দুই শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যশোরে দুর্বৃত্তদের আক্রোশের শিকার হয়েছে দুই স্কুল শিক্ষকের বাড়ি। তাদের শ্বশুর হাবিবুর রহমান এই ঘটনায় আটকের পর তার দুই জামাইয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হাবিবুর রহমানকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে। বাড়িঘর ভাংচুরের পর এখন নানাভাবে হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে। এসব ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেননি। পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
হাবিবুর রহমানের মেয়ে আসমা খাতুন জানান, তার পিতা হাবিবুর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তার প্রাক্তন মামি আলোচিত ফেলির সাথে পূর্ব শক্রতার জেরে তার পিতার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। যে দুই শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ করা হচ্ছে তাদের বাড়িতেই ঢোকেনি। রাস্তার পাশের দোকানের সামনে তার বাবার সাথে দেখা হয়েছিল। সে সময় তার বাবার সাথে তার মা মমতাজ বেগমও ছিলেন। ওই মেয়েদের বৃষ্টিতে ভিজতে নিষেধ করার পর তারা চলে যায়। তাহলে বাড়ির মধ্যে ঢুকলো কখন ওই মেয়েরা।
আসমা জানান, ওই দুই মেয়ে চলে যাওয়ার কিছু সময় পর তার প্রাক্তন স্বামী ফেলি তাদের সাথে নিয়ে চিৎকার করতে করতে আসেন। বাড়ির নিচে এসে প্রচার করেন তার পিতা নাকি ওই দুই মেয়ের একসাথে যৌন হয়রানি করেছে। আসমার প্রশ্ন এক সাথে দুই মেয়েকে যৌন হয়রানি কিভাবে সম্ভব। এটা ছিলো ফেলির সাজানো নাটক। কেননা এক মেয়ের মা ফেলির সাথে চলাফেরা করেন।
আসমা আরও জানান, তার পিতাকে যৌন নিপীড়নের মিথ্যা অভিযোগ করেই ফেলি বেগম ক্ষ্যান্ত হননি। তার ইশারায় দুর্বৃত্তরা প্রথমে তার পিতার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে। ভাংচুরের পর পুলিশ এসে তার পিতাকে আটক করে নিয়ে যায়।
আসমা খাতুন জানান, তার স্বামী মিজানুর রহমান মণিরামপুর উপজেলার কদমবাড়িয়া হাই স্কুলের শিক্ষক। তিনি জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় সেদিন বাড়িতে ছিলেন। ঘটনার পর ওই দুই মেয়ের স্বজন নামধারী দুর্বৃত্তরা দ্বিতীয় দফায় তার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা জানালার গ্লাস ভেঙে দেয়। ইটের টুকরো জানালা ভেদ করে তার দুই বছরের শিশু সন্তানের মাথায় লাগে। সবগুলো জানালায় ইট নিক্ষেপ করা হয়। পরে ঘরের মধ্যে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে দুর্বৃত্তরা।
তিনি আরও জানান, পাশেই তার ভগ্নিপতি কবিরুল ইসলামের বাড়ি। তিনি যশোর কালেক্টরেট স্কুলের শিক্ষক। তার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে। লাথি মেরে দরজা ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। জানালার গ্লাসে ইট নিক্ষেপ করে ভাঙচুর করা হয়।
আসমা জানান, চাঁচড়া ডালমিল এলাকার টিটোর বাড়ির ভাড়াটিয়া আসলাম (৪৫) ও তার পালক ছেলে শাহজাহান (২৫), শংকরপুর ইসহাক সড়কের মঞ্জুর বাড়ির ভাড়াটিয়া শামীম হোসেনসহ (৩৩) ৪/৫ জন তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।
আসমার স্বামী শিক্ষক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি বা তার স্ত্রী এবং তার ভাইরা ভাই কোনো অপরাধ করেননি। কিন্তু তাদের বাড়িতে কেনো হামলা চালানো হলো। এই বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেননি। বরং থানার এসআই লিটন দাস তাদের সাথে রহস্যজনক আচরণ করেছেন। এই ঘটনায় আদালতে মামলা করবেন বলে জানান শিক্ষক মিজানুর রহমান।
এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুই শিক্ষকের বাড়ি হামলাকারী আসলাম, শাহজাহান, শামীমসহ অন্যরা সন্ত্রাসী প্রকৃতির। তাদের সাথে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফেলি বেগমের সুসম্পর্ক আছে। ফেলির ইশারায় এই হামলা ভাংচুরের ঘটনা হতে পারে। এছাড়া যৌন নিপীড়নের ঘটনায় হাবিবুর রহমানকে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও স্থানীয়রা ধারণা করছেন৷ পুলিশ তদন্ত করলেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
এই বিষয়ে ফেলি বেগম জানিয়েছেন, সাবেক আত্মীয় হাবিবুর রহমান ও তার পরিবারের সাথে শত্রুতা চলছে এটা সত্য। কিন্তু তিনি পরিকল্পিতভাবে হাবিবুর যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ফাঁসিয়েছেন এটা মিথ্যা। তার ইশারায় কেউ তাদের বাড়ি ভাংচুর করেননি। দুই শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় আত্মীয় স্বজন ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা ও ভাংচুর করেছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহেদ হোসেন নয়ন জানান, দুই শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি সাজানো বলে মনে হয়েছে। হাবিবুর রহমান এলাকায় সভ্য মানুষ হিসেবে পরিচিত। এই ধরণের ঘৃণিত কাজ তিনি করতে পারেন বলে মনে হয়না। ঘটনার সঠিক তদন্ত প্রয়োজন।
কোতয়ালি মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি জেলহাজতে রয়েছেন। তার ও দুই জামাইয়ের বাড়ি ভাংচুরের ঘটনাটি দুঃখজনক। তান্ডব চালানোর ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ জমা না নেয়ার বিষয়ে জানান, তারা অভিযোগ করতে এসেছিলেন কিনা জানা নেই। অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





















