০১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোটা সংস্কারের দাবিতে উত্তাল রংপুর মেডিকের কলেজ

কোটার যৌক্তিক সংস্কার, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল রংপুর মেডিক্যাল কলেজ। আজ ১৬ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে মেডিক্যাল শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে ক্যা¤পাসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। এরপর কলেজ ক্যা¤পাস থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা হাসাপাতাল ক্যা¤পাসে বিক্ষোভ করে। সেখানে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষো করে। এসময় তারা কোটা না মেধা, মেধা মেধা,আমার ভাইয়ের রক্ত-বৃধা যেতে দেব না, আমার সোনার বাংলায়- বৈষম্যের ঠাঁই নাই বলে শ্লোগান দিতে থাকে। সানজিদা ফেরদৌস নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিকভাবে ছাত্রলীগ ও বহিরাগতরা হেলমেট এবং লাঠি নিয়ে যেভাবে হামলা করেছে, গুলি করেছে তাতে সব কিছু ¯পষ্ট হয়ে গেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আন্দোলনে অংশ গ্রহণকারী ৪৭ব্যাচের ডা. রিয়াজ বলেন, অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের ফাস্ট জেনারেশনের জন্য যে সুবিধা দেয়া হচ্ছে সেটার সাথে আমরা একমত। আমরাও এটা চাই। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তো আমরা বিনিময় দিতে পারবো না। আমরা তাদেরকে সম্মানিত করছি। তাদের থার্ড জেনারেশন, ফোরথ জেনারেশনকে যে সুবিধা দেয়া হচ্ছে এটা হলো রাজার মতো অবস্থা হচ্ছে। যে রাজার বংশধরদের মতো। তাদের বংশধররা রাজা হচ্ছে। এখানেও সেই অবস্থা চলছে। আমার বিশ্বাস, আমাদের সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে। এজন্য আমরা যৌক্তিক কোটা সংস্কার চাই। আমরা চাই প্রতিবন্ধী, অনগ্রসর জাতি, পিছিয়ে থাকা জেলা ও নারীদের জন্য কোটা থাকুক। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধানের নাতি-পুতিদের নামে নয়। অনেক মুক্তিযোদ্ধাই যেখানে এর বিরুদ্ধে। সেখানে তাদের ৩০ ভাগ কোটা দেয়া হচ্ছে। এটা অযৌক্তিক। এটা মৌলিক অধিকারের আন্দোলন। আমাদের মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্য বিত্ত এবং নিম্নবিত্ত যারা আছি, তাদের চূড়ান্ত লক্ষ হলো একটা সরকারি চাকরি। সেই চাকরির উপর নির্ভর করে আমাদের বাসস্থান, আমাদের চিকিৎসা, আমাদের সন্তানদের শিক্ষা, আমাদের বাবা-মা সন্তানদের খাদ্য নিরাপত্তা। মৌলিক অধিকারের ৫টার মধ্যে ৪টাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে যুক্ত আছে। আমরা চাই কোটা প্রথার সংস্কার। যৌক্তিক পর্যায়ে ৫ ভাগ কোটা রাখতে হবে। আমাদের মেধার মূল্যয়ন করা করতে হবে। সাব্বির আশরাফ নামে ৫ম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রথমে আমাদের দাবি ছিল একটা কোটার যৌক্তির সংস্কার। গতকাল থেকে আমাদের উদ্দেশ্য এখন দুইটা। প্রথমত সংবিধান অনুযায়ী অনগ্রসর জাতি ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ৫ ভাগ কোটা থাকুক। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার ভাইবোনদের ওপর এমনভাবে হামলা করা হয়েছে। তার প্রতিবাদে, তার বিরুদ্ধেই আমাদের সমাবেশ।এসময় আন্দোলনকারীরা বলেন, কোটা আন্দোলনে আমার ভাই ও বোনদের রক্ত ঝরেছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে মাঠে নেমেছি। সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হোকে। আর কোনো ভাই, আর কোনো বোনের রক্ত যেন না ঝরে। আমাদের দাবি মানতেই হবে। মাঈশা মারিহা নামে ২য় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যালে আমার অনেক ভাই-বোন আহত হয়েছে, অনেকে মৃত্যুর সাথে লড়ছে। আমরা চাই কোটার যৌক্তিক সংস্কার। বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটা সংস্কারের দাবিতে উত্তাল রংপুর মেডিকের কলেজ

আপডেট সময় : ০৪:২৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

কোটার যৌক্তিক সংস্কার, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল রংপুর মেডিক্যাল কলেজ। আজ ১৬ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে মেডিক্যাল শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে ক্যা¤পাসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। এরপর কলেজ ক্যা¤পাস থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা হাসাপাতাল ক্যা¤পাসে বিক্ষোভ করে। সেখানে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষো করে। এসময় তারা কোটা না মেধা, মেধা মেধা,আমার ভাইয়ের রক্ত-বৃধা যেতে দেব না, আমার সোনার বাংলায়- বৈষম্যের ঠাঁই নাই বলে শ্লোগান দিতে থাকে। সানজিদা ফেরদৌস নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিকভাবে ছাত্রলীগ ও বহিরাগতরা হেলমেট এবং লাঠি নিয়ে যেভাবে হামলা করেছে, গুলি করেছে তাতে সব কিছু ¯পষ্ট হয়ে গেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আন্দোলনে অংশ গ্রহণকারী ৪৭ব্যাচের ডা. রিয়াজ বলেন, অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের ফাস্ট জেনারেশনের জন্য যে সুবিধা দেয়া হচ্ছে সেটার সাথে আমরা একমত। আমরাও এটা চাই। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তো আমরা বিনিময় দিতে পারবো না। আমরা তাদেরকে সম্মানিত করছি। তাদের থার্ড জেনারেশন, ফোরথ জেনারেশনকে যে সুবিধা দেয়া হচ্ছে এটা হলো রাজার মতো অবস্থা হচ্ছে। যে রাজার বংশধরদের মতো। তাদের বংশধররা রাজা হচ্ছে। এখানেও সেই অবস্থা চলছে। আমার বিশ্বাস, আমাদের সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে। এজন্য আমরা যৌক্তিক কোটা সংস্কার চাই। আমরা চাই প্রতিবন্ধী, অনগ্রসর জাতি, পিছিয়ে থাকা জেলা ও নারীদের জন্য কোটা থাকুক। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধানের নাতি-পুতিদের নামে নয়। অনেক মুক্তিযোদ্ধাই যেখানে এর বিরুদ্ধে। সেখানে তাদের ৩০ ভাগ কোটা দেয়া হচ্ছে। এটা অযৌক্তিক। এটা মৌলিক অধিকারের আন্দোলন। আমাদের মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্য বিত্ত এবং নিম্নবিত্ত যারা আছি, তাদের চূড়ান্ত লক্ষ হলো একটা সরকারি চাকরি। সেই চাকরির উপর নির্ভর করে আমাদের বাসস্থান, আমাদের চিকিৎসা, আমাদের সন্তানদের শিক্ষা, আমাদের বাবা-মা সন্তানদের খাদ্য নিরাপত্তা। মৌলিক অধিকারের ৫টার মধ্যে ৪টাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে যুক্ত আছে। আমরা চাই কোটা প্রথার সংস্কার। যৌক্তিক পর্যায়ে ৫ ভাগ কোটা রাখতে হবে। আমাদের মেধার মূল্যয়ন করা করতে হবে। সাব্বির আশরাফ নামে ৫ম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রথমে আমাদের দাবি ছিল একটা কোটার যৌক্তির সংস্কার। গতকাল থেকে আমাদের উদ্দেশ্য এখন দুইটা। প্রথমত সংবিধান অনুযায়ী অনগ্রসর জাতি ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ৫ ভাগ কোটা থাকুক। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার ভাইবোনদের ওপর এমনভাবে হামলা করা হয়েছে। তার প্রতিবাদে, তার বিরুদ্ধেই আমাদের সমাবেশ।এসময় আন্দোলনকারীরা বলেন, কোটা আন্দোলনে আমার ভাই ও বোনদের রক্ত ঝরেছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে মাঠে নেমেছি। সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হোকে। আর কোনো ভাই, আর কোনো বোনের রক্ত যেন না ঝরে। আমাদের দাবি মানতেই হবে। মাঈশা মারিহা নামে ২য় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যালে আমার অনেক ভাই-বোন আহত হয়েছে, অনেকে মৃত্যুর সাথে লড়ছে। আমরা চাই কোটার যৌক্তিক সংস্কার। বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।