নরসিংদীতে বিভিন্ন উপজেলায় দুই নারী সহ ৬ জনকে বিষাক্ত জলজ প্রাণী কামড়িয়েছে। তবে আহত স্বজনদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে ছয় জনের নাম নরসিংদী সদর হাসপাতালে সাপে কাটা হিসেবে নথীভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তৌহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ৬ জন সাপে কাটা রোগিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মাঝে রাত ৮টার পর এক নারীসহ তিনজনকে তিনি নিজে চিকিৎসা দিয়ে অভজারবেশনে রেখেছেন।
নরসিংদী সদর হাসপাতালে জরুরী বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাপে কাটা রোগীরা হলেন শিবপুর উপজেলার ব্রাহ্মন্দী গ্রামের হাসান মিয়ার ছেলে শাহ পরান(১৮), একই গ্রামের আব্দুল কাউয়ুম এর স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (৩০), একই উপজেলার পোড়াদিয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম(২৩), পুটিয়া ইউনিয়নে তেলিয়া গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে রিফাত মিয়া (১৭) এছাড়া মনোহরদী উপজেলার জয়নালের স্ত্রী খাদিজা আক্তার(২৬) ও মাধবদীর নুরালাপুর ইউনিয়নের শ্যামতলী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে জোবায়ের ইসলাম(১৬)।
সাপের কামড়ে আহত শাহ পরানের চাচাতো ভাই কামাল মির্জা বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের বাড়ির পাশে পুকুরে গোসলে নামলে সাপে কামড় দেয় শাহ পরানকে। আহত শাহ পরান সাপটি দেখেছে। সাপটি হল ঢোরা সাপ। তিনি বলেন, সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে রাতেই বাড়ি ফিরেছেন শাহ পরান। এখন আগের চেয়ে ভালো আছে। সদর হাসপাতালে কথা হয় সাপে কাটা রোগি রিফাতের বাবার সাথে। তিনি বলেন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নিজেদের ধান ক্ষেত পরিষ্কার করছিলেন তারা দুজনে। এসময় রিফাতের বাম হাতে বিষাক্ত ঢোরা সাপে কামড় দেয়। পরে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। এখন অভজারবেশনে আছে। তবে হাতে কাটা চিহ্ন লাল হয়ে হাতটি ফোলে আছে বলেও জানান তিনি। একই সময় জরুরী বিভাগে সাপে কাটা রোগি জোবায়ের ইসলাম এর সাথে কথা হলে। তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৭টার শ্যামতলী-আলগীকান্দাপাড়া সড়কের পাশে ঘাষের উপর দাড়ি কথা বলছিল জোবায়ের।
এসময় পায়ের ঘোড়ালিতে সাপে কাটে। সেও তার বন্ধু মাহিম মিয়া সাপটি দেখেছে বলে জানান। এটিও ঢোরা সাপ ছিল। নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাহমুদুল কবির বাশার বলেন, বেশ কয়েজন সাপে কাটা রোগি হাসপাতালে এসেছে। এর মাঝে এক নারীকে অবজাররে রাখা হয়েছে। তবে স্বজনদের দাবী করার প্রেক্ষিতে আমরা সাপে কাটা রোগী হিসেবে নথীভুক্ত করেছি। বিষাক্ত প্রাণী বা সাপে কাটা রোগীর বিষয়ে কোনো আতঙ্ক না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শও দেন আরএমও মাহমুদুল কবির বাশার। এছাড়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে বলেও জানান তিনি।





















