০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেনী পশুরাম -ফুলগাজীতে রেলপথ আবার চালু করা সময়ের দাবী

ফেনী-১ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার সম্পূর্ণ এলাকা এবং ছাগলনাইয়া উপজেলার আংশিক এলাকা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য দ্বারা উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে পরিবেষ্টিত। প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস এই অঞ্চলে, যাদের প্রতিদিনের নানা প্রয়োজনে ফেনী জেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়।
১৯২৯ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ‘ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইন’ স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফেনী এবং ভারতের ত্রিপুরার বিলোনিয়া শহরের মধ্যে রেলযোগাযোগ চালু করে। এই রেললাইনটি এক সময় এ অঞ্চলের মানুষের জন্য জেলা শহর এবং সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান এবং কার্যকর মাধ্যম ছিল। মূলত, ফেনী-বিলোনিয়া রেল লাইনের জন্যেই ফেনী রেলস্টেশনের নাম ফেনী জংশন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে ১৯৯৭ সালের ১৭ই আগস্ট তৎকালীন সরকার এই রেল যোগাযোগটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এর পর কেবল একটি সড়কপথই যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে চালু থাকে। বিগত
আওয়ামী লীগ সরকার উদ্যোগ নিলে কোন আলোর মুখ দেখা যায়নি।
শুরুর দিকে এই রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক লোকাল বাস চালু ছিল। বর্তমানে এই ২০ কিলোমিটার পথে লোকাল বাস প্রায় নেই বললেই চলে। এক দশক ধরে স্থানীয় কিছু নেতার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিএনজি চালিত অটোরিকশা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন কলা কৌশলের মাধ্যমে বাসের সংখ্যা কমিয়ে দিতে বাধ্য করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বাড়িয়েছে এবং ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে। এতে করে মাত্র ২০ কিলোমিটার পথের ভাড়া এখন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এই ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই সিন্ডিকেট নতুন কোনো বাস নামার ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যাতে করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য বজায় থাকে। অথচ ফেনী জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এসএস/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

আপিল শুনানির অষ্টম দিনে ৪৫ আবেদন মঞ্জুর করল ইসি

ফেনী পশুরাম -ফুলগাজীতে রেলপথ আবার চালু করা সময়ের দাবী

আপডেট সময় : ০৭:৪০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

ফেনী-১ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার সম্পূর্ণ এলাকা এবং ছাগলনাইয়া উপজেলার আংশিক এলাকা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য দ্বারা উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে পরিবেষ্টিত। প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস এই অঞ্চলে, যাদের প্রতিদিনের নানা প্রয়োজনে ফেনী জেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়।
১৯২৯ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ‘ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইন’ স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফেনী এবং ভারতের ত্রিপুরার বিলোনিয়া শহরের মধ্যে রেলযোগাযোগ চালু করে। এই রেললাইনটি এক সময় এ অঞ্চলের মানুষের জন্য জেলা শহর এবং সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান এবং কার্যকর মাধ্যম ছিল। মূলত, ফেনী-বিলোনিয়া রেল লাইনের জন্যেই ফেনী রেলস্টেশনের নাম ফেনী জংশন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে ১৯৯৭ সালের ১৭ই আগস্ট তৎকালীন সরকার এই রেল যোগাযোগটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এর পর কেবল একটি সড়কপথই যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে চালু থাকে। বিগত
আওয়ামী লীগ সরকার উদ্যোগ নিলে কোন আলোর মুখ দেখা যায়নি।
শুরুর দিকে এই রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক লোকাল বাস চালু ছিল। বর্তমানে এই ২০ কিলোমিটার পথে লোকাল বাস প্রায় নেই বললেই চলে। এক দশক ধরে স্থানীয় কিছু নেতার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিএনজি চালিত অটোরিকশা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন কলা কৌশলের মাধ্যমে বাসের সংখ্যা কমিয়ে দিতে বাধ্য করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বাড়িয়েছে এবং ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে। এতে করে মাত্র ২০ কিলোমিটার পথের ভাড়া এখন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এই ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই সিন্ডিকেট নতুন কোনো বাস নামার ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যাতে করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য বজায় থাকে। অথচ ফেনী জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এসএস/সবা