⮞ ইউক্রেন সংকটের পূর্ণাঙ্গ সমাধান চায় রাশিয়া
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান দাবি করেছেন, সামরিক জোট ন্যাটো তার আসল ‘শান্তিপূর্ণ’ ও ‘প্রতিরক্ষামূলক’ প্রকৃতিকে বাদ দিয়ে আগ্রাসনে সমর্থন দেওয়াকে এজন্ডা হিসেবে নিয়েছে। সেই সঙ্গে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের আরো বাড়তি পদক্ষেপ অবশেষে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনবে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তিনি ‘শান্তি রক্ষা মিশনে’ ছিলেন। দুই নেতা ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের সম্ভাব্য উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে অরবান স্বীকার করেন, মস্কো ও কিয়েভ খুব ‘দূরে’ অবস্থান করছে। আমরা ইতিমধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছি। এছাড়া প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এদিকে মস্কো সফরের দিনই নিউজউইকে অরবানের লেখা একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি ন্যাটোর সঙ্গে জড়িত সর্বশেষ প্রবণতাগুলোকে তুলে ধরেন। হাঙ্গেরি ১৯৯৯ সাল থেকে এই জোটের সদস্য। অরবান তার লেখায় গত কয়েক বছরে ন্যাটোর বিভিন্ন অভিযান ও উদ্যোগে বুদাপেস্টের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি জোটের দুই শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য পূরণের বিষয়েও আলোকপাত করেন। অরবানের মতে, ২৫ বছর আগে তার দেশ যে ন্যাটোতে যোগদান করেছিল তা একটি ‘শান্তি প্রকল্প’ ও একটি ‘প্রতিরক্ষা সামরিক জোট’ ছিল। তবে ‘আজ শান্তির পরিবর্তে যুদ্ধের অনুসরণে; প্রতিরক্ষার পরিবর্তে আক্রমণে’ উল্লেখ করে অরবান দুঃখ প্রকাশ করেন।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী বলেন, জোটের বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র সম্প্রতি ইউক্রেনে ন্যাটো অভিযান শুরুর সম্ভাবনার বিবেচনা করছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেছিলেন, তিনি ইউক্রেনে ফরাসি সেনা মোতায়েনের কথা অস্বীকার করেন না। যদিও তার পরামর্শটি দ্রুত জার্মানি ও অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল। তবে ফরাসি রাষ্ট্রপ্রধান তার পর থেকে একাধিক অনুষ্ঠানে ধারণাটি নিয়ে বিতর্ক বাড়িয়েছেন। সেই সঙ্গে মে মাসে এস্তোনিয়া ও পার্শ্ববর্তী লিথুয়ানিয়া ইউক্রেনে লজিস্টিক ও অন্যান্য বেসামরিক মিশনের জন্য সেনা পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে। অরবানের নিবন্ধ অনুসারে, যদি ন্যাটো এখন কৌশল পরিবর্তন না করে তবে জোটটি ধ্বংস হয়ে যাবে।
গত শুক্রবার রাশিয়া সফররত হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট ভিক্তর অরবানের সঙ্গে বৈঠককালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তার দেশ ইউক্রেন সংকটের পূর্ণাঙ্গ সমাধান চায়। কেবল যুদ্ধবিরতি বা শত্রুতা বন্ধ করার মাধ্যমে সংকট আপাতত থামিয়ে না রেখে এর পূর্ণাঙ্গ সমাধান চায় মস্কো। কয়েক দিন আগেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সফর করেছেন ভিক্তর অরবান। এবার তিনি মস্কো সফর করলেন। পুতিনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হাঙ্গেরির এই প্রধানমন্ত্রী মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে চলমান সংকট সমাধানের লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন।
ক্রেমলিনে ভিক্তর অরবানের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পুতিন। পরে তাদের সংবাদ সম্মেলনের বিষয়বস্তু নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ক্রেমলিন। বিবৃতি অনুসারে, পুতিন বলেছেন, কেবল একটি যুদ্ধবিরতি বা একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হওয়া উচিত নয়। এমন বিরতিও হওয়া উচিত নয়, যার ফলে কিয়েভ ক্ষতি কাটিয়ে উঠে পুনরায় সংগঠিত হয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে পারে। রাশিয়া সংঘাতের পূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাপ্তির পক্ষে। এর জন্য শর্তাবলি যেমনটা আমি আগেই বলেছি, আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া আমার বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়ে কথা বলছি। এ ছাড়া অন্যান্য শর্তও আছে। যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে এর ফাঁকফোকর বন্ধ করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধবিরতি বা ইউক্রেন-সংকট কাটিয়ে ওঠা নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্য মতপার্থক্য যোজন যোজন। এই দূরত্ব দূর করতে হলে এবং যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
রাশিয়ার অভ্যন্তরে একটি অস্ত্র গুদামে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। গত শনিবার দিবাগত রাতে চালানো হামলায় সামরিক-শিল্প স্থাপনাটিতে আগুন লেগেছে। গতকাল ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রটি জানিয়েছে, রাশিয়ার ভরোনেজ অঞ্চলে ৯ হাজার বর্গ মিটার এলাকার অস্ত্র গুদামে হামলা চালানো হয়েছে। সূত্র মতে, ওই গুদামে ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক, কামানের গোলা ও গুলি রাখা হয়েছিল। সেরগেয়েভেকা গ্রামের কাছে গুদামটি। কিয়েভ নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৮৫ মাইল দূরে এটির অবস্থান। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক হামলার পর দূরপাল্লার ড্রোনের একটি বহর গড়ে তুলেছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। এসব ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে তারা হামলা চালিয়ে আসছে। সূত্র বলেছে, অস্ত্র গুদামটিতে যেকোনও সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।


























