3:19 am, Thursday, 9 July 2026

পাকিস্তানের বাণিজ্য ঘাটতি চার বছরের সর্বোচ্চ, বেড়ে ৩৯.৪৭ বিলিয়ন ডলার

২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাকিস্তানের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৩৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ তথ্য প্রকাশ করেছে পাকিস্তান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (পিবিএস)।

স্থানীয় ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান টপলাইন সিকিউরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, এটি গত চার বছরের মধ্যে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি।

পিবিএসের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জুন মাসে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৭ শতাংশের বেশি এবং মে মাসের তুলনায় প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাকিস্তানের মোট আমদানি ব্যয় প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ৬৯ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে রপ্তানি আয় প্রায় ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে।

শুধু জুন মাসেই আমদানি ২৬ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও একই সময়ে রপ্তানি আয় ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

একেডি সিকিউরিটিজের গবেষণা পরিচালক মুহাম্মদ আওয়াইস আশরাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকিস্তানের আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে পরিবহন ও বিমা খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় গাড়ি, শিল্পযন্ত্র এবং অন্যান্য মূলধনী পণ্যের আমদানি বেড়েছে। একই সঙ্গে নীতি সুদের হার ২২ শতাংশ থেকে কমে ১১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসাও আমদানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া তুলা উৎপাদন কমে যাওয়ায় তুলা আমদানিও বাড়াতে হয়েছে।

রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে আশরাফ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভারতের কম দামে চাল রপ্তানির বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব কারণে পাকিস্তানের চাল, সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের রপ্তানি কমেছে। পাশাপাশি আফগানিস্তান ও ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ থাকায় এই দুই দেশে রপ্তানিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

6 − 2 =

About Author Information

Popular Post

সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় যুবদলের ৩০০ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: যুবদল সভাপতি

পাকিস্তানের বাণিজ্য ঘাটতি চার বছরের সর্বোচ্চ, বেড়ে ৩৯.৪৭ বিলিয়ন ডলার

Update Time : ০৫:২৩:২২ pm, Friday, ৩ জুলাই ২০২৬

২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাকিস্তানের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৩৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ তথ্য প্রকাশ করেছে পাকিস্তান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (পিবিএস)।

স্থানীয় ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান টপলাইন সিকিউরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, এটি গত চার বছরের মধ্যে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি।

পিবিএসের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জুন মাসে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৭ শতাংশের বেশি এবং মে মাসের তুলনায় প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাকিস্তানের মোট আমদানি ব্যয় প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ৬৯ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে রপ্তানি আয় প্রায় ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে।

শুধু জুন মাসেই আমদানি ২৬ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও একই সময়ে রপ্তানি আয় ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

একেডি সিকিউরিটিজের গবেষণা পরিচালক মুহাম্মদ আওয়াইস আশরাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকিস্তানের আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে পরিবহন ও বিমা খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় গাড়ি, শিল্পযন্ত্র এবং অন্যান্য মূলধনী পণ্যের আমদানি বেড়েছে। একই সঙ্গে নীতি সুদের হার ২২ শতাংশ থেকে কমে ১১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসাও আমদানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া তুলা উৎপাদন কমে যাওয়ায় তুলা আমদানিও বাড়াতে হয়েছে।

রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে আশরাফ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভারতের কম দামে চাল রপ্তানির বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব কারণে পাকিস্তানের চাল, সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের রপ্তানি কমেছে। পাশাপাশি আফগানিস্তান ও ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ থাকায় এই দুই দেশে রপ্তানিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।