০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

লালনের গান উদ্ধৃত করে ফেসবুকেপোস্ট দেয়ায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে সাংস্কৃতিক সমাবেশ

 

 

“সুন্নত দিলে হয় মুসলমান নারী জাতির কি হয় বিধান” লালনের গান উদ্ধৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিলে ২৯ এপ্রিল সঞ্জয় রক্ষিত (৪০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশ। এ গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

শনিবার ১১ মে  বিকাল ৫টায় শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে এ সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত শীর্ষ স্থানীয় শিল্পীদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় গানের আয়োজন।

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন বলেন, সঞ্জয় রক্ষিত কোনো অপরাধী না। সে লালনের গানের একটি লাইনকে উদ্ধৃত করেছে মাত্র।  তাকে এভাবে গ্রেফতার করাটা ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করার সামিল বলে আমি মনে করি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা ধর্মীয় বিদ্ধেষ ছড়ায় তাদের ওপর আইনী নজরদারী রাখা উচিত কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সঞ্জয় ধর্মীয় বিদ্ধেষ ছড়ায়নি। বরং সে লালনের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে  মাটির মানুষের অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়তে চেয়েছে। তবে যারা ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত দেয় কিংবা কোনো সম্প্রদায়কে নিয়ে কটুক্তি করে তাদেরকে আইনী নজরে রাখা  দরকার বলে আমি মনে করি।

উদীচীর সহ সাধারণ সম্পাদক সঙ্গিতা ঈমাম বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির মূল কথা হচ্ছে অসাম্প্রদায়িকতা, মানুষে মানুষে মিলনের কথা। লালন, হাসন রাজা, শাহ আব্দুল করিম, বিজয় সরকারেরা আজীবন মাটি ও মানুষের কথা বলে গেছেন। কিন্তু সঞ্জয়ের মতো মানুষদেরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এরই প্রতিবাদে আজকে আমাদের

এই পদক্ষেপ। বাউলকূলের প্রতি বৈষম্য  উদীচী কখনো মেনে নেয়নি এবং নিবে না। সমাবেশে অংশগ্রহণকারী রায়হানুল কবির বলেন, সঞ্জয়কে গ্রেফতার করা উচিত হয়নি।  এ দেশে ধর্মীয় অনুসারী যেমন রয়েছে তেমনি লালন, হাসন রাজাদের অনুসারীও রয়েছে। তাঁদের লেখা গানের উদ্ধৃতি দিয়ে পোস্ট করলে গ্রেফতার করা বেমানান।  তবে যদি এ ব্যক্তি ধর্মীয় বিদ্ধেষ ছড়ায়, এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যামে কোনো সম্প্রদায়কে আরো কোনোভাবে হ্যারেজ করে  কিংবা তাদেরকে নিয়ে কটুক্তি করে তবে এই গ্রেফতারকে সঠিক বলবো।

সমাবেশে অংশ নেয়া দীপান্বিতা সরকার বলেন, লালন যে মতাদর্শ লালন করতেন তা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক মতাদর্শ। তিনি সারাজীবন সুরে সুরে বাঙালি সংস্কৃতি ও  ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের কথা বলে গেছেন।  তার মতাদর্শ প্রচারে বাদা দেয়া ব্যক্তি স্বাধীনতায় আঘাত করার সামিল।

ভেদরগঞ্জ থানার ওসি মিন্টু মণ্ডল জানান, ফেসবুকে লালনের গানের কথা পোস্ট করেন সঞ্জয় রক্ষিত। এর মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে বলে থানায় এসে মৌখিক অভিযোগ জানান কয়েকজন। সামাজিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে সঞ্জয়কে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে অভিযোগকারীদের নাম জানাতে রাজি হননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

লালনের গান উদ্ধৃত করে ফেসবুকেপোস্ট দেয়ায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে সাংস্কৃতিক সমাবেশ

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪

 

 

“সুন্নত দিলে হয় মুসলমান নারী জাতির কি হয় বিধান” লালনের গান উদ্ধৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিলে ২৯ এপ্রিল সঞ্জয় রক্ষিত (৪০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশ। এ গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

শনিবার ১১ মে  বিকাল ৫টায় শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে এ সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত শীর্ষ স্থানীয় শিল্পীদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় গানের আয়োজন।

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন বলেন, সঞ্জয় রক্ষিত কোনো অপরাধী না। সে লালনের গানের একটি লাইনকে উদ্ধৃত করেছে মাত্র।  তাকে এভাবে গ্রেফতার করাটা ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করার সামিল বলে আমি মনে করি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা ধর্মীয় বিদ্ধেষ ছড়ায় তাদের ওপর আইনী নজরদারী রাখা উচিত কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সঞ্জয় ধর্মীয় বিদ্ধেষ ছড়ায়নি। বরং সে লালনের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে  মাটির মানুষের অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়তে চেয়েছে। তবে যারা ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত দেয় কিংবা কোনো সম্প্রদায়কে নিয়ে কটুক্তি করে তাদেরকে আইনী নজরে রাখা  দরকার বলে আমি মনে করি।

উদীচীর সহ সাধারণ সম্পাদক সঙ্গিতা ঈমাম বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির মূল কথা হচ্ছে অসাম্প্রদায়িকতা, মানুষে মানুষে মিলনের কথা। লালন, হাসন রাজা, শাহ আব্দুল করিম, বিজয় সরকারেরা আজীবন মাটি ও মানুষের কথা বলে গেছেন। কিন্তু সঞ্জয়ের মতো মানুষদেরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এরই প্রতিবাদে আজকে আমাদের

এই পদক্ষেপ। বাউলকূলের প্রতি বৈষম্য  উদীচী কখনো মেনে নেয়নি এবং নিবে না। সমাবেশে অংশগ্রহণকারী রায়হানুল কবির বলেন, সঞ্জয়কে গ্রেফতার করা উচিত হয়নি।  এ দেশে ধর্মীয় অনুসারী যেমন রয়েছে তেমনি লালন, হাসন রাজাদের অনুসারীও রয়েছে। তাঁদের লেখা গানের উদ্ধৃতি দিয়ে পোস্ট করলে গ্রেফতার করা বেমানান।  তবে যদি এ ব্যক্তি ধর্মীয় বিদ্ধেষ ছড়ায়, এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যামে কোনো সম্প্রদায়কে আরো কোনোভাবে হ্যারেজ করে  কিংবা তাদেরকে নিয়ে কটুক্তি করে তবে এই গ্রেফতারকে সঠিক বলবো।

সমাবেশে অংশ নেয়া দীপান্বিতা সরকার বলেন, লালন যে মতাদর্শ লালন করতেন তা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক মতাদর্শ। তিনি সারাজীবন সুরে সুরে বাঙালি সংস্কৃতি ও  ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের কথা বলে গেছেন।  তার মতাদর্শ প্রচারে বাদা দেয়া ব্যক্তি স্বাধীনতায় আঘাত করার সামিল।

ভেদরগঞ্জ থানার ওসি মিন্টু মণ্ডল জানান, ফেসবুকে লালনের গানের কথা পোস্ট করেন সঞ্জয় রক্ষিত। এর মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে বলে থানায় এসে মৌখিক অভিযোগ জানান কয়েকজন। সামাজিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে সঞ্জয়কে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে অভিযোগকারীদের নাম জানাতে রাজি হননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।