০৯:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পূর্ব পরিকল্পনার জেড়েই খুন হন কলেজ শিক্ষার্থী জুবায়ের

রাজধানীর ঢাকা কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী জুবায়েরকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা রাজিন ইকবালকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার (৮ জুলাই) র‍্যাব-৪ এর মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানান।

প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ৬ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগরীর শাহআলী থানাধীন ঢাকা কমার্স কলেজের পার্শ্ববর্তী চারতলা বিল্ডিং এর তৃতীয় তলায় একটি ভাড়া বাসায় একজন কলেজ শিক্ষার্থীর লাশ পাওয়া যায়। লাশটি পাওয়া গেলে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদরদপ্তর গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় র‌্যাব-৪ ও র‌্যাব-৯ এর আভিযানিক দল গতকাল বিকালে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনপূর্বক মূলহোতা চৌধুরী রাজিন ইকবাল (১৮)’কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, ভিকটিম এবং গ্রেফতারকৃত আসামী ঢাকা কমার্স কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। গত জুন মাসের ২য় সপ্তাহে গ্রেফতারকৃত আসামী রাজিনের কাছ থেকে কলেজের শিক্ষক কর্তৃক একটি দাবা বোর্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়। যার প্রেক্ষিতে সে কলেজের উপদেষ্টা বরাবর নিয়মিত শিক্ষার্থী উল্লেখ করে দাবা বোর্ডটি গ্রহণের জন্য আবেদন করে। কিন্তু ভিকটিম উক্ত শ্রেণীর ক্লাশ ক্যাপ্টেন হওয়ায় আবেদনটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থী উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা সৃষ্টির এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। পরবর্তীতে উক্ত কলেজের শিক্ষকদের মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করা হয় এবং অভিভাবকদের নিকট বিষয়টি অবহিত ও সতর্ক করা হয়। উক্ত ঘটনার জেরে আসামীর মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে।

র‍্যাব জানায়, পূর্ব পরিকল্পনা থেকে গত ৬ জুলাই দুপুরে আসামী রাজিন ভিকটিমকে কমার্স কলেজের পার্শ্ববর্তী নিজ ভাড়া বাসায় কৌশলে ডাকে এবং তার ডাকে সাড়া দিয়ে ভিকটিম সেখানে পৌছায়। পরবর্তীতে বিকালে ভিকটিম (জুবায়ের) সেখানে পৌছালে তাদের মধ্যকার পূর্বের বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হলে এক পর্যায়ে ভিকটিমকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এবং তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

গ্রেফতার রাজিন র‍্যাবকে জানিয়েছেন, হত্যার বিষয়টি তার পিতাকে জানালে সে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছায় এবং স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানার পূর্বেই রাজিনকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। পরবর্তীতে লাশটি সম্পর্কে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ অবগত হলে হত্যাকারীর পিতা কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে উভয়েই নির্দিষ্ট একটি স্থানে মিলিত হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী রাজিনের পিতা মাইক্রোবাসযোগে ছেলেকে নিয়ে হবিগঞ্জে পালিয়ে গিয়ে নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে গ্রেফতারকৃত রাজিনকে রেখে নিজেও অন্যত্র আত্মগোপনে চলে যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্ব পরিকল্পনার জেড়েই খুন হন কলেজ শিক্ষার্থী জুবায়ের

আপডেট সময় : ০৪:১২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

রাজধানীর ঢাকা কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী জুবায়েরকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা রাজিন ইকবালকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার (৮ জুলাই) র‍্যাব-৪ এর মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানান।

প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ৬ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগরীর শাহআলী থানাধীন ঢাকা কমার্স কলেজের পার্শ্ববর্তী চারতলা বিল্ডিং এর তৃতীয় তলায় একটি ভাড়া বাসায় একজন কলেজ শিক্ষার্থীর লাশ পাওয়া যায়। লাশটি পাওয়া গেলে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদরদপ্তর গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় র‌্যাব-৪ ও র‌্যাব-৯ এর আভিযানিক দল গতকাল বিকালে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনপূর্বক মূলহোতা চৌধুরী রাজিন ইকবাল (১৮)’কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, ভিকটিম এবং গ্রেফতারকৃত আসামী ঢাকা কমার্স কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। গত জুন মাসের ২য় সপ্তাহে গ্রেফতারকৃত আসামী রাজিনের কাছ থেকে কলেজের শিক্ষক কর্তৃক একটি দাবা বোর্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়। যার প্রেক্ষিতে সে কলেজের উপদেষ্টা বরাবর নিয়মিত শিক্ষার্থী উল্লেখ করে দাবা বোর্ডটি গ্রহণের জন্য আবেদন করে। কিন্তু ভিকটিম উক্ত শ্রেণীর ক্লাশ ক্যাপ্টেন হওয়ায় আবেদনটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থী উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা সৃষ্টির এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। পরবর্তীতে উক্ত কলেজের শিক্ষকদের মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করা হয় এবং অভিভাবকদের নিকট বিষয়টি অবহিত ও সতর্ক করা হয়। উক্ত ঘটনার জেরে আসামীর মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে।

র‍্যাব জানায়, পূর্ব পরিকল্পনা থেকে গত ৬ জুলাই দুপুরে আসামী রাজিন ভিকটিমকে কমার্স কলেজের পার্শ্ববর্তী নিজ ভাড়া বাসায় কৌশলে ডাকে এবং তার ডাকে সাড়া দিয়ে ভিকটিম সেখানে পৌছায়। পরবর্তীতে বিকালে ভিকটিম (জুবায়ের) সেখানে পৌছালে তাদের মধ্যকার পূর্বের বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হলে এক পর্যায়ে ভিকটিমকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এবং তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

গ্রেফতার রাজিন র‍্যাবকে জানিয়েছেন, হত্যার বিষয়টি তার পিতাকে জানালে সে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছায় এবং স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানার পূর্বেই রাজিনকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। পরবর্তীতে লাশটি সম্পর্কে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ অবগত হলে হত্যাকারীর পিতা কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে উভয়েই নির্দিষ্ট একটি স্থানে মিলিত হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী রাজিনের পিতা মাইক্রোবাসযোগে ছেলেকে নিয়ে হবিগঞ্জে পালিয়ে গিয়ে নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে গ্রেফতারকৃত রাজিনকে রেখে নিজেও অন্যত্র আত্মগোপনে চলে যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত থাকবে।