০৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কৃষির বাজেটে ভর্তুকি বাড়ানোর তাগিদ

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান অর্থনীতি। কৃষি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি প্রদানের উপকরণ। বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের শ্রমশক্তির গড়ে ৪০ শতাংশের বেশি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের ২৯ শতাংশ আসে কৃষি ও তদসংশ্লিষ্ট খাত থেকে। সমতল ভূমির ৯২ শতাংশ ব্যবহার হয় কৃষিকাজে আর কৃষিকে অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করে ৬৪ শতাংশ মানুষ। কৃষির উন্নতি মানে দেশের উন্নতি। কৃষি আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। খাদ্যঘাটতির দেশে দানাদার খাদ্যে এসেছে স্বয়ংসম্পূর্ণতা। কৃষিপণ্যের রপ্তানি ছুঁয়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক। তবে এটি কৃষি খাতের প্রারম্ভিক সাফল্য। গত বাজেটে কৃষিখাতে উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পতিত জমির আবাদ ও কৃষিপণ্যে বহুমুখীকরণ, কৃষকদের প্রণোদনা ও পুনর্বাসন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছিল।

বর্তমানে কৃষিতে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি বাড়াতে হবে। সরকারের নীতি-সহায়তা বৃদ্ধি ও কিছু প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে কৃষিখাত আরো এগিয়ে যাবে। বিশ্বকৃষির বাজারে প্রথম সারির দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টঅ্যাপ বিজনেস ফান্ডের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেসরকারি ব্যাংক এতে সমপরিমাণ অর্থ নিয়ে ১ শতাংশ সুদে সহায়তা দেবে। সে ক্ষেত্রে কৃষি উদ্যোক্তাদের এ ঋণের বড় অংশের ব্যবস্থা করা দরকার। এখন বড় চ্যালেঞ্জ উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা। সে জন্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প আরো এগিয়ে নেওয়ার বিকল্প নেই। দেশে কৃষিশিল্প গড়তে ১ থেকে ২ শতাংশ সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা দরকার বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতের বরাদ্দ বাড়ানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান সবুজ বাংলাকে বলেন, মোট বাজেটের শতকরা হিসেবে আশানুরূপ কৃষি বাজেট বাড়ছে না। যে হারে বাজেট বাড়ছে সে হারে ভর্তুকি বাড়ছে না।

গত কয়েক বছর যাবৎ সারা বিশ্বে অবহাওয়ার পরির্বতনের কারণে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। যার ফলে কৃষিপণ্যের মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। তাতে করে আমরা বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করব তার সামর্থ্য অনেকাংশ কমে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো দরকার। কৃষিখাতে বাজেট বাড়ানো দরকার। মোট বাজেটের শতকরা ১০% কৃষিখাতে বিনিয়োগ করা উচিত। কৃষিখাতে ভর্তুকি বাড়ানো দরকার। বর্তমানে মোট বাজেটের ২-৩% বেশি দেওয়া হয় না। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অন্তত কৃষি বাজেটের ১০% পর্যন্ত দিতে পারি এই ভর্তুকি বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে উপকরণ ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। আমাদের উৎপাদন খরচ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে, এই উৎপাদন খরচ কমাতে হলে উৎপাদন উপকরণের ওপর ভর্তুকি বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে কৃষি যন্ত্রের নতুন বড় প্রজেক্ট নেওয়া দরকার। বর্তমানে ৫০% দেওয়া হচ্ছে তা ২০% বাড়িয়ে অন্তত ৭০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। যদি বাড়ানো হয় তাহলে উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি এটি নিশ্চিত করতে হবে যাতে কৃষকদের কাছে সহজলভ্য হয়।

আর একটি বিষয়- যাতে কৃষি পণ্যের দামটিও নিশ্চিত করতে হবে। সরকার যে দাম নির্ধারণ করে সে দামে কৃষক দিতে পারে না। কৃষকদের কাছ থেকে বড় ব্যবসায়ীরা ক্রয় করে। যখন ধানের দাম বাড়ে তখন কৃষকদের হাতে ধান থাকে না। বাজারটি পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এ বিষয়ে সরকারের উপযুক্ত নীতিমাল গ্রহণ করা প্রয়োজন। কৃষি মোট উৎপাদনের অন্তত ১০ শতাংশ করা দরকার। এখন বর্তমানে ২টি ফসল ধান আর গম সংরক্ষণ করে। কিন্তু ভারতে ২৩ ফসল সংরক্ষণ করে। এক্ষেত্রে আমাদের আরও ২০টি খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের ২০ থেকে ২২ টন সংরক্ষণ করা যায়। সংগ্রহশালা বাড়ানো দরকার এটি বাড়িয়ে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত করতে হবে। আগামী বাজেটের বিষয়ে জানতে চাইলে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, কৃষিখাতে উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পতিত জমির আবাদ ও কৃষিপণ্যে বহুমুখীকরণে কৃষকদের প্রণোদনা ও পুনর্বাসন দরকার। পাশাপাশি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানিতে বাজেট বাড়ানো দরকার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে কৃষি খাতের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তিন বছরে কৃষি উন্নয়নে ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। ‘মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি (২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬)’ অনুসারে, এই বিনিয়োগ খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন এবং ন্যায়সংগত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জিডিপিতে একটি হ্রাস প্রবণতা থাকা সত্ত্বেও এটি বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষিনির্ভর সংখ্যাগরিষ্ঠদের জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য উৎপাদন ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের গৃহীত কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চফলনশীল ও প্রতিকূল-সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন, যান্ত্রিকীকরণ-সেচ সম্প্রসারণ এবং বীজ ও সারের মতো সাশ্রয়ী মূল্যের উপকরণের প্রাপ্যতা বাড়ানো। নীতি নথিতে প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সম্পদ সংরক্ষণের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর সেচের জন্য ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমাধানগুলো অন্তর্ভুক্ত করা এবং ফসল পরিচর্যার জন্য রিমোট সেন্সিং নিয়োগ করা। সরকার একটি টেকসই ও স্বনির্ভর কৃষিকাঠামো গড়ে তুলতে ভর্তুকি, আর্থিক প্রণোদনা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই খাতকে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উপখাত থেকেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এটি শুধু জিডিপি যথাক্রমে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৯১ শতাংশই বৃদ্ধি করে না, বরং জনসংখ্যার ১২ শতাংশের বেশি মানুষের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের উৎস হিসেবে কাজ করে এবং জীবিকার সংস্থান করে।

কৃষির বাজেটে ভর্তুকি বাড়ানোর তাগিদ

আপডেট সময় : ০৭:২৮:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ মে ২০২৪

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান অর্থনীতি। কৃষি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি প্রদানের উপকরণ। বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের শ্রমশক্তির গড়ে ৪০ শতাংশের বেশি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের ২৯ শতাংশ আসে কৃষি ও তদসংশ্লিষ্ট খাত থেকে। সমতল ভূমির ৯২ শতাংশ ব্যবহার হয় কৃষিকাজে আর কৃষিকে অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করে ৬৪ শতাংশ মানুষ। কৃষির উন্নতি মানে দেশের উন্নতি। কৃষি আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। খাদ্যঘাটতির দেশে দানাদার খাদ্যে এসেছে স্বয়ংসম্পূর্ণতা। কৃষিপণ্যের রপ্তানি ছুঁয়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক। তবে এটি কৃষি খাতের প্রারম্ভিক সাফল্য। গত বাজেটে কৃষিখাতে উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পতিত জমির আবাদ ও কৃষিপণ্যে বহুমুখীকরণ, কৃষকদের প্রণোদনা ও পুনর্বাসন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছিল।

বর্তমানে কৃষিতে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি বাড়াতে হবে। সরকারের নীতি-সহায়তা বৃদ্ধি ও কিছু প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে কৃষিখাত আরো এগিয়ে যাবে। বিশ্বকৃষির বাজারে প্রথম সারির দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টঅ্যাপ বিজনেস ফান্ডের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেসরকারি ব্যাংক এতে সমপরিমাণ অর্থ নিয়ে ১ শতাংশ সুদে সহায়তা দেবে। সে ক্ষেত্রে কৃষি উদ্যোক্তাদের এ ঋণের বড় অংশের ব্যবস্থা করা দরকার। এখন বড় চ্যালেঞ্জ উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা। সে জন্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প আরো এগিয়ে নেওয়ার বিকল্প নেই। দেশে কৃষিশিল্প গড়তে ১ থেকে ২ শতাংশ সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা দরকার বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতের বরাদ্দ বাড়ানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান সবুজ বাংলাকে বলেন, মোট বাজেটের শতকরা হিসেবে আশানুরূপ কৃষি বাজেট বাড়ছে না। যে হারে বাজেট বাড়ছে সে হারে ভর্তুকি বাড়ছে না।

গত কয়েক বছর যাবৎ সারা বিশ্বে অবহাওয়ার পরির্বতনের কারণে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। যার ফলে কৃষিপণ্যের মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। তাতে করে আমরা বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করব তার সামর্থ্য অনেকাংশ কমে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো দরকার। কৃষিখাতে বাজেট বাড়ানো দরকার। মোট বাজেটের শতকরা ১০% কৃষিখাতে বিনিয়োগ করা উচিত। কৃষিখাতে ভর্তুকি বাড়ানো দরকার। বর্তমানে মোট বাজেটের ২-৩% বেশি দেওয়া হয় না। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অন্তত কৃষি বাজেটের ১০% পর্যন্ত দিতে পারি এই ভর্তুকি বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে উপকরণ ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। আমাদের উৎপাদন খরচ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে, এই উৎপাদন খরচ কমাতে হলে উৎপাদন উপকরণের ওপর ভর্তুকি বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে কৃষি যন্ত্রের নতুন বড় প্রজেক্ট নেওয়া দরকার। বর্তমানে ৫০% দেওয়া হচ্ছে তা ২০% বাড়িয়ে অন্তত ৭০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। যদি বাড়ানো হয় তাহলে উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি এটি নিশ্চিত করতে হবে যাতে কৃষকদের কাছে সহজলভ্য হয়।

আর একটি বিষয়- যাতে কৃষি পণ্যের দামটিও নিশ্চিত করতে হবে। সরকার যে দাম নির্ধারণ করে সে দামে কৃষক দিতে পারে না। কৃষকদের কাছ থেকে বড় ব্যবসায়ীরা ক্রয় করে। যখন ধানের দাম বাড়ে তখন কৃষকদের হাতে ধান থাকে না। বাজারটি পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এ বিষয়ে সরকারের উপযুক্ত নীতিমাল গ্রহণ করা প্রয়োজন। কৃষি মোট উৎপাদনের অন্তত ১০ শতাংশ করা দরকার। এখন বর্তমানে ২টি ফসল ধান আর গম সংরক্ষণ করে। কিন্তু ভারতে ২৩ ফসল সংরক্ষণ করে। এক্ষেত্রে আমাদের আরও ২০টি খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের ২০ থেকে ২২ টন সংরক্ষণ করা যায়। সংগ্রহশালা বাড়ানো দরকার এটি বাড়িয়ে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত করতে হবে। আগামী বাজেটের বিষয়ে জানতে চাইলে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, কৃষিখাতে উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পতিত জমির আবাদ ও কৃষিপণ্যে বহুমুখীকরণে কৃষকদের প্রণোদনা ও পুনর্বাসন দরকার। পাশাপাশি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানিতে বাজেট বাড়ানো দরকার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে কৃষি খাতের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তিন বছরে কৃষি উন্নয়নে ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। ‘মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি (২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬)’ অনুসারে, এই বিনিয়োগ খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন এবং ন্যায়সংগত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জিডিপিতে একটি হ্রাস প্রবণতা থাকা সত্ত্বেও এটি বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষিনির্ভর সংখ্যাগরিষ্ঠদের জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য উৎপাদন ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের গৃহীত কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চফলনশীল ও প্রতিকূল-সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন, যান্ত্রিকীকরণ-সেচ সম্প্রসারণ এবং বীজ ও সারের মতো সাশ্রয়ী মূল্যের উপকরণের প্রাপ্যতা বাড়ানো। নীতি নথিতে প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সম্পদ সংরক্ষণের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর সেচের জন্য ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমাধানগুলো অন্তর্ভুক্ত করা এবং ফসল পরিচর্যার জন্য রিমোট সেন্সিং নিয়োগ করা। সরকার একটি টেকসই ও স্বনির্ভর কৃষিকাঠামো গড়ে তুলতে ভর্তুকি, আর্থিক প্রণোদনা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই খাতকে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উপখাত থেকেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এটি শুধু জিডিপি যথাক্রমে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৯১ শতাংশই বৃদ্ধি করে না, বরং জনসংখ্যার ১২ শতাংশের বেশি মানুষের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের উৎস হিসেবে কাজ করে এবং জীবিকার সংস্থান করে।