০৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অপরাধে জড়াচ্ছে পুলিশ,১০ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

জনমনে আতঙ্ক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় গিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক মাদকসম্রাটকে গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর সীমান্তবর্তী গোদাগাড়ী থানা পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাসহ মোট ছয়জনকে লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। অন্যদিকে এক কিশোরকে তুলে নিয়ে মাদক দিয়ে চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা দাবির ঘটনায় একই থানার প্রেমতলী পুলিশ ফাঁড়ির চার সদস্যকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে পৃথক ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে গোদাগাড়ী থানা ও অধীনস্ত প্রেমতলী ফাঁড়ি হতে মোট ১০ জন পুলিশকে ক্লোজড করা হয়। আর তাই নতুন করে আলোচনায় আসছে পুলিশ সদস্যদের অপরাধে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা। পুলিশের এই ‘অপরাধে জড়িত’ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

 

 

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশের অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না যে কারণে বার বার পুলিশের কিছু সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসছে। তাছাড়া, ইউনিট পর্যায়ে সুপারভিশনের অভাব দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ আছে। বিশ্লেষকদের পরামর্শ, পুলিশের ইমেজ ফেরাতে এই অপারাধের বিচার করতে বিশেষ আইন করা যেতে পারে।

 

জানা গেছে, মাদকের সাথে জড়িত ও আটক বাণিজ্যর অভিযোগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার ছয় পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। সোমবার (৬ মে) জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ৫ জন কর্মকর্তা ও ১জন কনেস্টবলকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ক্লোজড হয়া পুলিশ সদস্যরা হচ্ছেন, থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকরামুজ্জামান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) সত্যব্রত, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মঞ্জুরুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল করিম ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রঞ্জু এবং কনেস্টবল মাহবুব।

 

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রোববার (৫ মে) বিকালে পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান (পিপিএম) গোদাগাড়ী মডেল থানা পরিদর্শনে এসে ক্লোজড হওয়া পুলিশ সদস্যদের অপরাধ সম্পর্কে অবহিত হন। এরপর ফিরে গিয়ে ৬জন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। গোদাগাড়ী মডেল অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন, ৬জন পুলিশ সদস্যকে রাতেই থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া ৬জন পুলিশ সদস্য মাদক ব্যবসায়ীদের মাসোয়াহারা নিয়ে সহযোগিতা আটক করে মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করার অভিযোগ আছে পুলিশ সুপারের কাছে বলে পুলিশ একটি সূত্র জানায়।

 

রোববার (৫ মে) সকালের দিকে আব্দুস সামাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কোদালকাটি গ্রামের বাদেফুল ইমলামের ছেলে নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে ৩ লাখ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় এসআই আকরামুজ্জামান। আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

 

অন্যদিকে এক কিশোরকে তুলে নিয়ে মাদক দিয়ে চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা দাবির ঘটনায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী পুলিশ ফাঁড়ির চার সদস্যকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

পুলিশের এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের যে ইউনিটগুলোতে অপরাধ প্রবণতা বেশি সেই ইউনিটগুলোতে সুপারভিশন বাড়ানো দরকার। যারা ইউনিটের দায়িত্বে আছেন তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্য কোনো অপারেশনে গেলে তাদের জিডি করে যেতে হয়। যারা ছিনতাই করলো তাহলে তারা কীভাবে বাইরে গেল। তারা জিডি ছাড়া গেলে তো এটা ভয়াবহ ব্যাপার।’’ তার বক্তব্য, ‘‘এমনিতে পুলিশের ভেতরে অপরাধ প্রবণতা আছে। তাদের ছোটখাট অপরাধের জন্য প্রতিবছরই অনেক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু এই ধরনের বড় অপরাধের জন্য শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা যথেষ্ঠ নয়।”

ফের পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেল নারানগিরি বাঁশের সাঁকো: দূর্ভোগে শত শত গ্রামবাসী

অপরাধে জড়াচ্ছে পুলিশ,১০ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

আপডেট সময় : ০৫:০১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ মে ২০২৪

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় গিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক মাদকসম্রাটকে গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর সীমান্তবর্তী গোদাগাড়ী থানা পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাসহ মোট ছয়জনকে লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। অন্যদিকে এক কিশোরকে তুলে নিয়ে মাদক দিয়ে চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা দাবির ঘটনায় একই থানার প্রেমতলী পুলিশ ফাঁড়ির চার সদস্যকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে পৃথক ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে গোদাগাড়ী থানা ও অধীনস্ত প্রেমতলী ফাঁড়ি হতে মোট ১০ জন পুলিশকে ক্লোজড করা হয়। আর তাই নতুন করে আলোচনায় আসছে পুলিশ সদস্যদের অপরাধে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা। পুলিশের এই ‘অপরাধে জড়িত’ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

 

 

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশের অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না যে কারণে বার বার পুলিশের কিছু সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসছে। তাছাড়া, ইউনিট পর্যায়ে সুপারভিশনের অভাব দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ আছে। বিশ্লেষকদের পরামর্শ, পুলিশের ইমেজ ফেরাতে এই অপারাধের বিচার করতে বিশেষ আইন করা যেতে পারে।

 

জানা গেছে, মাদকের সাথে জড়িত ও আটক বাণিজ্যর অভিযোগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার ছয় পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। সোমবার (৬ মে) জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ৫ জন কর্মকর্তা ও ১জন কনেস্টবলকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ক্লোজড হয়া পুলিশ সদস্যরা হচ্ছেন, থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকরামুজ্জামান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) সত্যব্রত, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মঞ্জুরুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল করিম ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রঞ্জু এবং কনেস্টবল মাহবুব।

 

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রোববার (৫ মে) বিকালে পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান (পিপিএম) গোদাগাড়ী মডেল থানা পরিদর্শনে এসে ক্লোজড হওয়া পুলিশ সদস্যদের অপরাধ সম্পর্কে অবহিত হন। এরপর ফিরে গিয়ে ৬জন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। গোদাগাড়ী মডেল অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন, ৬জন পুলিশ সদস্যকে রাতেই থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া ৬জন পুলিশ সদস্য মাদক ব্যবসায়ীদের মাসোয়াহারা নিয়ে সহযোগিতা আটক করে মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করার অভিযোগ আছে পুলিশ সুপারের কাছে বলে পুলিশ একটি সূত্র জানায়।

 

রোববার (৫ মে) সকালের দিকে আব্দুস সামাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কোদালকাটি গ্রামের বাদেফুল ইমলামের ছেলে নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে ৩ লাখ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় এসআই আকরামুজ্জামান। আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

 

অন্যদিকে এক কিশোরকে তুলে নিয়ে মাদক দিয়ে চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা দাবির ঘটনায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী পুলিশ ফাঁড়ির চার সদস্যকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

পুলিশের এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের যে ইউনিটগুলোতে অপরাধ প্রবণতা বেশি সেই ইউনিটগুলোতে সুপারভিশন বাড়ানো দরকার। যারা ইউনিটের দায়িত্বে আছেন তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্য কোনো অপারেশনে গেলে তাদের জিডি করে যেতে হয়। যারা ছিনতাই করলো তাহলে তারা কীভাবে বাইরে গেল। তারা জিডি ছাড়া গেলে তো এটা ভয়াবহ ব্যাপার।’’ তার বক্তব্য, ‘‘এমনিতে পুলিশের ভেতরে অপরাধ প্রবণতা আছে। তাদের ছোটখাট অপরাধের জন্য প্রতিবছরই অনেক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু এই ধরনের বড় অপরাধের জন্য শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা যথেষ্ঠ নয়।”