7:50 pm, Thursday, 4 June 2026

আগামী বছর থেকে ত্রৈমাসিক ভ্যাট রিটার্ন, অটোমেটেড ব্যবস্থায় স্বস্তি পাবে ব্যবসায়ীরা

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন ব্যবস্থায় মাসিক ভ্যাট রিটার্নের পরিবর্তে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি তিন মাস পরপর (ত্রৈমাসিক) রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া পুরোপুরি অটোমেটেড করা হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীদের কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এমনকি অডিটের আওতায় এলেও প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমেই যাচাই করা যাবে।

এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রতি মাসে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে এবং ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে ত্রৈমাসিক রিটার্ন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আগের মাসের রিটার্ন জমা দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানা ও সুদের বিধান রয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বছরে ১২ বারের পরিবর্তে মাত্র ৪ বার রিটার্ন জমা দিতে হবে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল যে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতি মাসে হিসাব সংরক্ষণ, রিটার্ন প্রস্তুত এবং জমা দেওয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। নতুন ব্যবস্থা তাদের প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যয় কমাবে বলে মনে করছে এনবিআর।

এনবিআরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার ভ্যাট নিবন্ধিত (বিআইএনধারী) প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়ায় এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগামী অর্থবছরে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমান ভ্যাট আইনে নিবন্ধিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে অনলাইনে মূসক-৯.১ ফরমে রিটার্ন দাখিল করতে হয়। এতে বিক্রয়, ক্রয়, করযোগ্য সরবরাহ, আমদানি, প্রদেয় ভ্যাট, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটসহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হয়। পাশাপাশি ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাব, মূসক চালান ও স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণও বাধ্যতামূলক।

এদিকে আগামী অর্থবছর থেকে ভ্যাট অডিট ব্যবস্থাও সহজ করা হচ্ছে। ভ্যাটের ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং) সফটওয়্যারের মাধ্যমে হিসাব সংরক্ষণ করলে প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ সুবিধা পাবে। ফলে আগের মতো ম্যানুয়াল অডিটের পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অডিট কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই উদ্যোগ ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করে তুলবে এবং অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনতে সহায়তা করবে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

sixteen − 4 =

About Author Information

আগের দামেই ফিরল নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম

আগামী বছর থেকে ত্রৈমাসিক ভ্যাট রিটার্ন, অটোমেটেড ব্যবস্থায় স্বস্তি পাবে ব্যবসায়ীরা

Update Time : ০৫:৩৯:২৬ pm, Thursday, ৪ জুন ২০২৬

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন ব্যবস্থায় মাসিক ভ্যাট রিটার্নের পরিবর্তে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি তিন মাস পরপর (ত্রৈমাসিক) রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া পুরোপুরি অটোমেটেড করা হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীদের কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এমনকি অডিটের আওতায় এলেও প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমেই যাচাই করা যাবে।

এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রতি মাসে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে এবং ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে ত্রৈমাসিক রিটার্ন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আগের মাসের রিটার্ন জমা দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানা ও সুদের বিধান রয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বছরে ১২ বারের পরিবর্তে মাত্র ৪ বার রিটার্ন জমা দিতে হবে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল যে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতি মাসে হিসাব সংরক্ষণ, রিটার্ন প্রস্তুত এবং জমা দেওয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। নতুন ব্যবস্থা তাদের প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যয় কমাবে বলে মনে করছে এনবিআর।

এনবিআরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার ভ্যাট নিবন্ধিত (বিআইএনধারী) প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়ায় এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগামী অর্থবছরে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমান ভ্যাট আইনে নিবন্ধিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে অনলাইনে মূসক-৯.১ ফরমে রিটার্ন দাখিল করতে হয়। এতে বিক্রয়, ক্রয়, করযোগ্য সরবরাহ, আমদানি, প্রদেয় ভ্যাট, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটসহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হয়। পাশাপাশি ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাব, মূসক চালান ও স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণও বাধ্যতামূলক।

এদিকে আগামী অর্থবছর থেকে ভ্যাট অডিট ব্যবস্থাও সহজ করা হচ্ছে। ভ্যাটের ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং) সফটওয়্যারের মাধ্যমে হিসাব সংরক্ষণ করলে প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ সুবিধা পাবে। ফলে আগের মতো ম্যানুয়াল অডিটের পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অডিট কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই উদ্যোগ ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করে তুলবে এবং অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনতে সহায়তা করবে।

শু/সবা