০২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দাগনভূঞায় শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ছাত্রের চোখ নষ্ট,  তদন্ত কমিটি গঠন 

দাগনভূঞা উপজেলার ওয়াজেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাপস মজুমদারের বেত্রাঘাতে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মাহেদুল হাসানের ডান চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। গত ১৭ মে বর্বর এ ঘটনায় ২৫ দিনেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।এর মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিবেদিতা চাকমা তিন সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলেছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন দাগনভূঞা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আইনুল হক জিলানী। অন্য দুই জন হলেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার দিলরুবা লাইলী,ইন্সট্রাক্টর রির্সোস সেন্টার প্রধান শাহাদাত হোসেন। তদন্ত কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এনিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার রামানন্দপুর গ্রামের কামিনী মজুমদারের ছেলে তাপস মজুমদার ওই ছাত্রকে বেত্রাঘাত করে। এসময় ছাত্রের চিৎকারে স্কুলের শিক্ষক, কর্মচারী ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় দাগনভূঞা উপজেলার একটি  প্রাইভেট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফেনীতে প্রেরন করে। একপর্যায়ে মাহেদুল হাসানকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে নেয়া হয়। কয়েক দিন চিকিৎসা নেয়ার পর রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়। আহত মাহেদুল হাসান জগতপুর এলাকার ডাক্তারবাড়ির প্রবাসীর রেয়াজুল হকের ছেলে। রেয়াজুল হক জানান, শিক্ষক তাপস মজুমদারের বেত্রাঘাতে আমার ছেলের ডান চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসা কাজে ব্যস্ত রয়েছি। বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক তাপস মজুমদারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন জানান, ছেলের ডান চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি  । তাই  তাকে উন্নত চিকিৎসা করাতে ভারতে নেয়ার জন্য পার্সপোটের আবেদন করা হয়েছে। পাসপোর্ট পেলে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করানো হবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সালেহ উদ্দিন জানান, ছাত্রটির চিকিৎসা চলছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন জানান, চিকিৎসার পর বিষয়টি নিয়ে বসবো। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইস্কান্দর নারী বলেন, বিষয়টি আমি শুনি নাই। অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।  জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন আহমেদ জানান, ছাত্রকে বেত্রাঘাত করার নিয়ম নেই। তারপরও তিনি খবর নেবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিবেদিতা চাকমা জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। আমি অন্য মাধ্যমে শুনেছি। শুনেই আমি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। তিন দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

দাগনভূঞায় শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ছাত্রের চোখ নষ্ট,  তদন্ত কমিটি গঠন 

আপডেট সময় : ০৫:১৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪
দাগনভূঞা উপজেলার ওয়াজেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাপস মজুমদারের বেত্রাঘাতে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মাহেদুল হাসানের ডান চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। গত ১৭ মে বর্বর এ ঘটনায় ২৫ দিনেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।এর মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিবেদিতা চাকমা তিন সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলেছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন দাগনভূঞা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আইনুল হক জিলানী। অন্য দুই জন হলেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার দিলরুবা লাইলী,ইন্সট্রাক্টর রির্সোস সেন্টার প্রধান শাহাদাত হোসেন। তদন্ত কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এনিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার রামানন্দপুর গ্রামের কামিনী মজুমদারের ছেলে তাপস মজুমদার ওই ছাত্রকে বেত্রাঘাত করে। এসময় ছাত্রের চিৎকারে স্কুলের শিক্ষক, কর্মচারী ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় দাগনভূঞা উপজেলার একটি  প্রাইভেট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফেনীতে প্রেরন করে। একপর্যায়ে মাহেদুল হাসানকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে নেয়া হয়। কয়েক দিন চিকিৎসা নেয়ার পর রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়। আহত মাহেদুল হাসান জগতপুর এলাকার ডাক্তারবাড়ির প্রবাসীর রেয়াজুল হকের ছেলে। রেয়াজুল হক জানান, শিক্ষক তাপস মজুমদারের বেত্রাঘাতে আমার ছেলের ডান চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসা কাজে ব্যস্ত রয়েছি। বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক তাপস মজুমদারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন জানান, ছেলের ডান চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি  । তাই  তাকে উন্নত চিকিৎসা করাতে ভারতে নেয়ার জন্য পার্সপোটের আবেদন করা হয়েছে। পাসপোর্ট পেলে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করানো হবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সালেহ উদ্দিন জানান, ছাত্রটির চিকিৎসা চলছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন জানান, চিকিৎসার পর বিষয়টি নিয়ে বসবো। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইস্কান্দর নারী বলেন, বিষয়টি আমি শুনি নাই। অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।  জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন আহমেদ জানান, ছাত্রকে বেত্রাঘাত করার নিয়ম নেই। তারপরও তিনি খবর নেবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিবেদিতা চাকমা জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। আমি অন্য মাধ্যমে শুনেছি। শুনেই আমি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। তিন দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।