০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ধূমপানের প্রভাবে প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে ভ্রুণ

❖শিশুর সুরক্ষায় সচেতনতার বিকল্প নেই
❖ ভ্রুণ রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের তাগিদ
❖ পরোক্ষ ধূমপানের কারণে অপরিণত শিশু ও কম ওজনের শিশু জন্মের ঝুঁকি বেড়ে যায় : ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী
❖ বিদ্যমান আইনে গর্ভের শিশুর সুরক্ষার সুযোগ নেই : সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন

এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি- নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছাড়পত্র কবিতার এ আকুতি সচেতন প্রত্যেক নাগরিকের। কিন্তু নিজেদের খামখেয়ালি বা অসচেতনতার কারণে মায়ের গর্ভেই পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনাগত শিশুরা। চিকিৎসকরা বলছেন, মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় পরোক্ষ ধুমপানের শিকার হয়ে নানা জন্ম জটিলতায় ভুগছে ভ্রুণ। ভুগছে গর্ভবতী মা-ও। তবে, এই অবস্থায় বিদ্যমান আইনের সহায়তা নেওয়ার সুযোগ থাকছে না সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ও তার অনাগত সন্তানের। এক্ষেত্রে সচেতনতাই পারে শিশুকে গর্ভাবস্থায় ধুমপান বা তামাকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে; এমনটিই বলছেন তামাকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তরা। পাশাপাশি তারা ধুমপানবিরোধী আইন সংশোধনেরও তাগিদ দিচ্ছেন।

রহিমা (৩০) নামে এক গৃহবধূ রাজধানীর কামরাঙ্গির চরের বাসিন্দা। তিনি একটি ক্লিনিকে সন্তান প্রসব করেছেন কিন্তু তার সন্তানের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম। নার্সের সাথে আলাপ করে জানলেন সন্তানের কম ওজনের পেছনে অনেক কারণ থাকে। এরমধ্যে পরোক্ষ ধূমপান ভূমিকা পালন করতে পারে। নার্সের কথায় রহিমা খেয়াল করেন, তার যখন সন্তান গর্ভে ছিল ধূমপায়ী স্বামী-দেবর তার সামনেই ধুমপান করত! শুধু রহিমা নন, এমন গর্ভাবস্থায় পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের লাখো নারী। কিন্তু গবেষণার অভাবে এ নিয়ে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে প্রতি বছর ৬৫ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়। এর পাশাপাশি যে শিশুরা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে, তারা বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখ্খীন হয়।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান প্রফেসর সোহেল রেজা চৌধুরী দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, গর্ভবতী নারীরা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হলে অপরিণত শিশুর জন্ম হয় এবং আকারে ছোট হয় বা কম ওজনের শিশু হয়। পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাব সবচেয়ে বেশি নারী ও শিশুদের উপর পড়ে। এটা আমরা যে তামাকজাত পণ্য বিরোধী প্রচার চালাই সেখানে বলি যে, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের সামনে যেন ধূমপান না করা হয়। এটার মারাত্মক প্রভাব গর্ভবতী মা ও তার গর্ভের সন্তানের উপর পড়ে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, মেনোপজ পরবর্তী সময়ে প্রায় ৮০ হাজার নারীর জীবনের ব্যাপারে তথ্য নিয়ে দেখা যায়, এদের ৪১ হাজার নারী কখনোই ধূমপান করেননি। কিন্তু এই অধূমপায়ীদের মাঝে এমন অনেকে ছিলেন যারা শৈশবে বা পরবর্তীতে ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে পরোক্ষ ধূমপানের আওতায় ছিলেন। অন্যদের তুলনায় এদের মাঝে ১৭ শতাংশের গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে, ৫৫ শতাংশের ক্ষেত্রে মৃত সন্তান জন্ম নেয় এবং ৬১ শতাংশের ক্ষেত্রে এক্টোপিক প্রেগনেন্সি দেখা যায় (অর্থাৎ জরায়ুর বাইরে স্থাপিত হয় ভ্রƒণ এবং তার ফলে টিকে থাকতে পারে না)। যারা জীবনে এত বেশি সময় পরোক্ষ ধূমপানের আওতায় কাটাননি, তাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হতে দেখা যায় না। পরোক্ষ ধূমপানের শিকার নারীর অন্যদের তুলনায় তাদের গর্ভপাতের ১৬ শতাংশ বেশি ঝুঁকি থাকে এবং গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার ঝুঁকি থাকে ৪৪ শতাংশ।

গবেষকদের মতে, পরোক্ষ ধূমপানে গর্ভস্থ শিশুর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় গর্ভের প্রথম এবং শেষ তিন মাসে। এই গর্ভবতী মায়েদের মধ্যে গর্ভপাত, অপরিণত শিশুর জন্ম, স্বল্প ওজনের শিশু, গর্ভকালীন রক্তস্রাব, প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, মৃত শিশুর জন্ম দেওয়ার হার বেড়ে যায়। পাশাপাশি, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের কারণে গর্ভবতী নারী শ্বসতন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, এমনকি ক্যান্সারের মতো রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যার সংখ্যা প্রায় মোট রোগের ৬৭ শতাংশ।

গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে, ২০১৭ এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাড়িতে এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ গণপরিবহন ও জনসমাগমস্থলে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যগত ক্ষতির মুখোমুখি হয়।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এ তামাকজাত পণ্যের মোড়কে সচিত্র সতর্কবাণী বাণী প্রচারের ক্ষেত্রে নিচের বাক্যগুলোকে লেখার কথা বলা হয়েছে, ধূমপানে ব্যবহৃত তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে:- ধূমপানের কারণে গলায় ও ফুসফুসে ক্যান্সার হয়, ধূমপানের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয়, ধূমপানের কারণে স্ট্রোক হয়, ধূমপানের কারণে হৃদরোগ হয়, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়, ধূমপানের কারণে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়। ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে – তামাকজাত দ্রব্য সেবনে মুখে ও গলায় ক্যান্সার হয়,
তামাকজাত দ্রব্য সেবনে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়।

আইনজীবী ও তামাকজাত পণ্য বিরোধী আন্দোলনের কর্মী সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, নিজ বাড়িতে মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় মা এবং শিশু যদি পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন তাহলে এই বিষয়টা নিয়ে আইনি সহায়তা পাবার পরিবারের কোনো সুযোগ নেই। যদি, গর্ভবতী মায়ের সামনে ধূমপান করে সেক্ষেত্রে মা যে আইনের সহায়তা নিবে সে সুযোগ নেই। আবার এখন অনেক নারীই ধূমপান করছে, সেক্ষেত্রে গর্ভের সন্তানের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে বাবা যদি আইনের আশ্রয় নিতে চায় তা সে পারবে না। কিংবা আমরা তো দাদা-দাদিসহ অনেককে নিয়ে পরিবারে থাকি। পরিবারে গর্ভবতী নারী আছে কিন্তু পরিবারের ধূমপায়ী পুরুষ সদস্যকে বলা হয়েছে তার সামনে ধূমপান না করতে সে কথা শুনছে না, এ ক্ষেত্রে পরিবারের কোনো সদস্য যে ধূমপানবিরোধী আইনের সাহায্যে কিছু করবে সে সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে আমি বলব, পরোক্ষ ধূমপান প্রতিরোধে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে গর্ভবতী মা ও গর্ভের শিশুকে রক্ষায় বিদ্যমান আইনটি সংশোধন হওয়া জরুরি। আইনটি সংশোধন হলে শুধু বাইরে না বাসায়ও কেউ যদি পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় তাহলে আইনের সহায়তা নিতে পারবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

টিউশনের নামে প্রতারণার ফাঁদ

ধূমপানের প্রভাবে প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে ভ্রুণ

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪

❖শিশুর সুরক্ষায় সচেতনতার বিকল্প নেই
❖ ভ্রুণ রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের তাগিদ
❖ পরোক্ষ ধূমপানের কারণে অপরিণত শিশু ও কম ওজনের শিশু জন্মের ঝুঁকি বেড়ে যায় : ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী
❖ বিদ্যমান আইনে গর্ভের শিশুর সুরক্ষার সুযোগ নেই : সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন

এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি- নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছাড়পত্র কবিতার এ আকুতি সচেতন প্রত্যেক নাগরিকের। কিন্তু নিজেদের খামখেয়ালি বা অসচেতনতার কারণে মায়ের গর্ভেই পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনাগত শিশুরা। চিকিৎসকরা বলছেন, মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় পরোক্ষ ধুমপানের শিকার হয়ে নানা জন্ম জটিলতায় ভুগছে ভ্রুণ। ভুগছে গর্ভবতী মা-ও। তবে, এই অবস্থায় বিদ্যমান আইনের সহায়তা নেওয়ার সুযোগ থাকছে না সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ও তার অনাগত সন্তানের। এক্ষেত্রে সচেতনতাই পারে শিশুকে গর্ভাবস্থায় ধুমপান বা তামাকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে; এমনটিই বলছেন তামাকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তরা। পাশাপাশি তারা ধুমপানবিরোধী আইন সংশোধনেরও তাগিদ দিচ্ছেন।

রহিমা (৩০) নামে এক গৃহবধূ রাজধানীর কামরাঙ্গির চরের বাসিন্দা। তিনি একটি ক্লিনিকে সন্তান প্রসব করেছেন কিন্তু তার সন্তানের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম। নার্সের সাথে আলাপ করে জানলেন সন্তানের কম ওজনের পেছনে অনেক কারণ থাকে। এরমধ্যে পরোক্ষ ধূমপান ভূমিকা পালন করতে পারে। নার্সের কথায় রহিমা খেয়াল করেন, তার যখন সন্তান গর্ভে ছিল ধূমপায়ী স্বামী-দেবর তার সামনেই ধুমপান করত! শুধু রহিমা নন, এমন গর্ভাবস্থায় পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের লাখো নারী। কিন্তু গবেষণার অভাবে এ নিয়ে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে প্রতি বছর ৬৫ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়। এর পাশাপাশি যে শিশুরা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে, তারা বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখ্খীন হয়।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান প্রফেসর সোহেল রেজা চৌধুরী দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, গর্ভবতী নারীরা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হলে অপরিণত শিশুর জন্ম হয় এবং আকারে ছোট হয় বা কম ওজনের শিশু হয়। পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাব সবচেয়ে বেশি নারী ও শিশুদের উপর পড়ে। এটা আমরা যে তামাকজাত পণ্য বিরোধী প্রচার চালাই সেখানে বলি যে, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের সামনে যেন ধূমপান না করা হয়। এটার মারাত্মক প্রভাব গর্ভবতী মা ও তার গর্ভের সন্তানের উপর পড়ে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, মেনোপজ পরবর্তী সময়ে প্রায় ৮০ হাজার নারীর জীবনের ব্যাপারে তথ্য নিয়ে দেখা যায়, এদের ৪১ হাজার নারী কখনোই ধূমপান করেননি। কিন্তু এই অধূমপায়ীদের মাঝে এমন অনেকে ছিলেন যারা শৈশবে বা পরবর্তীতে ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে পরোক্ষ ধূমপানের আওতায় ছিলেন। অন্যদের তুলনায় এদের মাঝে ১৭ শতাংশের গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে, ৫৫ শতাংশের ক্ষেত্রে মৃত সন্তান জন্ম নেয় এবং ৬১ শতাংশের ক্ষেত্রে এক্টোপিক প্রেগনেন্সি দেখা যায় (অর্থাৎ জরায়ুর বাইরে স্থাপিত হয় ভ্রƒণ এবং তার ফলে টিকে থাকতে পারে না)। যারা জীবনে এত বেশি সময় পরোক্ষ ধূমপানের আওতায় কাটাননি, তাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হতে দেখা যায় না। পরোক্ষ ধূমপানের শিকার নারীর অন্যদের তুলনায় তাদের গর্ভপাতের ১৬ শতাংশ বেশি ঝুঁকি থাকে এবং গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার ঝুঁকি থাকে ৪৪ শতাংশ।

গবেষকদের মতে, পরোক্ষ ধূমপানে গর্ভস্থ শিশুর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় গর্ভের প্রথম এবং শেষ তিন মাসে। এই গর্ভবতী মায়েদের মধ্যে গর্ভপাত, অপরিণত শিশুর জন্ম, স্বল্প ওজনের শিশু, গর্ভকালীন রক্তস্রাব, প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, মৃত শিশুর জন্ম দেওয়ার হার বেড়ে যায়। পাশাপাশি, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের কারণে গর্ভবতী নারী শ্বসতন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, এমনকি ক্যান্সারের মতো রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যার সংখ্যা প্রায় মোট রোগের ৬৭ শতাংশ।

গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে, ২০১৭ এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাড়িতে এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ গণপরিবহন ও জনসমাগমস্থলে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যগত ক্ষতির মুখোমুখি হয়।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এ তামাকজাত পণ্যের মোড়কে সচিত্র সতর্কবাণী বাণী প্রচারের ক্ষেত্রে নিচের বাক্যগুলোকে লেখার কথা বলা হয়েছে, ধূমপানে ব্যবহৃত তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে:- ধূমপানের কারণে গলায় ও ফুসফুসে ক্যান্সার হয়, ধূমপানের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয়, ধূমপানের কারণে স্ট্রোক হয়, ধূমপানের কারণে হৃদরোগ হয়, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়, ধূমপানের কারণে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়। ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে – তামাকজাত দ্রব্য সেবনে মুখে ও গলায় ক্যান্সার হয়,
তামাকজাত দ্রব্য সেবনে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়।

আইনজীবী ও তামাকজাত পণ্য বিরোধী আন্দোলনের কর্মী সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, নিজ বাড়িতে মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় মা এবং শিশু যদি পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন তাহলে এই বিষয়টা নিয়ে আইনি সহায়তা পাবার পরিবারের কোনো সুযোগ নেই। যদি, গর্ভবতী মায়ের সামনে ধূমপান করে সেক্ষেত্রে মা যে আইনের সহায়তা নিবে সে সুযোগ নেই। আবার এখন অনেক নারীই ধূমপান করছে, সেক্ষেত্রে গর্ভের সন্তানের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে বাবা যদি আইনের আশ্রয় নিতে চায় তা সে পারবে না। কিংবা আমরা তো দাদা-দাদিসহ অনেককে নিয়ে পরিবারে থাকি। পরিবারে গর্ভবতী নারী আছে কিন্তু পরিবারের ধূমপায়ী পুরুষ সদস্যকে বলা হয়েছে তার সামনে ধূমপান না করতে সে কথা শুনছে না, এ ক্ষেত্রে পরিবারের কোনো সদস্য যে ধূমপানবিরোধী আইনের সাহায্যে কিছু করবে সে সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে আমি বলব, পরোক্ষ ধূমপান প্রতিরোধে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে গর্ভবতী মা ও গর্ভের শিশুকে রক্ষায় বিদ্যমান আইনটি সংশোধন হওয়া জরুরি। আইনটি সংশোধন হলে শুধু বাইরে না বাসায়ও কেউ যদি পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় তাহলে আইনের সহায়তা নিতে পারবে।