০৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় চাকরির প্রলোভন দিয়ে টাকা আত্মসাৎ, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

নওগাঁর ধামইরহাটের বড়থা ডি আই ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম খোদাদাদের বিরুদ্ধে মো. শহিদ নামের এক চাকরি প্রার্থীর নিকট থেকে ১৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শহিদ রহমান বাদী হয়ে ১৫মে (বুধবার) জয়পুরহাট র‍্যাব ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাদ্রাসার শূন্য পদে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে লোক নিবে বলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। সেখানে আমি ওই পদের একজন প্রার্থী হিসেবে আবেদন করি। পরে সেই পদে আমাকে নিয়োগ দেবেন বলে আমার কাছে ১৪ লক্ষ টাকা দাবী করে। আমি বেকার হওয়ায় চাকুরীর প্রত্যাশায় বিবাদীর দাবি মেনে তাকে পর্যায়ক্রমে আড়ানগর ইউপি চেয়ারম্যান মোসাদ্দেকুর রহমান ও প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের উপস্থিতিতে নগদ ১৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা প্রদান করি। পরবর্তীতে গত ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ওই পদের লোক নিয়োগ সংক্রান্তে বোর্ড হইলেও সে তার কথামতো আমাকে চাকুরীতে নিয়োগ না দিয়ে অন্য জনকে নিয়োগ দেন।
এরপর ওই মাসের ২৪ তারিখে মাদ্রাসায় এসে তার আমাকে চাকুরী না দেওয়ার বিষয়ে কথা বললে সে আমার সাথে অশালীন আচরণ করে। আমার দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে সে আমার টাকা ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। সে এখনো আমার টাকা ফেরত না দিয়ে আমার পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার পায়তারা করতেছে।
উল্লেখ্য যে, একটি এনজিও এর টাকা আত্মসাতের মামলায় তার ৫ মাস সাজা হয়। পরে তাকে গত ৬ মার্চ থানা পুলিশ আটক আদালতে প্রেরণ করেন। কারাবাস অবস্থায় তাকে মাদ্রাসা থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। যদিও বর্তমানে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বাহিরে আসেন।
ভুক্তভোগী চাকরি প্রার্থী শহিদ রহমান বলেন, আমাকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি আমার কাছে থেকে টাকা নেন। তিনি চাকরি না দেওয়ায় তার কাছে থেকে টাকা ফেরত চাইলেও তিনি এখন পর্যন্ত টাকা ফেরত দেননি। তিনি এখন আর মাদ্রাসায় আসেন না এমনকি তার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায় না। তাই আমি বাধ্য হয়ে র‍্যাব ক্যাম্পে অভিযোগ দায়ের করেছি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে আড়ানগর ইউপির চেয়ারম্যান মোসাদ্দেকুর রহমান বলেন, চাকরি দেওয়ার নামে অধ্যক্ষ আমার সামনে সোহেলের কাছে থেকে টাকা নিয়েছে।
জানতে চাইলে ওই মাদ্রাসার বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম খোদাদাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জয়পুরহাট র‍্যাব ক্যাম্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নওগাঁয় চাকরির প্রলোভন দিয়ে টাকা আত্মসাৎ, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

আপডেট সময় : ১০:১৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪
নওগাঁর ধামইরহাটের বড়থা ডি আই ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম খোদাদাদের বিরুদ্ধে মো. শহিদ নামের এক চাকরি প্রার্থীর নিকট থেকে ১৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শহিদ রহমান বাদী হয়ে ১৫মে (বুধবার) জয়পুরহাট র‍্যাব ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাদ্রাসার শূন্য পদে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে লোক নিবে বলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। সেখানে আমি ওই পদের একজন প্রার্থী হিসেবে আবেদন করি। পরে সেই পদে আমাকে নিয়োগ দেবেন বলে আমার কাছে ১৪ লক্ষ টাকা দাবী করে। আমি বেকার হওয়ায় চাকুরীর প্রত্যাশায় বিবাদীর দাবি মেনে তাকে পর্যায়ক্রমে আড়ানগর ইউপি চেয়ারম্যান মোসাদ্দেকুর রহমান ও প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের উপস্থিতিতে নগদ ১৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা প্রদান করি। পরবর্তীতে গত ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ওই পদের লোক নিয়োগ সংক্রান্তে বোর্ড হইলেও সে তার কথামতো আমাকে চাকুরীতে নিয়োগ না দিয়ে অন্য জনকে নিয়োগ দেন।
এরপর ওই মাসের ২৪ তারিখে মাদ্রাসায় এসে তার আমাকে চাকুরী না দেওয়ার বিষয়ে কথা বললে সে আমার সাথে অশালীন আচরণ করে। আমার দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে সে আমার টাকা ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। সে এখনো আমার টাকা ফেরত না দিয়ে আমার পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার পায়তারা করতেছে।
উল্লেখ্য যে, একটি এনজিও এর টাকা আত্মসাতের মামলায় তার ৫ মাস সাজা হয়। পরে তাকে গত ৬ মার্চ থানা পুলিশ আটক আদালতে প্রেরণ করেন। কারাবাস অবস্থায় তাকে মাদ্রাসা থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। যদিও বর্তমানে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বাহিরে আসেন।
ভুক্তভোগী চাকরি প্রার্থী শহিদ রহমান বলেন, আমাকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি আমার কাছে থেকে টাকা নেন। তিনি চাকরি না দেওয়ায় তার কাছে থেকে টাকা ফেরত চাইলেও তিনি এখন পর্যন্ত টাকা ফেরত দেননি। তিনি এখন আর মাদ্রাসায় আসেন না এমনকি তার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায় না। তাই আমি বাধ্য হয়ে র‍্যাব ক্যাম্পে অভিযোগ দায়ের করেছি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে আড়ানগর ইউপির চেয়ারম্যান মোসাদ্দেকুর রহমান বলেন, চাকরি দেওয়ার নামে অধ্যক্ষ আমার সামনে সোহেলের কাছে থেকে টাকা নিয়েছে।
জানতে চাইলে ওই মাদ্রাসার বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম খোদাদাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জয়পুরহাট র‍্যাব ক্যাম্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।