০৭:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘটনাস্থলে না থেকেও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামী তাঁরা

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার শালমারা গ্রামে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরদিন পূর্ব শত্রুতার জেরে মারধরের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন শালমারা গ্রামের জাহাঙ্গীর সেখের ছেলে এলাহী সেখ (২৭) । এঘটনায় ওইদিনই ৪ জনকে আসামি করে থানায় দায়ের করা হয় মামলা। তবে মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তার মধ্যে একজন বাদে অন্যরা ঘটনাস্থলেই ছিলেন না বলে দাবী করেছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘটনাস্থল থেকে আক্তার মীরের দোকান দেড়শ মিটার দুরে অবস্থিত। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা বলেন, শালমারা বাজারের মুদি দোকানী ইসহাকের দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর এক মিনিটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। এলাহীকে মারধরে মামলার ১নং আসামী মনিরুল ছিল মাত্র।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২২ মে (বুধবার) সকালে ১০ টার দিকে শালমারা বাজারের ইসহাকের মুদি দোকানের সামনে মনিরুল মোল্লা জাহাঙ্গীরের পুত্র এলাহী সেখকে অকারনে অকথ্যভাষায় গালাগাল করে। এতে এলাহী সেখ প্রতিবাদ করিলে মনিরুলের নেতৃত্বে আক্তার মীর, আকাশ ও ইমদাদ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে এবং হত্যার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা এলাহীকে উদ্ধার করে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠালে সেখান থেকে তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। মামলায় ১নং আসামী মনিরুল, ২নং আসামী আক্তার মীর, ৩নং আসামী আকাশ ও ইমদাদকে ৪নং আসামী করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী আরেক মুদি দোকানদার আজাদ বলেন, আমি তখন দোকানেই ছিলাম। দেখলাম মনিরুল এলাহিকে মারলো তারপরেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। তারপর স্থানীয়রা তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়।

ঘটনার সময়ে ইসহাকের দোকানে বসে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী মোফাজ্জেল হোসেন বাবু বলেন, মারামারির ঘটনার সময় আমি খুব কাছাকাছি ইসহাকের দোকানে বসে ছিলাম। কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে, এলাহীকে মারধরে একজনকে দেখেছি, ঘটনার সময়ে দ্বিতীয় কেউ ছিল না।

ভুক্তভোগী মামলার ২নং আসামী মীর আক্তার হোসেন বলেন, আমি শালমারা নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়ায় কিছু লোকের সাথে বিরোধ আছে। সভাপতি নির্বাচিত হবার পরও আমাকে মহামান্য আদালতের শরনাপন্ন হতে হয়েছিল। আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনের ক্ষতি করার অপচেষ্টা হিসেবে মামলায় আসামী করা হয়েছে আমার ছেলে আকাশকেও। ঘটনার সময় আমি ও আমার ছেলে দোকানে ছিলাম পার্শ্ববতী দোকানীরাও দেখেছে। আমি মিথ্যা মামলায় হয়রানী থেকে পরিত্রাণ চাই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ পরিদর্শক রাজিবুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি। যদি কেউ জড়িত না থাকে তাহলে তার নাম আসার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে তদন্তপূর্বক আইনগত যে ব্যবস্থা আছে সেটি হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘটনাস্থলে না থেকেও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামী তাঁরা

আপডেট সময় : ০৫:২৯:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার শালমারা গ্রামে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরদিন পূর্ব শত্রুতার জেরে মারধরের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন শালমারা গ্রামের জাহাঙ্গীর সেখের ছেলে এলাহী সেখ (২৭) । এঘটনায় ওইদিনই ৪ জনকে আসামি করে থানায় দায়ের করা হয় মামলা। তবে মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তার মধ্যে একজন বাদে অন্যরা ঘটনাস্থলেই ছিলেন না বলে দাবী করেছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘটনাস্থল থেকে আক্তার মীরের দোকান দেড়শ মিটার দুরে অবস্থিত। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা বলেন, শালমারা বাজারের মুদি দোকানী ইসহাকের দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর এক মিনিটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। এলাহীকে মারধরে মামলার ১নং আসামী মনিরুল ছিল মাত্র।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২২ মে (বুধবার) সকালে ১০ টার দিকে শালমারা বাজারের ইসহাকের মুদি দোকানের সামনে মনিরুল মোল্লা জাহাঙ্গীরের পুত্র এলাহী সেখকে অকারনে অকথ্যভাষায় গালাগাল করে। এতে এলাহী সেখ প্রতিবাদ করিলে মনিরুলের নেতৃত্বে আক্তার মীর, আকাশ ও ইমদাদ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে এবং হত্যার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা এলাহীকে উদ্ধার করে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠালে সেখান থেকে তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। মামলায় ১নং আসামী মনিরুল, ২নং আসামী আক্তার মীর, ৩নং আসামী আকাশ ও ইমদাদকে ৪নং আসামী করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী আরেক মুদি দোকানদার আজাদ বলেন, আমি তখন দোকানেই ছিলাম। দেখলাম মনিরুল এলাহিকে মারলো তারপরেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। তারপর স্থানীয়রা তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়।

ঘটনার সময়ে ইসহাকের দোকানে বসে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী মোফাজ্জেল হোসেন বাবু বলেন, মারামারির ঘটনার সময় আমি খুব কাছাকাছি ইসহাকের দোকানে বসে ছিলাম। কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে, এলাহীকে মারধরে একজনকে দেখেছি, ঘটনার সময়ে দ্বিতীয় কেউ ছিল না।

ভুক্তভোগী মামলার ২নং আসামী মীর আক্তার হোসেন বলেন, আমি শালমারা নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়ায় কিছু লোকের সাথে বিরোধ আছে। সভাপতি নির্বাচিত হবার পরও আমাকে মহামান্য আদালতের শরনাপন্ন হতে হয়েছিল। আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনের ক্ষতি করার অপচেষ্টা হিসেবে মামলায় আসামী করা হয়েছে আমার ছেলে আকাশকেও। ঘটনার সময় আমি ও আমার ছেলে দোকানে ছিলাম পার্শ্ববতী দোকানীরাও দেখেছে। আমি মিথ্যা মামলায় হয়রানী থেকে পরিত্রাণ চাই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ পরিদর্শক রাজিবুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি। যদি কেউ জড়িত না থাকে তাহলে তার নাম আসার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে তদন্তপূর্বক আইনগত যে ব্যবস্থা আছে সেটি হবে।