০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সকালের বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দিনভর জলাবদ্ধতা

🟢 ঢাকায় মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি, ছিল বর্জ্রপাতও
🟢 তীব্র যানজটে জনভোগান্তি চরমে
🟢 ড্রেন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশনে ধীরগতি
🟢 ফেলে রাখা নির্মাণ সামগ্রী ও ময়লা যাচ্ছে ড্রেনে

ঢাকায় গতকাল সকালে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। সকাল ৭টার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি, যা চলে প্রায় সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। এসময় রাজধানীতে ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা এই বছর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, চরম ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষ। এছাড়া বৃষ্টির সঙ্গে ব্যাপক বর্জ্রপাত নগরবাসীর আতঙ্ক বাড়ায়।

রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়দাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর ১৩, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট যেতে নতুন রাস্তায়, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায়, মোহাম্মদপুর, ইসিবি, গুলশান লেকপাড় এলাকার সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি দেখা যায়। এতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী ও জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষ। হাঁটু পানি ঠেলে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে। চলতি পথে হঠাৎ কোনো গাড়ি চলে আসলে জলাবদ্ধ পানির ঢেউয়ে আরও বিপাকে পড়ছেন তারা। এছাড়া সড়কের জলাবদ্ধ হয়ে থাকা পানি ঢুকে পড়ে বাসাবাড়িতেও। এতে আরও বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ ভাড়াটিয়ারা। পানির কারণে দোকানপাটও খুলতে পারেনি অনেক দোকানি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, রাজধানীতে সকালে ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ফলে ঢাকার তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় আবারও সারা দেশেই বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপের কারণে এই বৃষ্টি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে পানি নিষ্কাশনে বৃষ্টির পরপরই কাজ শুর করে দুই সিটি করপোরেশন। এরপরও বিভিন্ন সড়কে পানি নামতে দুপুর গড়িয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনে ধীরগতির কারণ হিসেবে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা ও তদারকি না করাকে কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, রাজধানীর অধিকাংশ ময়লা ফেলা হয় ড্রেনে। এছাড়াও রাস্তার পাশে রাখা নির্মাণ কাজের বালু ড্রেনে গিয়েও ড্রেনে পানির স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্ন করে।

খাল ও ড্রেনে বর্জ্য ফেললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে হুঁশিয়ারি দিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি হলে শহরে যেভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো সেটা অনেকাংশে সমাধান হয়েছে। একসময় বিভিন্ন প্রধান সড়কেও কয়েকদিন জলাবদ্ধতা হতো। এখন আর প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতা হয় না। অল্প সময়ের মধ্যেই জলাবদ্ধতা নিরসন এখনো অল্প এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়। এ জলাবদ্ধতা শুধু ড্রেনে ময়লা জমে জলাবদ্ধতা হয়।
গতকাল ডিএনসিসির বর্জ্য-প্রদর্শনীতে এসব কথা বলেন তিনি। গুলশান ডিএনসিসি ভবনের সামনের রাস্তায় খাল, ড্রেন ও লেকে বাসাবাড়ির বর্জ্য না ফেলার জন্য নাগরিকদের সচেতন করতে বর্জ্য-প্রদর্শনের আয়োজন করেছে সংস্থাটি। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে ডিএনসিসি মেয়র ঘুরে ঘুরে বর্জ্যগুলো দেখেন এবং প্রদর্শনীতে আসা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের সচেতন করেন।
বর্জ্যগুলো গুলশান-বনানী লেক, মোহাম্মদপুরের লাউতলা খাল, কাদেরাবাদ হাউজিং খাল, আদাবর খালসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রদর্শিত বর্জ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে লেপ-তোশক, সোফা, কমোড, বেসিন, টায়ার, রিকশার অংশবিশেষ, প্লাস্টিকের বোতল ও শো-পিস টেলিভিশনসহ বাসাবাড়িতে ব্যবহার্য আরও অনেক কিছু।
এসব কিছুর মধ্যে মোহাম্মদপুর কাদেরাবাদ হাউজিং খাল থেকে উদ্ধার করা সিরামিকের তৈরি একটি ‘ডানা ভাঙ্গা পরী’ সবার দৃষ্টিআকর্ষণ করেছে। এটিকে নিয়েই আগত দর্শনার্থীরা আলোচনা করছিলেন। কেউ কেউ এটাকে ময়লার খাল থেকে উঠে আসা ‘ডানাকাটা পরী’ বলেও সম্বোধন করছেন।
মেয়র বলেন, আমরা অসচেতনভাবে গৃহস্থালির বর্জ্য খাল, ডোবা, নালা ও ড্রেনে ফেলে দিই। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে দূষণ হয় নগরের পরিবেশ। আজকে এই বর্জ্য-প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়।

 

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

সকালের বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দিনভর জলাবদ্ধতা

আপডেট সময় : ০৭:১৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪

🟢 ঢাকায় মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি, ছিল বর্জ্রপাতও
🟢 তীব্র যানজটে জনভোগান্তি চরমে
🟢 ড্রেন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশনে ধীরগতি
🟢 ফেলে রাখা নির্মাণ সামগ্রী ও ময়লা যাচ্ছে ড্রেনে

ঢাকায় গতকাল সকালে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। সকাল ৭টার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি, যা চলে প্রায় সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। এসময় রাজধানীতে ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা এই বছর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, চরম ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষ। এছাড়া বৃষ্টির সঙ্গে ব্যাপক বর্জ্রপাত নগরবাসীর আতঙ্ক বাড়ায়।

রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়দাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর ১৩, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট যেতে নতুন রাস্তায়, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায়, মোহাম্মদপুর, ইসিবি, গুলশান লেকপাড় এলাকার সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি দেখা যায়। এতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী ও জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষ। হাঁটু পানি ঠেলে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে। চলতি পথে হঠাৎ কোনো গাড়ি চলে আসলে জলাবদ্ধ পানির ঢেউয়ে আরও বিপাকে পড়ছেন তারা। এছাড়া সড়কের জলাবদ্ধ হয়ে থাকা পানি ঢুকে পড়ে বাসাবাড়িতেও। এতে আরও বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ ভাড়াটিয়ারা। পানির কারণে দোকানপাটও খুলতে পারেনি অনেক দোকানি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, রাজধানীতে সকালে ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ফলে ঢাকার তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় আবারও সারা দেশেই বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপের কারণে এই বৃষ্টি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে পানি নিষ্কাশনে বৃষ্টির পরপরই কাজ শুর করে দুই সিটি করপোরেশন। এরপরও বিভিন্ন সড়কে পানি নামতে দুপুর গড়িয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনে ধীরগতির কারণ হিসেবে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা ও তদারকি না করাকে কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, রাজধানীর অধিকাংশ ময়লা ফেলা হয় ড্রেনে। এছাড়াও রাস্তার পাশে রাখা নির্মাণ কাজের বালু ড্রেনে গিয়েও ড্রেনে পানির স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্ন করে।

খাল ও ড্রেনে বর্জ্য ফেললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে হুঁশিয়ারি দিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি হলে শহরে যেভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো সেটা অনেকাংশে সমাধান হয়েছে। একসময় বিভিন্ন প্রধান সড়কেও কয়েকদিন জলাবদ্ধতা হতো। এখন আর প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতা হয় না। অল্প সময়ের মধ্যেই জলাবদ্ধতা নিরসন এখনো অল্প এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়। এ জলাবদ্ধতা শুধু ড্রেনে ময়লা জমে জলাবদ্ধতা হয়।
গতকাল ডিএনসিসির বর্জ্য-প্রদর্শনীতে এসব কথা বলেন তিনি। গুলশান ডিএনসিসি ভবনের সামনের রাস্তায় খাল, ড্রেন ও লেকে বাসাবাড়ির বর্জ্য না ফেলার জন্য নাগরিকদের সচেতন করতে বর্জ্য-প্রদর্শনের আয়োজন করেছে সংস্থাটি। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে ডিএনসিসি মেয়র ঘুরে ঘুরে বর্জ্যগুলো দেখেন এবং প্রদর্শনীতে আসা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের সচেতন করেন।
বর্জ্যগুলো গুলশান-বনানী লেক, মোহাম্মদপুরের লাউতলা খাল, কাদেরাবাদ হাউজিং খাল, আদাবর খালসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রদর্শিত বর্জ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে লেপ-তোশক, সোফা, কমোড, বেসিন, টায়ার, রিকশার অংশবিশেষ, প্লাস্টিকের বোতল ও শো-পিস টেলিভিশনসহ বাসাবাড়িতে ব্যবহার্য আরও অনেক কিছু।
এসব কিছুর মধ্যে মোহাম্মদপুর কাদেরাবাদ হাউজিং খাল থেকে উদ্ধার করা সিরামিকের তৈরি একটি ‘ডানা ভাঙ্গা পরী’ সবার দৃষ্টিআকর্ষণ করেছে। এটিকে নিয়েই আগত দর্শনার্থীরা আলোচনা করছিলেন। কেউ কেউ এটাকে ময়লার খাল থেকে উঠে আসা ‘ডানাকাটা পরী’ বলেও সম্বোধন করছেন।
মেয়র বলেন, আমরা অসচেতনভাবে গৃহস্থালির বর্জ্য খাল, ডোবা, নালা ও ড্রেনে ফেলে দিই। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে দূষণ হয় নগরের পরিবেশ। আজকে এই বর্জ্য-প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়।