০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে একটাকায় শিক্ষা’র ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এক টাকায় শিক্ষা’ ফাউন্ডেশনের ক্লাসরুম প্রজেক্টে পথশিশুদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম  আয়োজন করা হয়েছে।
রবিবার (১২ মে) বিকাল ৪টার দিকে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়  স্টেশন প্লাটফর্মে সহযোগী সংগঠন একলা চলো রে’র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় ক্লাস প্রজেক্ট তত্ত্বাবধায়ক সাকিব আহমেদের সঞ্চালনায় ও ক্লাসরুম প্রজেক্ট ইনচার্জ শিহাব শাহরিয়ারের সভাপতিত্বে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ‘এক টাকায় শিক্ষা’ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রিজুয়ান মজকুরি।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আজহার ও সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান, উদ্দীপ্ত বাংলাদেশের হাসিবুল খান, একলা চলো রে’র সভাপতি সাজেদুল ইসলাম পিয়াল ও সাধারণ সম্পাদক তানভীন লিওন। এছাড়াও ক্লাসরুম প্রজেক্টের ইনচার্জ শিহাব শাহরিয়ার, রোবাইদা খানম ওহী ও শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তার বক্তব্যে সংগঠন তথা ক্লাসরুম প্রজেক্টের দীর্ঘ পথচলা ও পূর্ব অভিজ্ঞতাকে স্মরণ করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্বুদ্ধ করে আগামীতে সফলভাবে দরিদ্র, অসহায় শিক্ষার্থীদের সহোযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখার ও ভবিষ্যত সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উদ্দীপ্ত বাংলাদেশের সভাপতি হাসিবুল খান এক টাকায় শিক্ষা ক্লাসরুম প্রজেক্টকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ত্যাগের জায়গা বলে আখ্যায়িত করেন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হবার স্বপ্নের দেখার কথা বলেন।
একলা চলো রের সভাপতি সায়েদুল ইসলাম পিয়াল বলেন, সমাজের মূলধারার বাহিরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আওতায় এনে সমাজ পরিবর্তন কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনগুলো, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনসহ যেকোনো প্রয়োজনে সবাই একসাথে কাজ করবো। একইসাথে একলা চলো রের সাধারণ সম্পাদক তানভীন লিওন শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আর্থিক অস্বচ্ছলতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ – সুবিধার অভাবে মেয়েকে পড়াশোনা করাতে চেয়েও পারছেন না। এক টাকায় শিক্ষার এমন আয়োজন ও উদ্যোগে সেটি সম্ভব হয়েছে।
শিক্ষার্থী রিপাবলিক বলেন, আজ আমার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এবং আমি জিপিএ ৪.০০ উত্তীর্ণ হয়েছি, যা কেবল এক টাকায় শিক্ষার সহোযোগিতায় সম্ভব হয়েছে। আমি খুবই আনন্দিত। আগামীতে কলেজে ভর্তি হবো এবং বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার স্বপ্ন আমার।
ওরিয়েন্টেশনে সুবিধা বঞ্চিত পথশিশু ও সাধারণ দরিদ্র প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে পুনরায় ক্লাসরুম কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে নাস্তা বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ‘এক টাকায় শিক্ষা’ ফাউন্ডেশন ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘প্রিন্স ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্ত একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। যেটি শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে এবং সম্প্রতি দুইজন (০২) ইনচার্জ ও বারোজন (১২) শিক্ষকদের নিয়ে ক্লাসরুম প্রজেক্টে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

চবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে একটাকায় শিক্ষা’র ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এক টাকায় শিক্ষা’ ফাউন্ডেশনের ক্লাসরুম প্রজেক্টে পথশিশুদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম  আয়োজন করা হয়েছে।
রবিবার (১২ মে) বিকাল ৪টার দিকে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়  স্টেশন প্লাটফর্মে সহযোগী সংগঠন একলা চলো রে’র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় ক্লাস প্রজেক্ট তত্ত্বাবধায়ক সাকিব আহমেদের সঞ্চালনায় ও ক্লাসরুম প্রজেক্ট ইনচার্জ শিহাব শাহরিয়ারের সভাপতিত্বে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ‘এক টাকায় শিক্ষা’ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রিজুয়ান মজকুরি।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আজহার ও সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান, উদ্দীপ্ত বাংলাদেশের হাসিবুল খান, একলা চলো রে’র সভাপতি সাজেদুল ইসলাম পিয়াল ও সাধারণ সম্পাদক তানভীন লিওন। এছাড়াও ক্লাসরুম প্রজেক্টের ইনচার্জ শিহাব শাহরিয়ার, রোবাইদা খানম ওহী ও শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তার বক্তব্যে সংগঠন তথা ক্লাসরুম প্রজেক্টের দীর্ঘ পথচলা ও পূর্ব অভিজ্ঞতাকে স্মরণ করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্বুদ্ধ করে আগামীতে সফলভাবে দরিদ্র, অসহায় শিক্ষার্থীদের সহোযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখার ও ভবিষ্যত সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উদ্দীপ্ত বাংলাদেশের সভাপতি হাসিবুল খান এক টাকায় শিক্ষা ক্লাসরুম প্রজেক্টকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ত্যাগের জায়গা বলে আখ্যায়িত করেন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হবার স্বপ্নের দেখার কথা বলেন।
একলা চলো রের সভাপতি সায়েদুল ইসলাম পিয়াল বলেন, সমাজের মূলধারার বাহিরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আওতায় এনে সমাজ পরিবর্তন কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনগুলো, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনসহ যেকোনো প্রয়োজনে সবাই একসাথে কাজ করবো। একইসাথে একলা চলো রের সাধারণ সম্পাদক তানভীন লিওন শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আর্থিক অস্বচ্ছলতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ – সুবিধার অভাবে মেয়েকে পড়াশোনা করাতে চেয়েও পারছেন না। এক টাকায় শিক্ষার এমন আয়োজন ও উদ্যোগে সেটি সম্ভব হয়েছে।
শিক্ষার্থী রিপাবলিক বলেন, আজ আমার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এবং আমি জিপিএ ৪.০০ উত্তীর্ণ হয়েছি, যা কেবল এক টাকায় শিক্ষার সহোযোগিতায় সম্ভব হয়েছে। আমি খুবই আনন্দিত। আগামীতে কলেজে ভর্তি হবো এবং বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার স্বপ্ন আমার।
ওরিয়েন্টেশনে সুবিধা বঞ্চিত পথশিশু ও সাধারণ দরিদ্র প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে পুনরায় ক্লাসরুম কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে নাস্তা বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ‘এক টাকায় শিক্ষা’ ফাউন্ডেশন ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘প্রিন্স ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্ত একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। যেটি শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে এবং সম্প্রতি দুইজন (০২) ইনচার্জ ও বারোজন (১২) শিক্ষকদের নিয়ে ক্লাসরুম প্রজেক্টে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।