ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। বাকি দুটি আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ শেষে রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রামে বিএনপির এই বিশাল বিজয়ে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো—জয়ী ১৪ প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনই নতুন মুখ। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তারা রাজনীতির মাঠে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছেন।
নতুন মুখ হিসেবে যারা এবার সংসদে যাচ্ছেন তারা হলেন—
চট্টগ্রাম–১ (মীরসরাই) আসনে নুরুল আমিন,
চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনে সরোয়ার আলমগীর,
চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে মো. আসলাম চৌধুরী,
চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী) আসনে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন,
চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে হুমাম কাদের চৌধুরী,
চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী–চান্দগাঁও) আসনে এরশাদ উল্লাহ,
চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী) আসনে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান,
চট্টগ্রাম–১০ আসনে সাঈদ আল নোমান,
চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) আসনে এনামুল হক এনাম এবং
চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ) আসনে জসীম উদ্দিন আহমদ।
নবীনদের পাশাপাশি প্রবীণ ও হেভিওয়েট প্রার্থীরাও তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে টানা চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আগে তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম–৩) আসনে মোস্তফা কামাল পাশাও টানা চতুর্থবারের মতো ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী হয়েছেন। রাউজান (চট্টগ্রাম–৬) আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আনোয়ারা–কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম–১৩) আসনে সরওয়ার জামাল নিজামও তাদের ধারাবাহিক বিজয় ধরে রেখেছেন।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জেলার ১০টি আসনের এবং বিভাগীয় কমিশনার মো. জাউদ্দীন নগরীর ৫টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন। এছাড়া আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন চৌধুরী চট্টগ্রাম–১১ আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল সংক্ষেপে:
চট্টগ্রাম–১ (মীরসরাই):
বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন (ধানের শীষ) ১,২৮,৭৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ছাইফুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮৪,৫৩৮ ভোট।
চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি):
বিএনপির সরোয়ার আলমগীর ১,৩৮,৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ নুরুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৬২,১৬০ ভোট।
চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ):
বিএনপি প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা পোস্টাল ভোটসহ ৭৩,০৩৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর আলাউদ্দিন সিকদার পেয়েছেন ৩৯,৬৬২ ভোট।
চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড):
মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ) ১,৪২,৬৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার ছাদ্দিকী পেয়েছেন ৮৯,২৬৮ ভোট।
চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী):
ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (ধানের শীষ) ১,১৬,৪৪০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। খেলাফত মজলিসের মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন মুনির (রিকশা) পেয়েছেন ৩২,৭০৮ ভোট।
চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান):
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১,১১,২০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী (মোমবাতি) পেয়েছেন ২৬,৬৯৭ ভোট।
চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া):
হুমাম কাদের চৌধুরী ১,০১,৪৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর ডা. এটিএম রজাউল করিম পেয়েছেন ৪১,৭১৯ ভোট।
চট্টগ্রাম–৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী):
এরশাদ উল্লাহ (ধানের শীষ) ৭৯,২০৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। জামায়াতের ডা. আবু নাসের পেয়েছেন ৩৪,৭৪৭ ভোট।
চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী):
মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান (ধানের শীষ) ১,০৯,৩৮৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর ডা. একেএম ফজলুল হক পেয়েছেন ৫৩,৪০৭ ভোট।
চট্টগ্রাম–১০ (ডবলমুরিং–পাহাড়তলী):
সাঈদ আল নোমান (ধানের শীষ) ১,২১,৩৬৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হোলালী পেয়েছেন ৭৪,৪০৭ ভোট।
চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা):
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (ধানের শীষ) ১,১৫,০২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের মোহাম্মদ শফিউল আলম পেয়েছেন ৭৩,৭৫২ ভোট।
চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া):
এনামুল হক এনাম ১,৩৫,০৪৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়েছেন ২৮,৯৯৯ ভোট।
চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী):
সরওয়ার জামাল নিজাম ১,২৬,১৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান পেয়েছেন ৫১,৪৫০ ভোট।
চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ):
জসীম উদ্দিন আহমদ ৭৬,৪৯৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এলডিপির অধ্যাপক ওমর ফারুক (ছাতা) ৭৫,৪৬৭ ভোট পেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরাজিত হন।
চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া):
জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা) ১,৮১,২৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন পেয়েছেন ১,৩০,৬৬১ ভোট।
চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী):
জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা জহিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) ৯৩,১৬৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা পেয়েছেন ৮৩,১০৫ ভোট।
শু/সবা

























