০৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য মাটির ঘর

 গ্রীম্মের তাপদাহে মানুষের যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, সব জায়গায় মানুষ যখন গরমে নাকাল, তখন একটু শীতলতার আশায় মানুষের কতো না আয়োজন। ঠিক সেই সময় খানিকটা আরামেই দিন কাটাচ্ছেন মাটির ঘরে বসবাস করা গ্রামের মানুষগুলো। রংপুরের বদরগঞ্জের রোস্তমাবাদ গ্রামে দেখা যায় সারি সারি মাটির ঘর। এ ঘরগুলো মাটি দিয়ে তৈরি।

 

 

এলাকাবাসি বলেন, আগে এ গ্রামে সবার বাড়িতেই মাটির ঘর ছিল। এখন আধুনিক যুগে মাটির ঘরগুলো কমে যাচ্ছে। এখনও এ গ্রামে অধিকাংশ বাড়িতে মাটির ঘর আছে। রোস্তমাবাদ গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি আব্দুল ওয়াহাব। বয়স ১১১ বছর। তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে চলাচল করেন। তিনি বলেন, হামার মাটির ঘরই ভালো। এগলা ঘরত গরমে ঠান্ডা নাগে আর আর ঠান্ডাত গরম নাগে। মানুষ দালান বাড়িতও গরমত থাকপের পায় না, আর হামরা মাটির ঘরত আরামে আছি। তিনি বলেন, তার বাড়িতে ২টা মাটির ঘর রয়েছে। এগুলো ৯০ এর দশকে তৈরি করা হয়েছিলো। তিনি আর তার স্ত্রী একটি ঘরে থাকে।

 

 

 

আর অন্যটি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেন। এ ঘরগুলো অনেক আগে তৈরি করা হলেও স¤পূর্ণ ভেঙে ফেলতে হয়নি। শুধুমাত্র কয়েকবার ঘরের ছাউনি পরিবর্তন করেছেন। আগে ছিলে খড়ের ছাউনি আর এখন ব্যবহার করছেন টিনের ছাউনি। আব্দুল ওয়াহাবের স্ত্রী বলেন, মাটির ঘরগুলো ভালো। তবে কিছুদিন পরপর মাটি দিয়ে লেপে দেওয়া লাগে। না হলে শ্যাওলা জমে। মাটি ও পানি দিয়ে লেপে দিলে আবারও নতুনের মতো হয়ে যায়। আরেক মাটির বাড়ির সামনে পুত্রবধূকে নিয়ে বসেছিলেন জাহানারা বেগম। তিনি বলেন ,তাদের মাটির ঘরটি প্রায় ৪০ বছর আগে তৈরি করা হয়। ছেলেরা চাকরি করেন।

 

 

 

অনেকের দেখাদেখি তারাও মাটির ঘর চাচ্ছে না। কিছুদিন পর ঘরগুলো ভেঙে হাফ বিল্ডিংয়ের বাড়ি তৈরি করা হবে। তারাদুল মিয়া নামে এক কৃষক বলেন, বাড়িতে একটি মাটির ঘর রয়েছে। এটি তার পূর্ব পুরুষের স্মৃতিচিহ্ন। দাদা বেঁচে থাকতে বাড়িটি তৈরি করা হয়। মাটির ঘর ঠান্ডা থাকার বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষক সোহাগ আলী বলেন, মাটির ঘরের দেয়ালগুলো অনেক পুরু হওয়ায় সূর্যের তাপ এগুলো ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। আর শীতের সময়েও বাইরের ঠান্ডাও ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না।

 

 

 

 

সাধারণত মাটির ঘর গরমকালে ঠান্ডা ও শীতের সময় গরম অনুভূত হয়। মাটি পোড়ায়ে ইট বানালে ঘনত্ব কমে যায়। কাঁচা মাটির দেয়ালের চেয়ে ইটের দেয়ালে দ্রুত তাপ প্রবেশ ও বের হতে পারে। ইট দিয়ে বাড়ি তৈরি করলেও সেখানে গরমকালে গরম ও ঠান্ডার সময় বেশ ঠান্ডা অনুভূত হয়। যা মাটির দেয়ালে হয় না। গ্রামীণ সংস্কৃতির জীবন্ত জাদুঘর মাটির ঘর গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের সাক্ষী। যুগ যুগ ধরে গ্রামগুলোতে টিকে ছিল মাটির ঘর। এ ঘর থেকেই বেড়ে ওঠেছিলো গ্রামবাংলার মহান ব্যক্তিরা।

 

 

রংপুর ছাড়াও উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও বগুড়ার কিছু এলাকায় মাটির ঘর দেখা যায়। যুগের বিবর্তনে কমে যাওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ প্রাচীন ঐতিহ্য মাটির ঘর।

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য মাটির ঘর

আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মে ২০২৪

 গ্রীম্মের তাপদাহে মানুষের যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, সব জায়গায় মানুষ যখন গরমে নাকাল, তখন একটু শীতলতার আশায় মানুষের কতো না আয়োজন। ঠিক সেই সময় খানিকটা আরামেই দিন কাটাচ্ছেন মাটির ঘরে বসবাস করা গ্রামের মানুষগুলো। রংপুরের বদরগঞ্জের রোস্তমাবাদ গ্রামে দেখা যায় সারি সারি মাটির ঘর। এ ঘরগুলো মাটি দিয়ে তৈরি।

 

 

এলাকাবাসি বলেন, আগে এ গ্রামে সবার বাড়িতেই মাটির ঘর ছিল। এখন আধুনিক যুগে মাটির ঘরগুলো কমে যাচ্ছে। এখনও এ গ্রামে অধিকাংশ বাড়িতে মাটির ঘর আছে। রোস্তমাবাদ গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি আব্দুল ওয়াহাব। বয়স ১১১ বছর। তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে চলাচল করেন। তিনি বলেন, হামার মাটির ঘরই ভালো। এগলা ঘরত গরমে ঠান্ডা নাগে আর আর ঠান্ডাত গরম নাগে। মানুষ দালান বাড়িতও গরমত থাকপের পায় না, আর হামরা মাটির ঘরত আরামে আছি। তিনি বলেন, তার বাড়িতে ২টা মাটির ঘর রয়েছে। এগুলো ৯০ এর দশকে তৈরি করা হয়েছিলো। তিনি আর তার স্ত্রী একটি ঘরে থাকে।

 

 

 

আর অন্যটি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেন। এ ঘরগুলো অনেক আগে তৈরি করা হলেও স¤পূর্ণ ভেঙে ফেলতে হয়নি। শুধুমাত্র কয়েকবার ঘরের ছাউনি পরিবর্তন করেছেন। আগে ছিলে খড়ের ছাউনি আর এখন ব্যবহার করছেন টিনের ছাউনি। আব্দুল ওয়াহাবের স্ত্রী বলেন, মাটির ঘরগুলো ভালো। তবে কিছুদিন পরপর মাটি দিয়ে লেপে দেওয়া লাগে। না হলে শ্যাওলা জমে। মাটি ও পানি দিয়ে লেপে দিলে আবারও নতুনের মতো হয়ে যায়। আরেক মাটির বাড়ির সামনে পুত্রবধূকে নিয়ে বসেছিলেন জাহানারা বেগম। তিনি বলেন ,তাদের মাটির ঘরটি প্রায় ৪০ বছর আগে তৈরি করা হয়। ছেলেরা চাকরি করেন।

 

 

 

অনেকের দেখাদেখি তারাও মাটির ঘর চাচ্ছে না। কিছুদিন পর ঘরগুলো ভেঙে হাফ বিল্ডিংয়ের বাড়ি তৈরি করা হবে। তারাদুল মিয়া নামে এক কৃষক বলেন, বাড়িতে একটি মাটির ঘর রয়েছে। এটি তার পূর্ব পুরুষের স্মৃতিচিহ্ন। দাদা বেঁচে থাকতে বাড়িটি তৈরি করা হয়। মাটির ঘর ঠান্ডা থাকার বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষক সোহাগ আলী বলেন, মাটির ঘরের দেয়ালগুলো অনেক পুরু হওয়ায় সূর্যের তাপ এগুলো ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। আর শীতের সময়েও বাইরের ঠান্ডাও ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না।

 

 

 

 

সাধারণত মাটির ঘর গরমকালে ঠান্ডা ও শীতের সময় গরম অনুভূত হয়। মাটি পোড়ায়ে ইট বানালে ঘনত্ব কমে যায়। কাঁচা মাটির দেয়ালের চেয়ে ইটের দেয়ালে দ্রুত তাপ প্রবেশ ও বের হতে পারে। ইট দিয়ে বাড়ি তৈরি করলেও সেখানে গরমকালে গরম ও ঠান্ডার সময় বেশ ঠান্ডা অনুভূত হয়। যা মাটির দেয়ালে হয় না। গ্রামীণ সংস্কৃতির জীবন্ত জাদুঘর মাটির ঘর গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের সাক্ষী। যুগ যুগ ধরে গ্রামগুলোতে টিকে ছিল মাটির ঘর। এ ঘর থেকেই বেড়ে ওঠেছিলো গ্রামবাংলার মহান ব্যক্তিরা।

 

 

রংপুর ছাড়াও উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও বগুড়ার কিছু এলাকায় মাটির ঘর দেখা যায়। যুগের বিবর্তনে কমে যাওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ প্রাচীন ঐতিহ্য মাটির ঘর।