জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় সমবায় সমিতির নামে গ্রাহকদের আমানতকৃত প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা নিয়ে পলাতক এবং প্রতারণা করে আসছে বেশ কিছু সমবায় সমিতি। এই সমিতিগুলির কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের ফেরত এবং প্রতারকদের গ্রেপ্তারের দাবীতে ২৯ জুন (শনিবার) সকালে শহরের বকুলতলায় মানববন্ধন করেন ভুক্তভুগী আমানতকারী ও জেলার সচেতন মহল।
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) জামালপুর, হিউম্যান রাইটস ফোরাম, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন জেলা শাখার ব্যানারে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিমের সভাপতিত্বে এবং সুমন মাহমুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট আইনজীবী ইসমত পাশা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি জামালপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলী আক্কাস, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট ইউসুফ আলী, কবি ও সাংবাদিক সাযযাদ আনসারী, সনাক জামালপুরের সাবেক সভাপতি অজয় পাল বাবু, মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম উজ্জ্বল প্রমূখ। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী আমানতকারীরাও বক্তব্য রাখেন।
এসময় বক্তারা বলেন, এই প্রতারকচক্রের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে অসংখ্য পরিবার, আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে আকাশ বাতাস। এদের মধ্যে আল-আকাবা, শতদল, স্বদেশ, রংধনুসহ আরও বেশ কিছু সমবায় সমিতি জড়িত। এই চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মানুষের আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলেন, তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত না দিয়ে সমিতির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে এবং তারা দেশের বাইরে পাড়ি জমানোর পাঁয়তারা করছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
বক্তব্যে এক ভুক্তভোগী জানায়, টাকার অভাবে আমার মায়ের চিকিৎসা করাতে পারি নাই তবুও তারা আমার আমানতকৃত টাকা দেয় নাই। অবশেষে টাকার অভাবে আমার মাকে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে বিদায় নিতে হয়েছে।
আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, চাকুরী শেষে শেষ সম্বলটুকু জমা রেখেছিলাম সমবায় সমিতিতে। সেই টাকা আর ফিরে পেলাম না। আমার সাংসারিক জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার। ভেঙে যাচ্ছে সংসার, না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে।
মানববন্ধনের সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম আগামী কর্মসূচী ঘোষণা করে বলেন, প্রশাসন দ্রুত সমবায় সমিতির নামে প্রতারকদের গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগীদের আমানতকৃত অর্থ ফেরত না দিলে আমরা বড় আন্দোলনে যাব। আগামী সপ্তাহে আমরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিবো, সড়ক-রেলপথ অবরোধ করবো, জেলা সমবায় অফিস ঘেরাও কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।























