8:43 am, Monday, 25 May 2026

অনলাইনে মিলবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার ই-ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ‘ই-লোন’ বা ই-ঋণ সেবা চালুর নির্দেশনা দিয়েছে। এর ফলে গ্রাহকরা ব্যাংকে না গিয়েই মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঋণের আবেদন, অনুমোদন ও অর্থ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবাকে আরও দ্রুত, সহজ ও গ্রাহকবান্ধব করতে ব্যাংকগুলোকে ই-লোন কার্যক্রম চালু করতে হবে।

নতুন এ ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস। ই-ঋণের সুদহার ব্যাংক বাজারভিত্তিক নির্ধারণ করবে। তবে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৯ শতাংশ।

ঋণ বিতরণ, কিস্তি পরিশোধ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রাহকের আবেদন যাচাইয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক তথ্য ও অন্যান্য ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের Credit Information Bureau (সিআইবি) প্রতিবেদন পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এ সুবিধা পাবেন না।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, সুদ, ফি, চার্জ, বিলম্ব মাশুল বা আগাম ঋণ পরিশোধ ফিসহ সব তথ্য গ্রাহককে আগেই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে না।

সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ), মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) এবং ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবস্থার ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া ই-লোন চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে নিজস্ব নীতিমালা তৈরি করে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিশ্চিত করার পরই এ সেবা চালু করতে পারবে ব্যাংকগুলো।

ব্যাংকারদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও খুচরা ঋণ বিতরণ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর গ্রাহকরা দ্রুত ঋণ সুবিধা পাবেন।

শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

thirteen − nine =

About Author Information

Popular Post

রামিসা হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি ১ জুন

অনলাইনে মিলবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার ই-ঋণ

Update Time : ০৫:২০:৪৪ pm, Monday, ১১ মে ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ‘ই-লোন’ বা ই-ঋণ সেবা চালুর নির্দেশনা দিয়েছে। এর ফলে গ্রাহকরা ব্যাংকে না গিয়েই মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঋণের আবেদন, অনুমোদন ও অর্থ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবাকে আরও দ্রুত, সহজ ও গ্রাহকবান্ধব করতে ব্যাংকগুলোকে ই-লোন কার্যক্রম চালু করতে হবে।

নতুন এ ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস। ই-ঋণের সুদহার ব্যাংক বাজারভিত্তিক নির্ধারণ করবে। তবে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৯ শতাংশ।

ঋণ বিতরণ, কিস্তি পরিশোধ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রাহকের আবেদন যাচাইয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক তথ্য ও অন্যান্য ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের Credit Information Bureau (সিআইবি) প্রতিবেদন পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এ সুবিধা পাবেন না।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, সুদ, ফি, চার্জ, বিলম্ব মাশুল বা আগাম ঋণ পরিশোধ ফিসহ সব তথ্য গ্রাহককে আগেই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে না।

সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ), মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) এবং ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবস্থার ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া ই-লোন চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে নিজস্ব নীতিমালা তৈরি করে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিশ্চিত করার পরই এ সেবা চালু করতে পারবে ব্যাংকগুলো।

ব্যাংকারদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও খুচরা ঋণ বিতরণ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর গ্রাহকরা দ্রুত ঋণ সুবিধা পাবেন।

শু/সবা