিহ ফিলিস্তিনের জন্য পাঠানো ত্রান ডুকতে দেয়নি বর্বর ইসরায়েল। ফিলিস্তিনের শিশুরা অনাহারে মারা যাচ্ছে, বোমার শব্দে তারা কেঁপে উঠছে প্রতিনিয়ত। বিশ্বব্যাপী চলমান ছাত্র-আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে, হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে থেকে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

ঢাবি শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, ফিলিস্তিনের নারী, শিশু এবং নিরীহ মানুষের উপর যে নির্যাতন চলছে, সেটি নিঃসন্দেহে গণহত্যার সামিল। গত আট দশক ধরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জনগণকে  নিজে দেশ থেকে বিতাড়িত করে তারা জর্ডান, মিসর, সিরিয়াসহ সারাবিশ্বে শরনার্থীতে পরিণত করেছে। এখন সময় এসেছে ফিলিস্তিনকে স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়ার। ন্যায্যতা-ন্যায়-মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি এবং নিরীহ ফিলিস্তিনিদের উপর পরিচালিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থী সমাজ, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা যে আন্দোলনের সূচনা করেছে তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

বাংলাদেশে অধ্যয়নরত ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী ইসহাক আহম্মেদ বলেন, আমরা ফিলিস্তিনবাসী আজ ৭৫ বছর ধরে নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছি। আমাদের তারা নির্মমভাবে হত্যা করে চলেছে কিন্তু বিশ্ববাসী নিরব রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমাদের ভূখণ্ড স্বাধীন হবেই। এ সময় তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানান।

বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যালে অধ্যয়নরত ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ বাদাউয়ী বলেন,  আমাদের ফিলিস্তিনের জনসাধারণ অবর্ণণীয় ভোগান্তির মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। তারা মৌলিক অধিকার তো দূরের কথা, এক ফোটা পানির অভাবে মারা যাচ্ছে। বিশ্ববাসী নৃশংস ইসরায়েলকে কখনো ক্ষমা করবে না।

এ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাবি শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হসান সৈকত, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শামীম, দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি ও সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ডু।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিবিতে শুরু হলো প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতের প্রদর্শনী

স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্রলীগের দেশব্যাপী কর্মসূচি 

আপডেট সময় : ০৮:২৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ মে ২০২৪

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিশ্বব্যাপী চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ  ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একইসাথে একইসময়ে এই কর্মসূচি পালন করার জন্য ছাত্রলীগের সকল সাংগঠনিক ইউনিটের প্রতি নির্দেশ প্রদান করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

সোমবার (৬মে) সকাল ১১টায় মধুর ক্যান্টিনে পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি পালিত হয়। পতাকা উত্তোলন শেষে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত মিছিলে অংশ ছাত্রলীগের নেন শত শত নেতাকর্মী। সেখানে বক্তব্য প্রদান করেন ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন,  নিরীহ-নিরপরাধ ফিলিস্তিন নাগরিকদের সাথে পরিচালিত জঘন্য হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন পরিচালনা করছে, আন্দোলন-প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাঁধা-নির্যাতনের সম্মুখীন হচ্ছে তা গভীরভাবে অনুধাবন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আমাদের আজকের এই ছাত্র আন্দোলন দেশীয় গণ্ডীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইসরায়েলী দখলদারিত্ব ক গণহত্যার প্রতিবাদে আজ বিশ্বব্যাপী ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠেছে। আমরা দেখেছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৪০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত আড়াই হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা গণতন্ত্রের মুড়লদের এমন নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি আরও বলেন, যারা গণতন্ত্রের মোড়ল এবং বিশ্বব্যাপী বাক্‌স্বাধীনতার সনদ দেয়, যারা সারা জীবনের জন্য গণতন্ত্রের টেন্ডার নিয়েছে, যারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমাবেশের স্বাধীনতার কথা বলে, তাদের মুখোশ আজ উন্মোচিত হয়ে গেছে। স্বজন হারানো গণহত্যার তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে । আমরা চাই অবিলম্বে ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ-বিরতি দেয়া হোক। গাজায় চলমান হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে  ইসরায়েলকে যুদ্ধাপরাদের দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে শাস্তি দেওয়া হোক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভির হাসান সৈকত বলেন,নিরিহ ফিলিস্তিনের জন্য পাঠানো ত্রান ডুকতে দেয়নি বর্বর ইসরায়েল। ফিলিস্তিনের শিশুরা অনাহারে মারা যাচ্ছে, বোমার শব্দে তারা কেঁপে উঠছে প্রতিনিয়ত। বিশ্বব্যাপী চলমান ছাত্র-আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে, হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে থেকে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

ঢাবি শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, ফিলিস্তিনের নারী, শিশু এবং নিরীহ মানুষের উপর যে নির্যাতন চলছে, সেটি নিঃসন্দেহে গণহত্যার সামিল। গত আট দশক ধরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জনগণকে  নিজে দেশ থেকে বিতাড়িত করে তারা জর্ডান, মিসর, সিরিয়াসহ সারাবিশ্বে শরনার্থীতে পরিণত করেছে। এখন সময় এসেছে ফিলিস্তিনকে স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়ার। ন্যায্যতা-ন্যায়-মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি এবং নিরীহ ফিলিস্তিনিদের উপর পরিচালিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থী সমাজ, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা যে আন্দোলনের সূচনা করেছে তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

বাংলাদেশে অধ্যয়নরত ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী ইসহাক আহম্মেদ বলেন, আমরা ফিলিস্তিনবাসী আজ ৭৫ বছর ধরে নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছি। আমাদের তারা নির্মমভাবে হত্যা করে চলেছে কিন্তু বিশ্ববাসী নিরব রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমাদের ভূখণ্ড স্বাধীন হবেই। এ সময় তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানান।

বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যালে অধ্যয়নরত ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ বাদাউয়ী বলেন,  আমাদের ফিলিস্তিনের জনসাধারণ অবর্ণণীয় ভোগান্তির মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। তারা মৌলিক অধিকার তো দূরের কথা, এক ফোটা পানির অভাবে মারা যাচ্ছে। বিশ্ববাসী নৃশংস ইসরায়েলকে কখনো ক্ষমা করবে না।

এ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাবি শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হসান সৈকত, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শামীম, দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি ও সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ডু।