►পরিবার ও হাসপাতাল একে অপরকে দুষছেন
প্রবাদ আছে রাখে আল্লাহ মারে কে ? আল্লাহ চাইলে কেউ কাকে মারতে পারে না। আবার কেউ কাউকে মারতে ও পারে না। আসমান জমীনের সব কিছুর মালিক এক মাত্র আল্লাহ। চিরন্তন সত্য এই বানীটি আবারো প্রমানিত হলো মীরসরাইয়ে হাসপাতালে জন্ম নেওয়া এক নবজাতকের ক্ষেত্রে। হাসপাতালে সদ্য জন্ম নেওয়া এই শিশুটিকে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করলে অভিভাবক শিশুটিকে দাফনের জন্য বাড়ীতে নিয়ে কবরস্থানে কবর কুড়ে কবরস্থ করার আগে শিশুটি কেঁেদে উঠলে জনগন বুঝতে পারে শিশুটি মৃত নয় বরং জীবিতই রয়েছে। অতপর দ্রুত ভতর্ িকরানো হয়। সাড়াজাগানো এই শিশুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের অবহেলাকেই দায়ি করছেন শিশুর বাবা ইউনুস আলী।
শনিবার (০১ মে) রাতে উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের পূর্ব মিঠানালা গ্রামের উমর আলী সারেং বাড়ির কবর স্থানে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় সোমবার (৩ মে)। জানা গেছে, পূর্ব মিঠানালা গ্রামের ইউনুস আলীর স্ত্রী জেসমিন আক্তারের প্রসব ব্যথা ও রক্তক্ষরণ হলে শনিবার সকালে মিঠাছরা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। দায়িত্বরত গাইনি চিকিৎসক ডা. শারমিন আয়েশা পরীক্ষা করে রোগীকে স্যালাইন দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিকেলে আলট্রাসনোগ্রাফি করে জানান, গর্ভস্থ শিশু মারা গেছে। এদিন রাত পৌনে ৯টার দিকে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে প্রসব করানোর পর নবজাতককে মৃত ঘোষণা করলে একটি কার্টনে ঢুকিয়ে বাড়িতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।
শিশুর বাবা ইউনুস আলী অভিযোগ করে বলেন, রাত ৯টার দিকে কার্টনে করে ৫ মাস ১৯ দিন বয়সী বাচ্চাকে দাফনের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাই। এরমধ্যে কবর খোঁড়াও হয়ে গেছে। পরে কবর দেওয়ার জন্য কার্টন খুলে দেখি- বাচ্চা কান্না করছে। এ অবস্থায় শিশুটিকে আবার দ্রুত মিঠাছরা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত টিকিৎসক শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। রাত দেড়টার দিকে নবজাতককে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ অবস্থার জন্য মিঠাছরা জেনারেল হাসপাতালের ডা. শারমিন আয়েশা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির পিতা ইউনুছ আলী।
এ বিষয়ে জানতে ডা. শারমিন আয়েশার মোবাইলে যোগাযোগের বারবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মিঠাছরা জেরারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগি পরিবারের বক্তব্যকে নাকচ করে দিয়েছেন। মিঠাছরা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ রানা বলছেন, ‘প্রসবের পর বাচ্চার ১ মিনিট নড়াচড়া ছিল। ১৫ মিনিট চিকিৎসকের অবজারবেশনে রাখা হয়। এরপর রোগীর স্বজনরা সেখানে আসে। নবজাতককে মৃত ঘোষণা করলে আমরা ডেথ সার্টিফিকেট দিতাম। আমাদের অজান্তে তারা বাচ্চাকে বাড়ি নিয়ে যায়। মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সাধারণত গর্ভেস্থ ৫-৬ মাসের বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হলে বাঁচার কথা নয়। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গতঃ চিকিৎসা বিজ্ঞানে ১৯৮২ প্রথম সালে এ ধরনের ঘটনার উল্লেখ যায়। তারপর ১৯৯৩ সালে এ ঘটনাকে ‘ল্যাজারাস সিনড্রোম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দুটি তত্বকেই এই সিনড্রোমের জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে সিপিআর দেওয়া। কোন রোগীকে জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর তাকে সিপিআর বা কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন দেওয়া হয়। এতে ওই মুহূর্তে মনে হয় যে, ওই ব্যক্তি মৃত। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তার ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যাক্টিভিটিস, হৃদপিন্ডে রক্ত স ালন প্রক্রিয়া চালু য়ে গিয়ে ওই ব্যক্তি জেগে উঠতে পারে।
আবার মনে করা হয় যে, যখন সিপিআর দেওয়া হয় তখন ফুসফুসে অনেক বাতাস জমে। সেটি বের হতে পারে না। কিন্তু সিপিআর দেওয়া শেষ হয়ে গেলে আবার বাতাস বের হতে থাকে এবং রক্ত স ালন শুরু হয়। দ্বিতীয়তঃ মানুষকে জরুরী ভিত্তিতে যে ইনজেকশন দেওয়া হয়, সেটি হয়তো তাৎক্ষণিক কাজ করে না। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হয়তো সেটি কাজ করা শুরু করে এবং হৃদযন্ত্র চালু হয়ে যায় । এতে ওই ব্যক্তির মধ্যে অনুভূতি ফিরে আসে।
























