০৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রায় দেড় যুগ ধরে টিনশেড ঘরে চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে ১৬ বছর ধরে ছোট্ট একটি টিনশেড ঘরে চলছে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠদান। নেই স্বাস্থ্যসম্মত টয়েলট,বৈদ্যুতিক ও সুপেয় পানির সুবিধা।গরমে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।দ্রুত ভবন নির্মাণের দাবি শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নের ‘চর কাটখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’টি ২০০৮ সালে নদী ভাঙ্গনের কারনে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সরকার।তারপর থেকে বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী টিনশেড় ঘরে পাঠদান চালিয়ে আসছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ভবন সংকটে মিলছে না ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দ।পাঠদানে ব্যবহত হয় না শিক্ষা উপকরণ,নেই শিশুদের খেলা-ধুলার সুবিধা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,১৯৮৯ সালে কাটখাল ইউনিয়নের কালনী নদীর পূর্ব তীরে চর কাটখাল গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় ’চর কাটখাল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।এ বিদ্যালয়ে রয়েছে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী।
১৯৯৬ সালে নির্মিত ভবনটি কালনী নদীর ভাঙ্গনের কারনে মাত্র ১২ বছর পর ২০০৮ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়।পরে ২০১৯ ইং সাল পর্যন্ত কাটখাল বাজার জামে মসজিদ এলাকায় একটি অস্থায়ী ঘরে চলে পাঠদান।তারপর থেকে পূর্ব চর কাটখাল গ্রামে ২৫ শতাংশ জমিতে ছোট্ট একটি টিনশেড ঘর উঠিয়ে পরিচালিত হচ্ছে শিশুদের পাঠদান।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরে ছোট্ট তিনটি শ্রেণিকক্ষ ও নামমাত্র অফিস কক্ষ। এক কক্ষের শব্দে অন্য কক্ষে পাঠদান করানো দুষ্কর।বারান্দাহীন টিনশেড এই ঘরে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, টিউবওয়েল ও টয়লেট সুবিধা।
আর দশটা বিদ্যালয়ের মত নেই সাজানো গুছানো দেয়াল।পাঠদানে ব্যবহৃত হয় না কোনো শিক্ষা উপকরন।বিদ্যালয়ের সামনে দৈনিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও নেই খেলা-ধূলার কোন উপকরণ। প্রকৃতির ডাক ও পানি খেতে যেতে হয় নিকটতম বাড়িতে।
শিক্ষার্থীরা জানান,পাশের স্কুল দেখলে আনন্দ লাগে,কি সুন্দর স্কুল,পরিবেশ আর আমাদের বিদ্যালয়ে ভাঙ্গাচুরা ঘর।গরমের দিনে পাখা ব্যবহার হয় না,পানিও খেতে পারি না।ঝড়ের দিনে ভয় লাগে,আকাশ খারাপ (মেঘ) করলে দৌড়ে বাড়ি চলে যাই।
শিক্ষকরা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আমরা যে প্রশিক্ষণ নেয়,তার সাথে এই বিদ্যালয়ে শিশুদের পাঠদানে সমন্বয় করতে পারিনা ভবন ও শিক্ষা উপকরণসহ নানা সংকটের কারনে।
২০১৩ সালে জাতীয়করণকৃত এই বিদ্যালয়ে ০৬ জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ০৪ জন।শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত রয়েছেন ১৩০ জন শিক্ষার্থী।২০১৬ সালে দ্বিতীয় দফায় বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের আবেদন করেও কোন সাড়া পায়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক বলেন, বিদ্যালয়টিতে নানামুখি সংকটের কারনে আমরা যে প্রশিক্ষণ পাই,তা শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রয়োগ করতে পারিনা।সরকার যদি দ্রুত আমাদের ভবনসহ পানি, টয়লেট ও সুন্দর পরিবেশ করে দিতো,আমরা ভালোভাবে পাঠদান করাতে পারতাম।
কাটখাল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন, বহুদিন ধরে টিনশেড ঘরে পাঠদান করছে শিক্ষকরা।উপজেলা সমন্বয় সভায় ভবন নির্মাণ বিষয়ে আলোচনা করেছি।কেন ভবনটি নির্মাণ হচ্ছে না,তা জানিনা।শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে দ্রুত ভবন নির্মাণের দাবি জানাই।
মিঠামইন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বলেন, আমি এই উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছি,এ বিদ্যালয়টির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।আমরা আশা করছি শীঘ্রই সরকারের ’চর ও হাওরাঞ্চল উন্নয়ন’ প্রকল্পের অধীনে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুরু হবে।

প্রায় দেড় যুগ ধরে টিনশেড ঘরে চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে ১৬ বছর ধরে ছোট্ট একটি টিনশেড ঘরে চলছে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠদান। নেই স্বাস্থ্যসম্মত টয়েলট,বৈদ্যুতিক ও সুপেয় পানির সুবিধা।গরমে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।দ্রুত ভবন নির্মাণের দাবি শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নের ‘চর কাটখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’টি ২০০৮ সালে নদী ভাঙ্গনের কারনে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সরকার।তারপর থেকে বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী টিনশেড় ঘরে পাঠদান চালিয়ে আসছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ভবন সংকটে মিলছে না ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দ।পাঠদানে ব্যবহত হয় না শিক্ষা উপকরণ,নেই শিশুদের খেলা-ধুলার সুবিধা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,১৯৮৯ সালে কাটখাল ইউনিয়নের কালনী নদীর পূর্ব তীরে চর কাটখাল গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় ’চর কাটখাল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।এ বিদ্যালয়ে রয়েছে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী।
১৯৯৬ সালে নির্মিত ভবনটি কালনী নদীর ভাঙ্গনের কারনে মাত্র ১২ বছর পর ২০০৮ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়।পরে ২০১৯ ইং সাল পর্যন্ত কাটখাল বাজার জামে মসজিদ এলাকায় একটি অস্থায়ী ঘরে চলে পাঠদান।তারপর থেকে পূর্ব চর কাটখাল গ্রামে ২৫ শতাংশ জমিতে ছোট্ট একটি টিনশেড ঘর উঠিয়ে পরিচালিত হচ্ছে শিশুদের পাঠদান।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরে ছোট্ট তিনটি শ্রেণিকক্ষ ও নামমাত্র অফিস কক্ষ। এক কক্ষের শব্দে অন্য কক্ষে পাঠদান করানো দুষ্কর।বারান্দাহীন টিনশেড এই ঘরে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, টিউবওয়েল ও টয়লেট সুবিধা।
আর দশটা বিদ্যালয়ের মত নেই সাজানো গুছানো দেয়াল।পাঠদানে ব্যবহৃত হয় না কোনো শিক্ষা উপকরন।বিদ্যালয়ের সামনে দৈনিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও নেই খেলা-ধূলার কোন উপকরণ। প্রকৃতির ডাক ও পানি খেতে যেতে হয় নিকটতম বাড়িতে।
শিক্ষার্থীরা জানান,পাশের স্কুল দেখলে আনন্দ লাগে,কি সুন্দর স্কুল,পরিবেশ আর আমাদের বিদ্যালয়ে ভাঙ্গাচুরা ঘর।গরমের দিনে পাখা ব্যবহার হয় না,পানিও খেতে পারি না।ঝড়ের দিনে ভয় লাগে,আকাশ খারাপ (মেঘ) করলে দৌড়ে বাড়ি চলে যাই।
শিক্ষকরা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আমরা যে প্রশিক্ষণ নেয়,তার সাথে এই বিদ্যালয়ে শিশুদের পাঠদানে সমন্বয় করতে পারিনা ভবন ও শিক্ষা উপকরণসহ নানা সংকটের কারনে।
২০১৩ সালে জাতীয়করণকৃত এই বিদ্যালয়ে ০৬ জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ০৪ জন।শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত রয়েছেন ১৩০ জন শিক্ষার্থী।২০১৬ সালে দ্বিতীয় দফায় বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের আবেদন করেও কোন সাড়া পায়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক বলেন, বিদ্যালয়টিতে নানামুখি সংকটের কারনে আমরা যে প্রশিক্ষণ পাই,তা শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রয়োগ করতে পারিনা।সরকার যদি দ্রুত আমাদের ভবনসহ পানি, টয়লেট ও সুন্দর পরিবেশ করে দিতো,আমরা ভালোভাবে পাঠদান করাতে পারতাম।
কাটখাল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন, বহুদিন ধরে টিনশেড ঘরে পাঠদান করছে শিক্ষকরা।উপজেলা সমন্বয় সভায় ভবন নির্মাণ বিষয়ে আলোচনা করেছি।কেন ভবনটি নির্মাণ হচ্ছে না,তা জানিনা।শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে দ্রুত ভবন নির্মাণের দাবি জানাই।
মিঠামইন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বলেন, আমি এই উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছি,এ বিদ্যালয়টির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।আমরা আশা করছি শীঘ্রই সরকারের ’চর ও হাওরাঞ্চল উন্নয়ন’ প্রকল্পের অধীনে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুরু হবে।