২০বছর যাবৎ ভোলার নতুন বাজারে রাস্তার উপর ফলের ব্যবসা করছেন খোকন, দুলালসহ অনেকে। ফল বিক্রি করতে গিয়ে এ বছরের মতো আর কখনো হিমশিম খাননি তারা। ফলের দোকানে সব ধরনেরই ফল রয়েছে। তবে মৌসুম চলায় এখন ক্রেতাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় আম-লিচুসহ অন্যান্য মৌসুমি ফল। তবে এবছর অধিকাংশ ফল দেখা যায় পচা। উপর দেখে বুঝার উপায় নাই ভেতরে পচে গলে শক্ত হয়ে আছে। ক্রেতারা যখন বাড়ি থেকে ফেরত নিয়ে আসে তখন দেখা যায় ফলের আসল রুপ, এটা কি ভাবে সম্ভব। বলার কিছু নাই, সিন্ডিকেট, চাদাবাজ, পুলিশ প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা, নেতার লোক এর সাথে জড়িত। আড়ৎদারদের কাছে এত দিন লক্ষ লক্ষ টন ফল,ছিল বিক্রি করেনি। এখন একসাথে সব বাজারে, সব কিছুই সামাল দেন তারা, প্রতিবাদ করারও কেউ নাই। প্রতিবাদ করলেই খবর আছে। ভোক্তা অধিকারের কোন লোক বাজারে দেখা যায়না। ঈদুল আজহা পরবর্তী বাজার আরো বেপরোয়া। যত পচা ফল বাজার জাত হয়েছে। প্রশাসন নির্বিকার,প্রশাসন ছাড়া আমাদের ধরার কোন কায়দা নাই।
গত কাল (১৯জুন) বুধবার সকালে বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ফল বিক্রেতা খোকন জানান, কয়েক বছর ফল বিক্রি করছি। তবে এ বছরের মতো আম ও লিচুর এত দাম কখনো দেখিনি। তার পরেও ক্রেতাদের চাহিদার কথা ভেবে দোকানে মৌসুমি ফল আম ও লিচু পাশা পাশি অন্যান্য ফল তুলেছি। লিচুর দাম গত বছরের তুলনায় আকাশ ছোঁয়া। গত কয়েকদিন আগেও একটি লিচু ৫ টাকা করে বিক্রি করতে হয়েছে। বর্তমানেও একটি লিচু সাড়ে ৬ টাকার মতো করে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, মৌসুমি ফল আমও বিক্রি করছি। এই ফলের দামও এখন দ্বিগুণ। গত বছর জাতভেদে যে আম এক কেজি ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা বিক্রি করেছি। তা এখন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। মৌসুমি ফলের এমন অস্বাভাবিক দামের কারণে ক্রেতারা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ফল কিনতে পারছেন না। যেই ক্রেতা আগের বছর ৫ কেজি আম কিনতেন, তিনি এ বছর ২ থেকে ৩ কেজি কিনছেন। আবার যিনি গত বছর ১০০ লিচু কিনেছেন, তিনি এবার ৫০টি কিনছেন। আবার অনেক ক্রেতা দাম শুনে কোনো কথা না বলেই চলে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, এ বছরের ফলের দাম বাড়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম চাহিদার তুলনায় কম ফলের উৎপাদন কম। অধিকাংশ ফল পচা, এ ছাড়া আমরা ফলগুলো রাজশাহী, যশোর ও দিনাজপুর থেকে ক্রয় করি। এবার পরিবহন খরচও বেড়েছে,তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই আমরা বেশি দামে ফল বিক্রি করছি। বেশি দামে ফল বিক্রি করলেও আমাদের তেমন লাভ হয় না। এক কেজি আম বিক্রি করলে ১০ থেকে ১৫ টাকার মতো লাভ হয়। আর ১০০ লিচু বিক্রি করলে লাভ হয় ২০ টাকার মতো।
খোকনের মত ভোলা শহরের বিভিন্নস্থানে বর্তমানে মৌসুমি ও স্থায়ী ফল ব্যবসায়ী আছেন প্রায় শতাধীক। সবার একই কথা, বলার কিছু নাই, ঈদুল আজহাকে পুজি করে-আড়ৎদার, সিন্ডিকেট, চাদাবাজ, পুলিশ প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা, নেতার লোক এর সাথে জড়িত। এতদিন সব ফল মৌজুদ ছিল, এখন সব এক সাথে বাজার জাত হয়েছে, সব কিছুই সামাল দেন তারা, প্রতিবাদ করারও কেউ নাই। প্রতিবাদ করলেই খবর আছে। ভোক্তা অধিকারের কোন লোক বাজারে দেখা যায়না। ঈদুল আজহা পরবর্তী বাজার আরো বেপরোয়া। কেনার খরচ বেশি হওয়ায় ও অধিকাংশ পচার কারনে বাদ-ছাদ দিয়ে উচ্চ মুল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে মৌসুমি ফল খাওয়ার স্বাদ থাকলেও সাধ্য নেই অনেকের। ক্রেতা স্বপন জনান, তিনি প্রয়োজনে ৫ কেজি আম কিনেছেন ১১০ টাকা দরে। বাসায় নিয়ে দেখি অধিকাংশ আম পচ, শক্ত হয়ে রয়েছে, ঠিকমত পরিপক্ক হয়নি, ব্যবসায়ীরা আম বাগান ক্রয় করে অপরিপক্ক আম পেরে যে কোন মেডিসিন দিয়ে ঝুড়ি করে বাজার জাত করেছে। সেই আম না খেয়ে বিক্রেতার কাছে ফেরত নিয়ে এসেছি। ফল কিনবো কি ভাবে। যদি ফলে বিষ থাকে সেই ফল কিনে মা-বাবা, ভাই-বোন, ছেলে-মেয়েকে কি ভাবে খাওয়াব ?
এ বিষয়ে জেলা কৃষিবিদ হুমায়ুন জানান,আমাদের দক্ষিনা লের মানুষেরা রাজশাহী, যশোর, চাপাই নবাবগঞ্জসহ যে সব অ লে আমের চাষ হয় তার উপর নির্ভরশীল। আমাদের ভোলায় বাণিজ্যিকভাবে তেমন কোনো ফল উৎপাদন হয় না। যার জন্য বাজারের ব্যবসায়ীরা বাইরের জেলাগুলো থেকে ফল এনে বিক্রি করেন ওটাই আমাদে কিনে খেতে হয়। এ ছাড়া ফলের উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। যার জন্যই বর্তমানে বাজারে মৌসুমি ফল থাকলেও দাম বেশি। আর অসাধু ব্যবসায়ীরা আম-লিচু বেশী দিন টিকিয়ে রাখতে এবং বেশী মুনাফা করতে ফলে বিভিন্ন প্রকার ফরমালিন ও মেডিসিন ব্যবহার করে। যার ফলে আম উপরে প্রেস ভেতরে পচে শক্ত হয়ে যায়, এগুলো মানুষে কেন পশুতে খাওয়া জীবনের ঝুকি হয়ে যায়। এসব ফল খেয়ে কঠিন কঠিন রোগাক্রান হতে পারে সবাই। তাই এই ফল না খেয়ে বয়কট করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। কারন যারা বাজার নিয়ন্ত্রন করেন তারা সবাই ক্ষমতাধর, বাজারে গিয়ে কোন অভিযান পরিচালনা করা কঠিন, বাজারে গেলেই উপরের চাপ নয়তো সন্ত্রাসীদের হামলা। পুলিশ প্রশাসনও সেখানে নিরব। ঈদুল আজহার বন্ধের পরে াফিস পাড়া এখনও খোলেনি, তাই ভোক্তা অধিকারের কোন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রশাসনের অপরাধ শাখার কোন কর্মকর্তা এ রিপোট লেখা পর্যন্ত অফিসে ফিরেননি। ডাঃ হিমাদ্রী শেখর জানান, মৌসুমী ফলসহ যে কোন ফলের কথা বলেন, বাজার থেকে কোন ফলই কিনে খাওয়ার অবস্থা এখনকার যুগে নাই, আমার পরিবার বাজার থেকে ফল কিনে খাবেনা। অন্যের কথা আমি কিছুই বলবোনা। তবে এই ফল খেলেই এমন কোন রোগ নাই যা হবেনা।





















