১২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৭৫ এর রঙে রঙিন আওয়ামী লীগ

❖ গণতন্ত্র আছে বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে: আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী
❖ সোহরাওয়ার্দীতে নেতাকর্মীদের উচ্ছাস

গণতন্ত্র আছে বলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হককে স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বাঙালির সব অর্জনেই আওয়ামী লীগ জড়িত। জন্ম থেকে আওয়ামী লীগের প্রতিটি পদক্ষেপের কারণেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সবসময় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিল সংগঠনটি। আওয়ামী লীগ গণমানুষের সংগঠন, জনগণের অধিকার আদায়ের সংগঠন, জনগণের আর্থসামাজিক উন্নতি করার সংগঠন। কাজেই বারবার আঘাত এলেও এ সংগঠনের কেউ ক্ষতি করতে পারেনি। ফিনিক্স পাখির মতো যেমন পুড়িয়ে ফেলার পরও ভস্ম থেকে জেগে উঠে, আওয়ামী লীগও সেভাবে জেগে উঠেছে।

দলের সাবেক নেতাদের ভুলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হয়তো কখনও কখনও কোনও নেতা ভুল করেছেন, কেউ মনে করেছেন আওয়ামী লীগে থাকলে তারাই বড় নেতা, দলের চেয়েও নিজেকে বড় মনে করে দল ছেড়েছেন, দল ছেড়ে অন্য দল করেছেন। কেউ দল ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু ভুল করেছেন। কেন? আপনারা দেখেন আকাশে মিটিমিটি তারা জ্বলে। তারা আলোকিত হয় সূর্যের দ্বারা। যেসব নেতা ভুল করেছিলেন, তারা ভুলে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন বলেই আলোকিত ছিলেন। এখান থেকে চলে যাওয়ার পর তারা আর জ্বলেনি, আস্তে আস্তে মিইয়ে গেছে।

আওয়ামী লীগকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আমার একটাই আবেদন থাকবে আমাদের সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মীর কাছে, সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে হবে। যেকোনও একজন রাজনীতিবিদের জীবনে সংগঠনটা হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী। যদি সংগঠন শক্তিশালী হয় আর দেশের গণমানুষের সমর্থন পাওয়া যায়, যতই ষড়যন্ত্র হোক।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি বলেই বারবার জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। বারবার ক্ষমতায় এসে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে। আর গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই আজ আর্থসামাজিকভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বদরবারে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বে আজ মাথা উঁচু করে চলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই এটাকে (আস্থা-বিশ্বাস) ধরে রেখেই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

এর আগে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয় আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা। বিকেল ৩টা ৪২ মিনিটে আলোচনা সভার মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। মঞ্চে উঠে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেতাকর্মীরাও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এর আগে, দলের সভাপতি শেখ হাসিনা জাতীয় পতাকা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আলোচনা সভার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্ব পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। শুরুতে পরিবেশন করা হয় আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর থিম সং। পরে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরে নাচ ও গান পরিবেশন করা হয়।

৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তথা প্লাটিনাম জুবিলির এই আয়োজনের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে- ‘গৌরবময় পথ চলার ৭৫ বছরে আওয়ামী লীগ, সংগ্রাম, সংকল্প, সততা, শপথে জনগণের সাথে’। এ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করছেন। অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাসহ দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে এতে বিএনপির মহাসচিব সহ ৬ নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাদের কেউ আসেননি।

এদিকে দুপুর ১২টার পর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে শুরু করেন আওয়ামী লীগ, ছাত্র লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বেলা ৩টায় পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হন। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যানার-ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে ঢাকঢোলের তালে নেচে-গেয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসেন অনেক নেতাকর্মী। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

৭৫ এর রঙে রঙিন আওয়ামী লীগ

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

❖ গণতন্ত্র আছে বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে: আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী
❖ সোহরাওয়ার্দীতে নেতাকর্মীদের উচ্ছাস

গণতন্ত্র আছে বলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হককে স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বাঙালির সব অর্জনেই আওয়ামী লীগ জড়িত। জন্ম থেকে আওয়ামী লীগের প্রতিটি পদক্ষেপের কারণেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সবসময় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিল সংগঠনটি। আওয়ামী লীগ গণমানুষের সংগঠন, জনগণের অধিকার আদায়ের সংগঠন, জনগণের আর্থসামাজিক উন্নতি করার সংগঠন। কাজেই বারবার আঘাত এলেও এ সংগঠনের কেউ ক্ষতি করতে পারেনি। ফিনিক্স পাখির মতো যেমন পুড়িয়ে ফেলার পরও ভস্ম থেকে জেগে উঠে, আওয়ামী লীগও সেভাবে জেগে উঠেছে।

দলের সাবেক নেতাদের ভুলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হয়তো কখনও কখনও কোনও নেতা ভুল করেছেন, কেউ মনে করেছেন আওয়ামী লীগে থাকলে তারাই বড় নেতা, দলের চেয়েও নিজেকে বড় মনে করে দল ছেড়েছেন, দল ছেড়ে অন্য দল করেছেন। কেউ দল ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু ভুল করেছেন। কেন? আপনারা দেখেন আকাশে মিটিমিটি তারা জ্বলে। তারা আলোকিত হয় সূর্যের দ্বারা। যেসব নেতা ভুল করেছিলেন, তারা ভুলে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন বলেই আলোকিত ছিলেন। এখান থেকে চলে যাওয়ার পর তারা আর জ্বলেনি, আস্তে আস্তে মিইয়ে গেছে।

আওয়ামী লীগকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আমার একটাই আবেদন থাকবে আমাদের সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মীর কাছে, সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে হবে। যেকোনও একজন রাজনীতিবিদের জীবনে সংগঠনটা হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী। যদি সংগঠন শক্তিশালী হয় আর দেশের গণমানুষের সমর্থন পাওয়া যায়, যতই ষড়যন্ত্র হোক।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি বলেই বারবার জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। বারবার ক্ষমতায় এসে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে। আর গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই আজ আর্থসামাজিকভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বদরবারে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বে আজ মাথা উঁচু করে চলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই এটাকে (আস্থা-বিশ্বাস) ধরে রেখেই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

এর আগে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয় আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা। বিকেল ৩টা ৪২ মিনিটে আলোচনা সভার মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। মঞ্চে উঠে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেতাকর্মীরাও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এর আগে, দলের সভাপতি শেখ হাসিনা জাতীয় পতাকা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আলোচনা সভার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্ব পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। শুরুতে পরিবেশন করা হয় আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর থিম সং। পরে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরে নাচ ও গান পরিবেশন করা হয়।

৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তথা প্লাটিনাম জুবিলির এই আয়োজনের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে- ‘গৌরবময় পথ চলার ৭৫ বছরে আওয়ামী লীগ, সংগ্রাম, সংকল্প, সততা, শপথে জনগণের সাথে’। এ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করছেন। অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাসহ দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে এতে বিএনপির মহাসচিব সহ ৬ নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাদের কেউ আসেননি।

এদিকে দুপুর ১২টার পর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে শুরু করেন আওয়ামী লীগ, ছাত্র লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বেলা ৩টায় পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হন। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যানার-ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে ঢাকঢোলের তালে নেচে-গেয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসেন অনেক নেতাকর্মী। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।