০৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চবির সমাবর্তনে ছিল নানা অসঙ্গতি খাবার পাননি ২৪০০ পুলিশ সদস্য

বর্ণাঢ্য আয়োজনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫ম সমাবর্তন সম্পন্ন হয়েছে। অনেকটা গুছানো অনুষ্ঠান হলেও আয়োজকদের নানা অসঙ্গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরাসহ নানা সচেতন মহল। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমাবর্তনে কাজ করা ২ হাজার ৪০০ পুলিশ সদস্যের জন্য করেননি কোন খাবারের আয়োজন। দেননি কোনো গ্র্যাজুয়েটকে তাদের অনুভূতি শেয়ারের সুযোগ। এবং সমাবর্তন প্যান্ডেলে ছিল না কোন সুপেয় পানির ব্যবস্থা। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়েছে অনেক কনভোকি।
বুধবার (১৪ মে) দুপুর ২ টা থেকে চবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর সমাবর্তন নিয়ে পানির দুস্পাপ্যতা থেকে শুরু করে গাড়ীর সল্পতা একের পর এক অভিযোগ তুলেন গ্র্যাজুয়েটরা।
চবির ৫১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন আফরান  বলেন,’এ কেমন সমাবর্তন হয়েছে কিছু বুঝিনি। কোনো শিক্ষার্থীকে তার অনুভূতি শেয়ারের সুযোগ দেওয়া হয়নি। যাতায়াতের জন্য যে গাড়ির ব্যবস্থা করার কথা হয়েছিল সেগুলো দেখা যায়নি তেমন।’
আরেক গ্র্যাজুয়েট সাদেকুর রহমান বলেন,এতোদিন ধরে প্রশাসনকে ভেবেছি তারা তৈলমর্দনের মানুষ না। তারা সবার উর্ধ্বে স্টুডেন্টকে অগ্রাধিকার দিতে বদ্ধপরিকল্প। তারাও সময়ের সাথে তৈলমর্দনকে জীবনের শেষ সম্বল  হিসেবে বেছে নিয়েছে।
এই শিক্ষার্থী বলেন,ডক্টর ইউনুসের জন্য সম্মান দেখাতে গিয়ে চবি প্রশাসন ২৩ হাজার স্টুডেন্টের সাথে অসম্মান দেখিয়ে। ব্যবস্থাপনা তো নাজুক ছিল এর চেয়ে বেশি খারাপ লেগেছে অনুষ্ঠানের মধ্যে ৮০ শতাংশ কথা শুধু ডক্টর ইউনুসকে নিয়ে।  এটা তেলমর্দন নয় কি? যে খরচটা শুধু তৈলমর্দনে ব্যবহৃত হয়েছে আশা করছি সামনের কনভোতে খরচটা কমিয়ে এনে স্টুডেন্ট যাতে নির্বিঘ্নে এসে প্রশান্তি লাভ করে তাদের শেষ দিনটা কাটাতে পারে সে চেষ্টা করবেন।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আদরিত সাদ বলেন, ‘প্রশাসনের কাজ কি শুধু ড. ইউনূসকে ডি.লিট দেয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ? আপনারা ৯ বছর পর একটা সমাবর্তন আয়োজন করলেন সেটার জন্য ধন্যবাদ । কিন্ত আপনারা কি একবার ভেবেছেন এই ২৫-৩০ হাজার মানুষ ক্যাম্পাস থেকে বাসায় যাবে কীভাবে? বাসায় যাওয়া বাদ দেন।  এক নাম্বার পর্যন্ত এতগুলো মানুষ কিভাবে যাবে আপনারা ভেবেছেন? টিচারদের এতোগুলা বাস ।  আজকে চক্রাকার বাস হিসেবে  ব্যবহার করা যেতোনা?  আমরা যারা রানিং স্টুডেন্ট তারা একটা সপ্তাহ অসহনীয় লোডশেডিং সহ্য করেছি,আমাদের কনভোরা যাতে একটু ভালোমতো তাদের প্রাপ্য বিদায় টাপান।  আপনারা ইউনূসকে ডি.লিট দিয়ে নিজেরা ডিলিট হয়ে বসে আছেন ।’
এই বিষয়ে চবি প্রক্টর তানভীর হায়দার আরিফ বলেন, সবকিছুর জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া। অনেকগুলো সমালোচনা ছিল যৌক্তিক। সেই সমালোচনা সামনে আসছে। আমি নিজেও সামনে আনতে চাই ভালোর জন্য। যাতে পরবর্তীতে আরো ভালোভাবে সব কিছু করা যায়।
বিষয়ে আরও জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী সবুজ বাংলাকে বলেন, সমাবর্তনে প্যান্ডেলে পানি ও পাখার সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি আমি অবগত। এ জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। পুলিশ সদস্যদের খাবারের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, এটি প্রথম শুনলাম। আমরা ওপেনিং ডে-তে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করব।
এদিকে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার পরও সমাবর্তন ঘিরে প্রাণের মেলা বসেছিলো ২৩’শ একর আয়তনের সবুজ এই ক্যাম্পাসে।গ্র্যাজুয়েটদের সঙ্গে উৎসবে মেতেছেন তাদের স্বজনরাও।দুই দিন আগ থেকেই (১২ মে) সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মুখর হতে থাকে গ্র্যাজুয়েটদের পদচারণে। সবাই মেতে ওঠেন দিনটিকে ফ্রেমে বন্দি করে রাখার প্রতিযোগিতায়। শহীদ মিনার, সাইন্স ফ্যাকাল্টি মসজিদ,বুদ্ধিজীবী চত্বর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, সেন্ট্রাল ফিল্ড-সবখানে যেন ছিল ছবি তোলার মহোৎসব।
উল্লেখ্য, ১৪ মে দুপুর ১ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শুরু হয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান।বিপুল পরিমাণ কনভোকি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। এতে প্রধান উপদেষ্টাকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এছাড়া ৫ম সমাবর্তনে পিএইচডি ডিগ্রি পেয়েছেন ২২ জন গবেষক। মোট ১৭ জনকে এমফিল ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের চারজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শীতের রাতে পায়ে মোজা পরে ঘুমানো ভালো নাকি খারাপ, জানুন

চবির সমাবর্তনে ছিল নানা অসঙ্গতি খাবার পাননি ২৪০০ পুলিশ সদস্য

আপডেট সময় : ০৪:১০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫
বর্ণাঢ্য আয়োজনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫ম সমাবর্তন সম্পন্ন হয়েছে। অনেকটা গুছানো অনুষ্ঠান হলেও আয়োজকদের নানা অসঙ্গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরাসহ নানা সচেতন মহল। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমাবর্তনে কাজ করা ২ হাজার ৪০০ পুলিশ সদস্যের জন্য করেননি কোন খাবারের আয়োজন। দেননি কোনো গ্র্যাজুয়েটকে তাদের অনুভূতি শেয়ারের সুযোগ। এবং সমাবর্তন প্যান্ডেলে ছিল না কোন সুপেয় পানির ব্যবস্থা। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়েছে অনেক কনভোকি।
বুধবার (১৪ মে) দুপুর ২ টা থেকে চবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর সমাবর্তন নিয়ে পানির দুস্পাপ্যতা থেকে শুরু করে গাড়ীর সল্পতা একের পর এক অভিযোগ তুলেন গ্র্যাজুয়েটরা।
চবির ৫১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন আফরান  বলেন,’এ কেমন সমাবর্তন হয়েছে কিছু বুঝিনি। কোনো শিক্ষার্থীকে তার অনুভূতি শেয়ারের সুযোগ দেওয়া হয়নি। যাতায়াতের জন্য যে গাড়ির ব্যবস্থা করার কথা হয়েছিল সেগুলো দেখা যায়নি তেমন।’
আরেক গ্র্যাজুয়েট সাদেকুর রহমান বলেন,এতোদিন ধরে প্রশাসনকে ভেবেছি তারা তৈলমর্দনের মানুষ না। তারা সবার উর্ধ্বে স্টুডেন্টকে অগ্রাধিকার দিতে বদ্ধপরিকল্প। তারাও সময়ের সাথে তৈলমর্দনকে জীবনের শেষ সম্বল  হিসেবে বেছে নিয়েছে।
এই শিক্ষার্থী বলেন,ডক্টর ইউনুসের জন্য সম্মান দেখাতে গিয়ে চবি প্রশাসন ২৩ হাজার স্টুডেন্টের সাথে অসম্মান দেখিয়ে। ব্যবস্থাপনা তো নাজুক ছিল এর চেয়ে বেশি খারাপ লেগেছে অনুষ্ঠানের মধ্যে ৮০ শতাংশ কথা শুধু ডক্টর ইউনুসকে নিয়ে।  এটা তেলমর্দন নয় কি? যে খরচটা শুধু তৈলমর্দনে ব্যবহৃত হয়েছে আশা করছি সামনের কনভোতে খরচটা কমিয়ে এনে স্টুডেন্ট যাতে নির্বিঘ্নে এসে প্রশান্তি লাভ করে তাদের শেষ দিনটা কাটাতে পারে সে চেষ্টা করবেন।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আদরিত সাদ বলেন, ‘প্রশাসনের কাজ কি শুধু ড. ইউনূসকে ডি.লিট দেয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ? আপনারা ৯ বছর পর একটা সমাবর্তন আয়োজন করলেন সেটার জন্য ধন্যবাদ । কিন্ত আপনারা কি একবার ভেবেছেন এই ২৫-৩০ হাজার মানুষ ক্যাম্পাস থেকে বাসায় যাবে কীভাবে? বাসায় যাওয়া বাদ দেন।  এক নাম্বার পর্যন্ত এতগুলো মানুষ কিভাবে যাবে আপনারা ভেবেছেন? টিচারদের এতোগুলা বাস ।  আজকে চক্রাকার বাস হিসেবে  ব্যবহার করা যেতোনা?  আমরা যারা রানিং স্টুডেন্ট তারা একটা সপ্তাহ অসহনীয় লোডশেডিং সহ্য করেছি,আমাদের কনভোরা যাতে একটু ভালোমতো তাদের প্রাপ্য বিদায় টাপান।  আপনারা ইউনূসকে ডি.লিট দিয়ে নিজেরা ডিলিট হয়ে বসে আছেন ।’
এই বিষয়ে চবি প্রক্টর তানভীর হায়দার আরিফ বলেন, সবকিছুর জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া। অনেকগুলো সমালোচনা ছিল যৌক্তিক। সেই সমালোচনা সামনে আসছে। আমি নিজেও সামনে আনতে চাই ভালোর জন্য। যাতে পরবর্তীতে আরো ভালোভাবে সব কিছু করা যায়।
বিষয়ে আরও জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী সবুজ বাংলাকে বলেন, সমাবর্তনে প্যান্ডেলে পানি ও পাখার সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি আমি অবগত। এ জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। পুলিশ সদস্যদের খাবারের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, এটি প্রথম শুনলাম। আমরা ওপেনিং ডে-তে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করব।
এদিকে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার পরও সমাবর্তন ঘিরে প্রাণের মেলা বসেছিলো ২৩’শ একর আয়তনের সবুজ এই ক্যাম্পাসে।গ্র্যাজুয়েটদের সঙ্গে উৎসবে মেতেছেন তাদের স্বজনরাও।দুই দিন আগ থেকেই (১২ মে) সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মুখর হতে থাকে গ্র্যাজুয়েটদের পদচারণে। সবাই মেতে ওঠেন দিনটিকে ফ্রেমে বন্দি করে রাখার প্রতিযোগিতায়। শহীদ মিনার, সাইন্স ফ্যাকাল্টি মসজিদ,বুদ্ধিজীবী চত্বর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, সেন্ট্রাল ফিল্ড-সবখানে যেন ছিল ছবি তোলার মহোৎসব।
উল্লেখ্য, ১৪ মে দুপুর ১ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শুরু হয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান।বিপুল পরিমাণ কনভোকি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। এতে প্রধান উপদেষ্টাকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এছাড়া ৫ম সমাবর্তনে পিএইচডি ডিগ্রি পেয়েছেন ২২ জন গবেষক। মোট ১৭ জনকে এমফিল ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের চারজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।