০৯:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হতাশায় কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই হতাশায় ভুগছেন, কেন তারা হতাশা নামক ব্যাধিতে ভুগছেন। হতাশা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আষ্টে-পৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরে,অনার্স, মাস্টার্স শেষ করে একজন শিক্ষার্থী কী করবে, কোথায় যাবে?  এই চিন্তায় মগ্ন  । শাহজালাল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি)  একদল গবেষক প্রায় দুই বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করেছেন তাদের গবেষণাটি। এতে শাবিপ্রবিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য়,৪থ এবং মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের এ গবেষণার আওতায় আনা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ শতাংশের মধ্যে বিষন্নতা এবং একাকীত্ব রয়েছে। মানসিক চাপ বেড়ে ৭০ শতাংশ।তাই  শিক্ষার্থীদের হতাশায় পড়ার কিছু কারণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো  —

১.ভালোলাগার বিষয় নিয়ে পড়তে না পারা: 
ভর্তি পরীক্ষার আরেক নাম রণক্ষেত্র , এই রণক্ষেত্রে জয়ী হতে হলে প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম কিন্তু সবাই পরিশ্রমী হলে কেউ না কেউ পিছিয়ে পড়বেই। কেউ স্বপ্নের বিষয় নিয়ে পড়বে, আবার কেউ পড়বে ভালো না লাগার বিষয় নিয়ে।প্রখ্যাত রোমান ফিলোসফার   Marcus Tullius Cicero এর মতে, “ While There’s Life, There’s hope “ সুতরাং না পাওয়া থাকতেই পারে। তাই বলে হার মেনে নেওয়া চলবে না। ১% সম্ভাবনা’কে শক্তি’তে রুপান্তর করে এগিয়ে যেতে হবে। ১% থেকে ১০% করে এগুতে হয়। তাহলেই সফলতা নিশ্চিত হয় উজ্জ্বল হাসির ন্যায়। ভালোলাগার বিষয় নিয়ে পড়তে না পারার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হতাশায় ভুগছেন।
২.পারিবারিক প্রত্যাশার অতিরিক্ত চাপ :
পড়াশোনা শেষ করা মানেই  চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে হবে। চাকরিই জীবন। চাকরির বাইরে অন্যকিছু মাথায়ও আনা যাবে না। ব্যক্তি’কে মূল্যায়ন করা হচ্ছে একটি ভালো চাকরি দিয়ে তার চরিত্র দিয়ে নয়। পারিবারিক অতিরিক্ত চাপ একজন শিক্ষার্থী চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে পরিবার,সমাজ,রাষ্ট্রের চাহিদা অতিরিক্ত হওয়ার সাথে-সাথে প্রোপার সুযোগ না দেওয়ায়; একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে হতাশা নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে। একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীর অনেক স্বপ্ন থাকতে পারে,তার সেই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নকে পূরণ করতে পারিবারিক সমর্থন অতিগুরুত্বপূর্ণ।

৩. অর্থনৈতিক সমস্যা : 
স্বপ্নে আঙিনায় পড়ার যে স্বপ্ন একজন শিক্ষার্থী লালন করেন, তা এক নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে যায় অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে। ১বর্ষ থেকে ২য় বর্ষ পর্যন্ত হাতখরচের টাকা পরিবার থেকে নিলেও এরপরে চাইলেও টাকা নেয়া যায় না। সেটি হতে পারে লজ্জায় এবং অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে। একদিকে স্বপ্নের পৃথিবী অন্যদিকে বাস্তবতার হাহাকার ; যার ফলস্বরূপ একজন শিক্ষার্থীকে দাঁড়াতে হয় পকেট খরচের যুদ্ধে। অনেকে পরিবারের দায়ভার নিজ কাঁধে তুলে হাঁটছেন পৃথিবীর কন্ঠকাকীর্ণ পথ। বাবার চিকিৎসার টাকা, বোনের স্কুলের মাসিক ফি, ছোট ভাইটির আবদার পূরণ করতে একজন নিম্নমধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীর স্বপ্নের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। যার ফলে হতাশার বালুচরে বাসা বাঁধেন একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী।

৪.সামাজিক প্রত্যাশার অতিরিক্ত চাপ :
সামাজিক প্রত্যাশার অতিরিক্ত চাপের ফলে শিক্ষার্থীদের অনেকেই হতাশায় ভুগছেন। সামাজিকভাবে বড় ভাই, মুরুব্বি মহল, অশিক্ষিত -শিক্ষিত শ্রেণীর প্রত্যাশার কথা বার-বার শুনার ফলে শিক্ষার্থীদের অনেকেই চাপ অনুভব করেন। এটির ফলেই হতাশার সৃষ্টি হয়।  সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের প্রত্যাশা বেড়ে যায়। পরিবারের প্রত্যাশা বাড়ার সাথে নিজের প্রত্যাশাও বেড়ে যায়। কোনো একটি দিক ব্যালেন্স না করার কারণে  হতাশায় পড়েন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
৫.  সময়কে অবমূল্যায়ন :
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী সময়ের সাথে-সাথে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন । অতিরিক্ত  ক্লাবিং করে হতাশায় পড়ে যান অনেকেই। সময়’কে সঠিকভাবে ব্যবহার না করার কারণে, পূর্বের অনুশোচনা বোধ এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছুতে ব্যর্থ হওয়ায় হতাশায় পড়ে যান অনেক শিক্ষার্থী। মৃত্যু থেকে ধার করে আনা সময়ের নাম যদি জীবন হয় তাহলে সেই জীবনের অতিগুরুত্বপূর্ণ সময়কে অবমূল্যায়ন করার কোনো সুযোগ সফলতার ডায়েরিতে নেই। এজন্যই  Jonathan Estrin বলেছেন, ❝The way we  Spend Our Time Difines Who We Are ❞।
আমরা কীভাবে সময় ব্যবহার  করছি তার উপর ডিপেন্ড করে  আসলে আমরা কে? নিজের স্বপ্নকে সময় দিলে, আপনার স্বপ্নই একদিন সফলতা সুউচ্চ প্রাসাদে পৌছুতে সক্ষম হবে।

৬. অসৎ সঙ্গেই সর্বনাশ:
বন্ধু নির্বাচনে অনেক শিক্ষার্থী ব্যর্থ হোন। বাজে নেশায় আসক্ত হয়ে ডিপার্টমেন্টের রেজাল্ট খারাপ করে হতাশায় ভুগছেন। বন্ধু-বান্ধবের পাল্লায় পরে নিজের জীবন ধ্বংস করে অনেকেই হতাশায় ভুগছেন। রবার্ট নাথানের একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে আর তা হলো—

❝আনন্দের সঙ্গী আছে
কিন্তু দুঃখ নিঃসঙ্গ ❞।

আনন্দের মধ্যে অনেকে শামিল হন কিন্তু দুঃখের মহাসাগর পারি দিতে হয় নিজে নিজেই। George Herbert এর মতে,
‘’The best mirror is an old friend ‘’
এর চেয়ে ভালো কথা আর হতেই পারে না।
একজন বন্ধু হবে আয়নার মতো স্বচ্ছ যার সামনে দাঁড়ালে নিজেকে দেখতে পাওয়া যায়। সঠিক বন্ধু কখনো খারাপ পরামর্শ দিতে পারে না। তাই এই হতাশা থেকে মুক্ত থাকতে হলে নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে এবং সময়’কে ভালোভাবে ব্যবহার করা শিখতে হবে। বন্ধু নির্বাচনে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। সময়ের সাথে-সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে পারিবারিক প্রত্যাশার সাথে, সমাজিক প্রত্যাশার  সাথে এবং রাষ্ট্রের চাহিদার সাথে। অতিরিক্ত প্রত্যাশা থেকেও নিজেকে মুক্ত রাখতে পারলে মিলবে হতাশা নামক কালো ছায়া থেকে মুক্তি। তাই সর্বদা সৎগুণ সম্পন্ন বন্ধুর সাথে মিশতে হবে, তাহলে নিজের সুনাম রক্ষা হবে। কুসঙ্গ অপেক্ষা সঙ্গীবিহীন থাকা অনেক ভালো।

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

হতাশায় কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ১০:৫৪:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪

বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই হতাশায় ভুগছেন, কেন তারা হতাশা নামক ব্যাধিতে ভুগছেন। হতাশা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আষ্টে-পৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরে,অনার্স, মাস্টার্স শেষ করে একজন শিক্ষার্থী কী করবে, কোথায় যাবে?  এই চিন্তায় মগ্ন  । শাহজালাল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি)  একদল গবেষক প্রায় দুই বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করেছেন তাদের গবেষণাটি। এতে শাবিপ্রবিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য়,৪থ এবং মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের এ গবেষণার আওতায় আনা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ শতাংশের মধ্যে বিষন্নতা এবং একাকীত্ব রয়েছে। মানসিক চাপ বেড়ে ৭০ শতাংশ।তাই  শিক্ষার্থীদের হতাশায় পড়ার কিছু কারণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো  —

১.ভালোলাগার বিষয় নিয়ে পড়তে না পারা: 
ভর্তি পরীক্ষার আরেক নাম রণক্ষেত্র , এই রণক্ষেত্রে জয়ী হতে হলে প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম কিন্তু সবাই পরিশ্রমী হলে কেউ না কেউ পিছিয়ে পড়বেই। কেউ স্বপ্নের বিষয় নিয়ে পড়বে, আবার কেউ পড়বে ভালো না লাগার বিষয় নিয়ে।প্রখ্যাত রোমান ফিলোসফার   Marcus Tullius Cicero এর মতে, “ While There’s Life, There’s hope “ সুতরাং না পাওয়া থাকতেই পারে। তাই বলে হার মেনে নেওয়া চলবে না। ১% সম্ভাবনা’কে শক্তি’তে রুপান্তর করে এগিয়ে যেতে হবে। ১% থেকে ১০% করে এগুতে হয়। তাহলেই সফলতা নিশ্চিত হয় উজ্জ্বল হাসির ন্যায়। ভালোলাগার বিষয় নিয়ে পড়তে না পারার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হতাশায় ভুগছেন।
২.পারিবারিক প্রত্যাশার অতিরিক্ত চাপ :
পড়াশোনা শেষ করা মানেই  চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে হবে। চাকরিই জীবন। চাকরির বাইরে অন্যকিছু মাথায়ও আনা যাবে না। ব্যক্তি’কে মূল্যায়ন করা হচ্ছে একটি ভালো চাকরি দিয়ে তার চরিত্র দিয়ে নয়। পারিবারিক অতিরিক্ত চাপ একজন শিক্ষার্থী চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে পরিবার,সমাজ,রাষ্ট্রের চাহিদা অতিরিক্ত হওয়ার সাথে-সাথে প্রোপার সুযোগ না দেওয়ায়; একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে হতাশা নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে। একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীর অনেক স্বপ্ন থাকতে পারে,তার সেই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নকে পূরণ করতে পারিবারিক সমর্থন অতিগুরুত্বপূর্ণ।

৩. অর্থনৈতিক সমস্যা : 
স্বপ্নে আঙিনায় পড়ার যে স্বপ্ন একজন শিক্ষার্থী লালন করেন, তা এক নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে যায় অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে। ১বর্ষ থেকে ২য় বর্ষ পর্যন্ত হাতখরচের টাকা পরিবার থেকে নিলেও এরপরে চাইলেও টাকা নেয়া যায় না। সেটি হতে পারে লজ্জায় এবং অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে। একদিকে স্বপ্নের পৃথিবী অন্যদিকে বাস্তবতার হাহাকার ; যার ফলস্বরূপ একজন শিক্ষার্থীকে দাঁড়াতে হয় পকেট খরচের যুদ্ধে। অনেকে পরিবারের দায়ভার নিজ কাঁধে তুলে হাঁটছেন পৃথিবীর কন্ঠকাকীর্ণ পথ। বাবার চিকিৎসার টাকা, বোনের স্কুলের মাসিক ফি, ছোট ভাইটির আবদার পূরণ করতে একজন নিম্নমধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীর স্বপ্নের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। যার ফলে হতাশার বালুচরে বাসা বাঁধেন একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী।

৪.সামাজিক প্রত্যাশার অতিরিক্ত চাপ :
সামাজিক প্রত্যাশার অতিরিক্ত চাপের ফলে শিক্ষার্থীদের অনেকেই হতাশায় ভুগছেন। সামাজিকভাবে বড় ভাই, মুরুব্বি মহল, অশিক্ষিত -শিক্ষিত শ্রেণীর প্রত্যাশার কথা বার-বার শুনার ফলে শিক্ষার্থীদের অনেকেই চাপ অনুভব করেন। এটির ফলেই হতাশার সৃষ্টি হয়।  সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের প্রত্যাশা বেড়ে যায়। পরিবারের প্রত্যাশা বাড়ার সাথে নিজের প্রত্যাশাও বেড়ে যায়। কোনো একটি দিক ব্যালেন্স না করার কারণে  হতাশায় পড়েন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
৫.  সময়কে অবমূল্যায়ন :
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী সময়ের সাথে-সাথে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন । অতিরিক্ত  ক্লাবিং করে হতাশায় পড়ে যান অনেকেই। সময়’কে সঠিকভাবে ব্যবহার না করার কারণে, পূর্বের অনুশোচনা বোধ এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছুতে ব্যর্থ হওয়ায় হতাশায় পড়ে যান অনেক শিক্ষার্থী। মৃত্যু থেকে ধার করে আনা সময়ের নাম যদি জীবন হয় তাহলে সেই জীবনের অতিগুরুত্বপূর্ণ সময়কে অবমূল্যায়ন করার কোনো সুযোগ সফলতার ডায়েরিতে নেই। এজন্যই  Jonathan Estrin বলেছেন, ❝The way we  Spend Our Time Difines Who We Are ❞।
আমরা কীভাবে সময় ব্যবহার  করছি তার উপর ডিপেন্ড করে  আসলে আমরা কে? নিজের স্বপ্নকে সময় দিলে, আপনার স্বপ্নই একদিন সফলতা সুউচ্চ প্রাসাদে পৌছুতে সক্ষম হবে।

৬. অসৎ সঙ্গেই সর্বনাশ:
বন্ধু নির্বাচনে অনেক শিক্ষার্থী ব্যর্থ হোন। বাজে নেশায় আসক্ত হয়ে ডিপার্টমেন্টের রেজাল্ট খারাপ করে হতাশায় ভুগছেন। বন্ধু-বান্ধবের পাল্লায় পরে নিজের জীবন ধ্বংস করে অনেকেই হতাশায় ভুগছেন। রবার্ট নাথানের একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে আর তা হলো—

❝আনন্দের সঙ্গী আছে
কিন্তু দুঃখ নিঃসঙ্গ ❞।

আনন্দের মধ্যে অনেকে শামিল হন কিন্তু দুঃখের মহাসাগর পারি দিতে হয় নিজে নিজেই। George Herbert এর মতে,
‘’The best mirror is an old friend ‘’
এর চেয়ে ভালো কথা আর হতেই পারে না।
একজন বন্ধু হবে আয়নার মতো স্বচ্ছ যার সামনে দাঁড়ালে নিজেকে দেখতে পাওয়া যায়। সঠিক বন্ধু কখনো খারাপ পরামর্শ দিতে পারে না। তাই এই হতাশা থেকে মুক্ত থাকতে হলে নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে এবং সময়’কে ভালোভাবে ব্যবহার করা শিখতে হবে। বন্ধু নির্বাচনে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। সময়ের সাথে-সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে পারিবারিক প্রত্যাশার সাথে, সমাজিক প্রত্যাশার  সাথে এবং রাষ্ট্রের চাহিদার সাথে। অতিরিক্ত প্রত্যাশা থেকেও নিজেকে মুক্ত রাখতে পারলে মিলবে হতাশা নামক কালো ছায়া থেকে মুক্তি। তাই সর্বদা সৎগুণ সম্পন্ন বন্ধুর সাথে মিশতে হবে, তাহলে নিজের সুনাম রক্ষা হবে। কুসঙ্গ অপেক্ষা সঙ্গীবিহীন থাকা অনেক ভালো।

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়