কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। তীব্র ভাঙনের ফলে চিলমারী ইউনিয়নে গত দেড় সপ্তাহে গৃহ হারা হয়ে পরেছেন প্রায় ২০ টি পরিবার,ভাঙ্গনের মুখে বাড়ী সরিয়ে নিয়েছেন। আরো বাড়ি ঘর সরিয়ে নিয়েছেন আরো ২২টি পরিবার। ভেঙ্গে গেছে স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত ৬০টি গাছের বান্ডাল ও শত শত একর ফসলীজমি। হুমকিতে রয়েছে ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়,১টি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত বৈদ্যুতিক সাবমেরিন ক্যাবল।
জানা গেছে,উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের গত এক সপ্তাহে ব্রহ্মপুত্র নদে তীব্র ভাঙনে শাখাহাতি,মনতোলা ও কড়াইবরিশালের প্রায় ২০টি বাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে । এছাড়াও স্থানীয় উদ্যোগে ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬০টি গাছের বান্ডাল ও শত শত একর ফসলী জমি নদীর গর্ভে চলে গেছে।।
এতে হুমকিতে রয়েছে ইউনিয়নের শাখাহাতি এলাকায় শাখাহাতি ১নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,শাখাহাতি কমিউনিটি ক্লিনিক,মনতোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত বৈদ্যতিক সাবমেরিন ক্যাবল। স্থানীয়দের অভিযোগ উজানে ব্রহ্মপুত্র নদের মাঝ থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় চিলমারী ইউনিয়নটি তীব্র ভাঙনের মুখে রয়েছে। শাখাহাতি ১নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা.শাহিদা সুলতানা বেগম বলেন,যে ভাবে নদী ভাঙছে তাতে স্কুলটি ভেঙ্গে যাবে ভেঙ্গে গেলে এখান কার শিক্ষাথীদের লেখা পড়া বন্ধ হয়ে যাবে আমি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে অনুরোধ করবো ভাঙ্গন রোধে যেন ব্যবস্থা নেন।
চিলমারী ইউনিয়নের মনতোলা এলাকার আবুল হোসেন ,মোখলেছুর রহমান, মো. মুকুল মিয়া, জামাল হোসেন সহ অনেকে বলেন হামার বাড়ী-ঘর এবং দোকান ভাঙ্গি গেইছে। একই এলাকার মোছা. রোজিনা বেগম বলেন,নদীর ভাঙ্গন এত আকার ধারন করছে। যে,ঘর-বাড়ী ভেঙ্গে নেয়ারও সময় দেয় না। সামনে নদী,তাই আমরা ঘর সরালাম ।কিন্তু কোথায় গিয়ে আশ্রয় নিব তা জানি না। এখন খুবেই বিপদে পরলাম। মো.জালাল হোসেন বলেন ,গত এক সপ্তাহের নদী ভাঙনে এই এলাকায় অন্তত প্রায় ১৫টি বাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা না হলে হয়তো মানচিত্র থেকে চিলমারী ইউনিয়নটি হারিয়ে যাবে। এছাড়াও নদী ভাঙন প্রতিরোধ ও সাবমেরিন ক্যাবল পুনঃমেরামতের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করছি।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মো.আমিনুল ইসলাম বলেন , ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে গত দেড় সপ্তাহে ভাঙন রক্ষার্থে নির্মিত ৬০টি বান্ডাল প্রায় ২০টি বাড়ী ও শত শত একর আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যায়ে স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবলটি ধ্বংশেল দ্বারপ্রান্তে গেলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেই।
চিলমারী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজি এম মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, আমাদের সাবমেরিন ক্যাবল টি নদী থেকে অনেক দুরে আছে হুমকির মুখে নেই। যখন হুমকির মুখে পরবে তখন সরিয়ে নেয়া হবে। উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো মিনহাজুল ইসলাম জানান,কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

























