জামালপুর জেলায় উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে জামালপুরে চলমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। জেলার সাত উপজেলায় বন্যায় প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যায় পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে ২৫৯টি প্রাথমিক ও ৮৮টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘন্টায় বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ৭৪ এবং জগন্নাথগঞ্জ ঘাটে ১১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল রয়েছে। জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় জেলার ২৫৯টি প্রাথমিক ও ৮৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, বন্যার কারনে ২৫৯ প্রাইমারী স্কুলে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৮টি স্কুলে আশ্রয়ণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে ১১৬টি পরিবারের ৫১৭জন আশ্রয় নিয়েছে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মোজাম্মেল হাসান জানান, জেলার সরিষাবাড়ীতে ৯টি, মাদারগঞ্জে ৯টি, মেলান্দহে ১টি, ইসলামপুরে ২৯টি, দেওয়ানগঞ্জে ২৫টি, বকশীগঞ্জে ১৫টিসহ ৮৮টি স্কুলে পানি উঠেছে। এর মধ্যে সরিষাবাড়ী ৯টি, মাদারগঞ্জে ১টি, ইসলামপুরে ২৯টি, দেওয়ানগঞ্জে ২৪টি ও বকশীগঞ্জে ১টি স্কুলে মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, বন্যাদুর্গতদের জন্য এ পর্যন্ত ৩৮০ মেট্রিক টন চাল ও ৬ লাখ টাকা এবং ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে আছে প্রায় দুই লক্ষ মানুষ। জেলা প্রশাসক মো. শফিউর রহমান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দের কোন ঘাটতি নেই।





















