০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুরে ভাঙনে ৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত

বন্যা ও নদী ভাঙনে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটির কিছু অবকাঠামো সরিয়ে নেয়া হলেও নদীতে বিলীন হয়েছে ভূমি। সংশ্লিষ্টরা বলেন, নদ-নদীর কাছাকাছি চরগুলোয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বিশেষ ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। যাতে সহজে টিনের চাল ও বেড়া খুলে নেয়া যায়। তবে বিদ্যালয়ের জমি রক্ষা করা সম্ভব হয় না। প্রাথমিক শিক্ষা রংপুর বিভাগের উপ পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগের আট জেলার মধ্যে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও যমুনা নদী বর্ষায় আগ্রাসী রূপ নেয়। প্রতি বছরই নদী সংলগ্ন চরে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার দিঘলকান্দি, পাতিলবাড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভাটি বুড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের কবলে পড়ে। পরে বিদ্যালয়গুলোর টিনের তৈরি অবকাঠামো সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। গাইবান্ধায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১১টি বিদ্যালয়। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পাতিলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবর রহমান বলেন, যমুনার ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে এক বছরে তিনবার বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সরাতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, উপজেলায় দিঘলবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সরাতে হয়েছে। গত বছরও বিদ্যালয়টির অবকাঠামো সরানো হয়েছিল। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভাটি বুড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক বলেন, বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে। বাধ্য হয়ে নয়টি রুমের অবকাঠামো সরিয়ে নিতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সরানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি তারা গুরুত্ব দেয়নি। অথচ দেড় বছর আগে ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা বিদ্যালয়ে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আরো পাঁচটি কক্ষ তৈরি করে। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার চর গুজিমারি এবং খামার দামারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সরিয়ে নেয়া হলেও নদীতে বিলীন হয়েছে জমি। এর বাইরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো ২০টি বিদ্যালয়। উলিপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন বলেন, নদীর কাছাকাছি চরগুলোয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বিশেষ ধরনের অবকাঠামো তৈরি করা হয়। যাতে জরুরি প্রয়োজনে সহজেই টিনের চাল ও বেড়া খুলে নেয়া যায়। তবে বিদ্যালয়ের জমি রক্ষা করা সম্ভব হয় না।

নদীভাঙনের কারণে উপজেলায় চর গুজিমারি এবং খামার দামারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো অপসারণ করতে হয়েছে। এছাড়াও বন্যায় রংপুর জেলায় দুটি এবং লালমনিরহাটে ছয়টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্টরা বলেন, চরের উপযোগী করে বিদ্যালয়ের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। যাতে নদীর ভাঙনের আশঙ্কা থাকলে তা সরিয়ে নেয়া যায়। স্থাপনাগুলো তৈরিতে ১৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হয়। যদি স্থাপনাগুলোর মেঝে ইট ও সিমেন্ট দিয়ে স্থায়ীভাবে না বানিয়ে কাঠের পাটাতন করা যায়, তাহলে এগুলো খুলে আনা সম্ভব। তাছাড়া টিনের সঙ্গে যে লোহার এঙ্গেল ব্যবহার করা হয়, জরুরি প্রয়োজনে তা খুলতে এবং চর এলাকায় বহন করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। যদি মানস¤পন্ন কাঠ ব্যবহার করা হয় তাহলে তা সহজে বহনযোগ্য হতো। পাশাপাশি অর্থ সাশ্রয় হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর বিভাগের উপ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, বন্যায় নদী ভাঙনের শিকার কিছু বিদ্যালয়ের স্থাপনা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অনেক বিদ্যালয় ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। চরগুলোয় নজরদারি করা হচ্ছে। যাতে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেয়া যায়। তবে বিদ্যালয়ে ছুটি থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে না। ছুটি শেষ হলে বিকল্প ব্যবস্থায় যাতে লেখাপড়া চালিয়ে নেয়া যায়, সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলোয় আর্থিক সহায়তার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে ভাঙনে ৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪

বন্যা ও নদী ভাঙনে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটির কিছু অবকাঠামো সরিয়ে নেয়া হলেও নদীতে বিলীন হয়েছে ভূমি। সংশ্লিষ্টরা বলেন, নদ-নদীর কাছাকাছি চরগুলোয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বিশেষ ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। যাতে সহজে টিনের চাল ও বেড়া খুলে নেয়া যায়। তবে বিদ্যালয়ের জমি রক্ষা করা সম্ভব হয় না। প্রাথমিক শিক্ষা রংপুর বিভাগের উপ পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগের আট জেলার মধ্যে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও যমুনা নদী বর্ষায় আগ্রাসী রূপ নেয়। প্রতি বছরই নদী সংলগ্ন চরে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার দিঘলকান্দি, পাতিলবাড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভাটি বুড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের কবলে পড়ে। পরে বিদ্যালয়গুলোর টিনের তৈরি অবকাঠামো সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। গাইবান্ধায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১১টি বিদ্যালয়। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পাতিলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবর রহমান বলেন, যমুনার ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে এক বছরে তিনবার বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সরাতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, উপজেলায় দিঘলবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সরাতে হয়েছে। গত বছরও বিদ্যালয়টির অবকাঠামো সরানো হয়েছিল। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভাটি বুড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক বলেন, বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে। বাধ্য হয়ে নয়টি রুমের অবকাঠামো সরিয়ে নিতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সরানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি তারা গুরুত্ব দেয়নি। অথচ দেড় বছর আগে ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা বিদ্যালয়ে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আরো পাঁচটি কক্ষ তৈরি করে। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার চর গুজিমারি এবং খামার দামারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সরিয়ে নেয়া হলেও নদীতে বিলীন হয়েছে জমি। এর বাইরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো ২০টি বিদ্যালয়। উলিপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন বলেন, নদীর কাছাকাছি চরগুলোয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বিশেষ ধরনের অবকাঠামো তৈরি করা হয়। যাতে জরুরি প্রয়োজনে সহজেই টিনের চাল ও বেড়া খুলে নেয়া যায়। তবে বিদ্যালয়ের জমি রক্ষা করা সম্ভব হয় না।

নদীভাঙনের কারণে উপজেলায় চর গুজিমারি এবং খামার দামারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো অপসারণ করতে হয়েছে। এছাড়াও বন্যায় রংপুর জেলায় দুটি এবং লালমনিরহাটে ছয়টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্টরা বলেন, চরের উপযোগী করে বিদ্যালয়ের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। যাতে নদীর ভাঙনের আশঙ্কা থাকলে তা সরিয়ে নেয়া যায়। স্থাপনাগুলো তৈরিতে ১৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হয়। যদি স্থাপনাগুলোর মেঝে ইট ও সিমেন্ট দিয়ে স্থায়ীভাবে না বানিয়ে কাঠের পাটাতন করা যায়, তাহলে এগুলো খুলে আনা সম্ভব। তাছাড়া টিনের সঙ্গে যে লোহার এঙ্গেল ব্যবহার করা হয়, জরুরি প্রয়োজনে তা খুলতে এবং চর এলাকায় বহন করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। যদি মানস¤পন্ন কাঠ ব্যবহার করা হয় তাহলে তা সহজে বহনযোগ্য হতো। পাশাপাশি অর্থ সাশ্রয় হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর বিভাগের উপ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, বন্যায় নদী ভাঙনের শিকার কিছু বিদ্যালয়ের স্থাপনা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অনেক বিদ্যালয় ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। চরগুলোয় নজরদারি করা হচ্ছে। যাতে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেয়া যায়। তবে বিদ্যালয়ে ছুটি থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে না। ছুটি শেষ হলে বিকল্প ব্যবস্থায় যাতে লেখাপড়া চালিয়ে নেয়া যায়, সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলোয় আর্থিক সহায়তার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে।